নুর উদ্দিন, সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি: আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত রামসার সাইট ও প্রতিবেশগত সংকটাপন্ন এলাকা (ইসিএ) টাঙ্গুয়ার হাওরের পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য রক্ষায় অভিযান চালিয়ে ৮টি ইঞ্জিনচালিত ট্রলারের চালককে জরিমানা করেছে সুনামগঞ্জ জেলা প্রশাসন ও পরিবেশ অধিদপ্তর। সংরক্ষিত এলাকায় অবৈধভাবে প্রবেশ করে পরিবেশ দূষণের অপরাধে তাদের কাছ থেকে মোট ৭ হাজার ৫৫০ টাকা অর্থদণ্ড আদায় করা হয়।
বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) তাহিরপুর উপজেলার টাঙ্গুয়ার হাওরের ইসিএভুক্ত এলাকায় এ মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হয়।
অভিযান সূত্রে জানা যায়, বাংলাদেশ পরিবেশ সংরক্ষণ আইন, ১৯৯৫ (সংশোধিত-২০১০)-এর ৫ ধারা লঙ্ঘন করে ইসিএভুক্ত সংরক্ষিত এলাকায় ইঞ্জিনচালিত নৌযান নিয়ে প্রবেশ এবং পরিবেশ দূষণের অভিযোগে ৮টি ট্রলারের চালকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়। মোবাইল কোর্টে তাদের বিভিন্ন অঙ্কে মোট ৭ হাজার ৫৫০ টাকা জরিমানা করা হয় এবং তাৎক্ষণিকভাবে অর্থদণ্ড আদায় করা হয়।
মোবাইল কোর্টে নেতৃত্ব দেন সুনামগঞ্জ জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. সাব্বির হোসেন শাওন। প্রসিকিউশন পরিচালনা করেন পরিবেশ অধিদপ্তর, সুনামগঞ্জ জেলা কার্যালয়ের পরিদর্শক মো. সাইফুল ইসলাম। অভিযানে তাহিরপুর থানা পুলিশ ও বাংলাদেশ আনসারের সদস্যরা সার্বিক সহযোগিতা করেন।
অভিযানকালে শুধু জরিমানা নয়, টাঙ্গুয়ার হাওরের পরিবেশ রক্ষায় সচেতনতামূলক কার্যক্রমও পরিচালনা করা হয়। হাওরে ভ্রমণকারী হাউজবোট ও পর্যটকদের মধ্যে পরিবেশ সংরক্ষণবিষয়ক লিফলেট বিতরণ করা হয়। একই সঙ্গে স্থানীয় বাসিন্দাদের ইসিএ এলাকায় ইঞ্জিনচালিত নৌযান চলাচলের ওপর আরোপিত বিধিনিষেধ সম্পর্কে অবহিত করা হয়।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, টাঙ্গুয়ার হাওরের জলজ ও স্থলজ জীববৈচিত্র্য রক্ষায় ইসিএ এলাকার বিধিনিষেধ কার্যকর করা জরুরি। বিশেষ করে ইঞ্জিনচালিত নৌযানের চলাচল, শব্দদূষণ ও পর্যটনকেন্দ্রিক নানা কর্মকাণ্ড হাওরের স্বাভাবিক পরিবেশের ওপর বিরূপ প্রভাব ফেলতে পারে। এ কারণে নিয়মিত নজরদারি ও আইন প্রয়োগের পাশাপাশি পর্যটক, নৌযান মালিক-চালক ও স্থানীয় বাসিন্দাদের সচেতন করাও গুরুত্বপূর্ণ।
জেলা প্রশাসন ও পরিবেশ অধিদপ্তর জানিয়েছে, টাঙ্গুয়ার হাওরের পরিবেশ, জীববৈচিত্র্য ও প্রাকৃতিক সম্পদ রক্ষায় জনস্বার্থে এ ধরনের মোবাইল কোর্ট ও সচেতনতামূলক কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।
উল্লেখ্য, সুনামগঞ্জের তাহিরপুর ও ধর্মপাশা উপজেলার বিস্তীর্ণ এলাকা নিয়ে গড়ে ওঠা টাঙ্গুয়ার হাওর দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ মিঠাপানির জলাভূমি। জীববৈচিত্র্যের গুরুত্ব বিবেচনায় এটি আন্তর্জাতিক রামসার সাইট হিসেবে স্বীকৃত এবং একই সঙ্গে প্রতিবেশগত সংকটাপন্ন এলাকা (ইসিএ)। ফলে হাওরের পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণে নির্ধারিত বিধিনিষেধ মেনে চলার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।