স্পোর্টস ডেস্ক : ম্যাচ চলাকালে মাঠে লুটিয়ে পড়ে মৃত্যুর পর নাইজেরিয়ান ফুটবলার চিনেদু ওজোর ‘জেগে ওঠার’ খবর ছড়িয়ে পড়েছিল। তবে শেষ পর্যন্ত তার ক্লাব কাতসিনা ইউনাইটেড জানিয়েছে, এ ধরনের খবরের কোনো সত্যতা নেই। ২৭ বছর বয়সী এই ফুটবলার সত্যিই মারা গেছেন। ---- এনডিটিভি/ চ্যানেল২৪
নাইজেরিয়ার শীর্ষ ফুটবল লিগের দল কাতসিনা ইউনাইটেডের হয়ে খেলতেন ওজোর। প্রাক-মৌসুমের এক প্রীতি ম্যাচে নাইজার টর্নেডোসের বিপক্ষে খেলতে গিয়ে হঠাৎ মাঠে লুটিয়ে পড়েন তিনি। পরে চিকিৎসকেরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন। এরপর বিভিন্ন প্রতিবেদনে দাবি করা হয়, মর্গে থাকা অবস্থায় ওজো হাত নেড়েছেন। এ ঘটনায় তাকে দ্রুত নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) নেয়া হয় এবং চিকিৎসকেরা তাকে বাঁচানোর চেষ্টা করেন বলেও খবর ছড়িয়ে পড়ে।
ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম ‘দ্য সান’-এর প্রতিবেদনে বলা হয়, মাঠে পড়ে যাওয়ার পর চিকিৎসকেরা ওজোকে মৃত ঘোষণা করেছিলেন। কিন্তু মর্গে তার হাত নড়তে দেখা যাওয়ার পর তাকে হাসপাতালে নেয়া হয় বলে দাবি করা হয়।
স্পেনের সংবাদমাধ্যম ‘মুন্দো দেপোর্তিভো’ জানিয়েছিল, ওজোর সাবেক ক্লাব হার্টল্যান্ডও তার সুস্থ হয়ে ওঠার বিষয়ে একটি বিবৃতি দিয়েছিল। সেখানে নির্ভরযোগ্য সূত্রের বরাত দিয়ে দাবি করা হয়, নড়াচড়ার লক্ষণ দেখা যাওয়ার পর ওজোকে মর্গ থেকে হাসপাতালে নেয়া হয়েছে এবং তাকে অক্সিজেন দেয়া হচ্ছে। তবে পরবর্তী সময়ে নাইজেরিয়ার একাধিক সংবাদমাধ্যম জানায়, ওজোর ‘অলৌকিকভাবে ফিরে আসার’ খবরটি সত্য নয়। তার ক্লাব কাতসিনা ইউনাইটেডও বিষয়টি নিশ্চিত করে।
নাইজেরিয়ার সংবাদমাধ্যম ‘ডেইলি ট্রাস্ট’-এর বরাতে কাতসিনা ইউনাইটেড জানায়, ঘটনার পর চিনেদু ওজোর মৃত্যু হয়েছে। পরে তিনি জ্ঞান ফিরে পেয়েছেন বা ‘জীবনে ফিরে এসেছেন’—এমন দাবিগুলো সঠিক নয় এবং তা প্রত্যাখ্যান করা উচিত।
ক্যারিয়ারে নাইজেরিয়া প্রিমিয়ার ফুটবল লিগে ১৯০টি ম্যাচ খেলেছেন ওজো। মূলত রাইট-ব্যাক হিসেবে খেললেও প্রয়োজনে সেন্টার-ব্যাক পজিশনেও দায়িত্ব পালন করতেন তিনি। তবে নাইজেরিয়ার জাতীয় দলের হয়ে কখনো মাঠে নামার সুযোগ হয়নি তার।
ওজোর মৃত্যুর ঘটনায় নাইজেরিয়ার ফুটবল অঙ্গনে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। একই সঙ্গে তার ‘মৃত্যুর পর জেগে ওঠার’ খবরটি কীভাবে ছড়িয়ে পড়েছিল, তা নিয়েও তৈরি হয়েছে বিভ্রান্তি।