ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের কুমিল্লা অংশের সিএনজি ফিলিং স্টেশনগুলোতে গ্যাস সরবরাহ প্রায় পুরোপুরি বন্ধ থাকায় তৈরি হয়েছে এক নজিরবিহীন সংকট। কাভার্ডভ্যান, ভারী ট্রাক, লরি থেকে শুরু করে আঞ্চলিক রুটের বাস ও সিএনজিচালিত অটোরিকশা সবই গ্যাসের জন্য লাইনে দাঁড়িয়ে প্রহর গুনেছে।
বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত চৌদ্দগ্রাম থেকে পদুয়ার বাজার পর্যন্ত সরজমিনে ঘুরে দেখা গেছে, ফিলিং স্টেশনগুলোর গ্যাস পাম্পের মুখে কোনো চাপ নেই। ফলে ঘণ্টার পর ঘণ্টা, এমনকি ১২ থেকে ১৫ ঘণ্টা পর্যন্ত লাইনে দাঁড়িয়েও চালকেরা কাঙ্ক্ষিত জ্বালানি পাচ্ছেন না।
গতকাল বুধবার দুপুরে গাজীপুর থেকে গার্মেন্টস পণ্যবোঝাই করে চট্টগ্রাম বন্দরের উদ্দেশ্যে রওয়ানা হন কাভার্ডভ্যান চালক জয়নাল আবেদীন। রাতের বেলা কুমিল্লার অংশে প্রবেশ করলে তাঁর গাড়ির গ্যাস শেষ হয়ে যায়। গ্যাস নেওয়ার জন্য তিনি কুমিল্লার সদর দক্ষিণ উপজেলার এডভান্স সিএনজি ফিলিং স্টেশনে প্রবেশ করেন। আজ দুপুর গড়িয়ে গেলেও তিনি গ্যাস পাননি।
জয়নাল আবেদীন বলেন, বুধবার রাত ২টা থেকে গ্যাসের জন্য পাম্পে দাঁড়িয়ে আছি, এখন দুপুর গড়াচ্ছে, গ্যাস পাইনি। সময়মতো বন্দরে পণ্য পৌঁছাতে না পারলে শিপমেন্ট বাতিল হয়ে যেতে পারে বলেও তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন।
সরেজমিনে দেখা যায়, মহাসড়কের দুই লেনের পাশে থাকা সিএনজি ফিলিং স্টেশনগুলোতে শত শত পণ্যবোঝাই কাভার্ডভ্যান, ট্রাক, লরি ও আঞ্চলিক গণপরিবহন গ্যাসের জন্য অপেক্ষা করছে। কোনো স্টেশনেই গ্যাস না পাওয়ায় গাড়ির লাইন আরও দীর্ঘ হচ্ছে।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, এই সংকটের সূত্রপাত জাতীয় গ্রিডে তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) সরবরাহ কমে যাওয়ার কারণে। সমুদ্রে বৈরী আবহাওয়ার কারণে ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল থেকে গ্যাস খালাস ও সরবরাহ ব্যাহত হচ্ছে। জাতীয় গ্রিডে যেখানে দৈনিক গড়ে এক হাজার ইউনিট এলএনজি সরবরাহ করা হতো, তা বর্তমানে কমে প্রায় ৫০০ ইউনিটে নেমে এসেছে।
বাখরাবাদ গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেড (বিজিডিসিএল) এক জরুরি বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে, সরবরাহ অস্বাভাবিক কমে যাওয়ায় কুমিল্লা, ফেনী, নোয়াখালী ও চাঁদপুর অঞ্চলে গ্যাসের চাপ প্রায় শূন্যের কোঠায় নেমেছে।
বিজিডিসিএল সূত্রে জানা গেছে , বৈরী আবহাওয়ার কারণে এই সাময়িক পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। জাতীয় পর্যায় থেকে গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত স্থানীয়ভাবে এই সংকট সমাধান করা সম্ভব নয় এবং পরিস্থিতি কখন পুরোপুরি স্বাভাবিক হবে তা সুনির্দিষ্ট করে বলা যাচ্ছে না।
গ্যাস সংকটের প্রভাব পড়েছে আঞ্চলিক গণপরিবহনেও। ফেনী ও কুমিল্লার আঞ্চলিক সড়কের অধিকাংশ গণপরিবহন বন্ধ হয়ে যাওয়ায় দুই জেলার যাত্রীদের দুর্ভোগ বেড়েছে। বিশেষ করে অফিসগামী কর্মকর্তা, কলেজপড়ুয়া শিক্ষার্থী এবং চিকিৎসাসেবা নিতে যাওয়া রোগীদের ভোগান্তি বেশি হচ্ছে।
অন্যদিকে যে কয়েকটি গণপরিবহন বা বিকল্প যান চলছে, তারা সাধারণ যাত্রীদের কাছ থেকে ২০ থেকে ৩০ শতাংশ পর্যন্ত অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
সূত্র: ইনকিলাব