সরওয়ার আজম মানিক, কক্সবাজার : কক্সবাজারের বিদ্যুতের সার্বিক পরিস্থিতি স্বাভাবিক হতে শুরু করলেও গ্যাসের সংকট রয়েছে। গ্যাসের কারণে সড়কে যানবাহনের সংখ্যা ও কমে গেছে।
তবে পল্লী বিদ্যুৎ অফিস সহ বিদ্যুৎ অফিস গুলো নিরাপদে রয়েছে। কোন সমস্যা নেই বলে জানিয়েছে পল্লী বিদ্যুৎ অফিস।
বিদ্যুৎ বিভাগ বলছে তারা চেষ্টা করছে লোডশেডিং না দেওয়ার জন্য। গত দুইদিন থেকে মহেশখালী উপজেলার মাতারবাড়ি ইউনিয়নের নতুন বাজার এলাকার ব্যবসায়ী হাফেজ ইমরানুল হক বলেন, মাতার বাড়িতে বিদ্যুৎ তৈরি হচ্ছে, কিন্তু সেই বিদ্যুৎ আমরা পাচ্ছি না। এখানেও লোডসেটিং দেওয়া হচ্ছে, শান্তি পাচ্ছি না এখানে। বিদ্যুত তৈরি হচ্ছে আমাদের এলাকা থেকে, কিন্তু এখানেই অন্ধকার। কমে গেছে বলে জানিয়েছে বিদ্যুৎ বিভাগ। তবে গ্যাসের সংকট রয়েছে। কক্সবাজারে কোন লাইনের গ্যাস না থাকলেও পাম্প গুলোতে যানবাহনের গেস সরবরাহ করা হয়। সেখানে সংকট রয়েছে বলে জানা গেছে। কক্সবাজার মাইক্রোবাস মালিক সমিতির সভাপতি বাপ্পি আহমদ জানান, দেশ সংকটের কারণে যানবাহনের সংখ্যা কমে গেছে রাস্তায়। অনেক যানবাহন গ্যাস সংকটের কারণে ভাড়া নিতে পারছে না। মালিকরা গ্যারেজে গাড়ি বসিয়ে রেখেছেন।
কক্সবাজার পল্লী বিদ্যুৎ অফিসের সিনিয়র জেনারেল ম্যানেজার মোঃ সরওয়ার জাহান বলেন, এই মুহূর্তে পল্লী বিদ্যুতে আমাদের চাহিদা রয়েছে ১৪০ মেগাওয়াট, চাহিদা মত বিদ্যুৎ পাচ্ছি। তিনি বলেন, সারাদেশের পল্লী বিদ্যুতের নানা সংকট নিয়ে বুধবার মিটিং হয়েছে। বৃহস্পতিবার থেকে পল্লী বিদ্যুৎ এর সরবরাহ স্বাভাবিক রয়েছে। কক্সবাজার নিরাপত্তার কোন ঘাটতি নেই বলেও জানিয়েছেন তিনি। সবকিছু স্বাভাবিক রয়েছে বলে জানিয়ে পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির সিনিয়র জেনারেল ম্যানেজার বলেন কক্সবাজারে কোন সমস্যা নেই। নিরাপত্তা সহ সব কিছু ঠিক রয়েছে। শুক্রবার থেকে বিদ্যুতের আর কোন সংকট থাকবে না বলেও জানান তিনি।
বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড কক্সবাজারের নির্বাহী প্রকৌশলী আব্দুল কাদের গনি বলেন, আমরা চেষ্টা করছি পর্যটন শহরকে নির্বিচ্ছিন্ন বিদ্যুতের মধ্যে রাখার জন্য। কক্সবাজার শহরে চাহিদা রয়েছে ৩৫থেকে৪০ মেগাওয়াট বিদ্যুতের সেখানে আমরা পাচ্ছি ৩০ মেগাওয়াট লোডশেডিং। পর্যটন শহর হওয়ার কারণে, আমরা সব সময় বিদ্যুৎ সচল রাখার চেষ্টা করে থাকি। কিন্তু যখন জাতীয়ভাবে আমাদেরকে লোড দেওয়া হয় ,তখন আসলে করার কিছু থাকে না।
কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক মোঃ আব্দুল মান্নান জানিয়েছেন, কক্সবাজারের বিদ্যুতের সমস্যার বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশে তিনি নিজেই তদারকি করছেন। বিদ্যুতের সংকট গ্রাম পর্যায়ে স্বাভাবিক রয়েছে জানিয়ে গ্যাস সংকট ও কেটে যাবে বলে আশা প্রকাশ করেন জেলা প্রশাসক।