বিজ্ঞানী হিসেবে কর্মজীবন শুরু করেছিলেন। তবে স্বপ্ন ছিল দেশের প্রশাসন ও কূটনীতির গুরুত্বপূর্ণ পর্যায়ে কাজ করার। সেই লক্ষ্যেই স্থায়ী চাকরি ছেড়ে শুরু করেন সিভিল সার্ভিসের প্রস্তুতি। একবার ব্যর্থ হয়েও থেমে যাননি। কঠোর পরিশ্রমের পর জায়গা করে নেন ভারতীয় ফরেন সার্ভিসে (আইএফএস)। সেই নিধি তেওয়ারিই এখন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ব্যক্তিগত সচিব।
২০১৪ ব্যাচের আইএফএস কর্মকর্তা নিধি তেওয়ারিকে ২০২৫ সালের মার্চে প্রধানমন্ত্রীর ব্যক্তিগত সচিব হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। ভারতের সরকারি গেজেট অনুযায়ী, ২৯ মার্চ ২০২৫ থেকে তার নিয়োগ কার্যকর হয়। নিয়োগটি ‘কো-টার্মিনাস’ ভিত্তিতে বা পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত কার্যকর থাকবে।
এর আগে নিধি তেওয়ারি প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে (পিএমও) ডেপুটি সেক্রেটারি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন। ২০২২ সালের নভেম্বরে তিনি পিএমওতে আন্ডার সেক্রেটারি হিসেবে যোগ দেন। পরে ডেপুটি সেক্রেটারি পদে উন্নীত হন।
উত্তর প্রদেশের লখনউয়ে বেড়ে ওঠা নিধি তেওয়ারি স্কুল ও স্নাতক পর্যায়ের পড়াশোনা শেষ করেন সেখানে। পরে বেনারস হিন্দু বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বায়োকেমিস্ট্রিতে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। একাডেমিক ফলাফলের জন্য তিনি স্বর্ণপদকও অর্জন করেন বলে ভারতীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
পড়াশোনা শেষে ভারতের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পরমাণু গবেষণা প্রতিষ্ঠান ভাভা অ্যাটমিক রিসার্চ সেন্টারে (বার্ক) বিজ্ঞানী হিসেবে যোগ দেন তিনি। তবে গবেষণাগারের পেশা তাকে দীর্ঘদিন ধরে রাখতে পারেনি। প্রশাসন, নীতিনির্ধারণ ও কূটনীতিতে কাজ করার আকাঙ্ক্ষা থেকেই নতুন করে ক্যারিয়ার বদলের সিদ্ধান্ত নেন।
২০০৮ সালে বার্কের চাকরি ছেড়ে ইউপিএসসি সিভিল সার্ভিস পরীক্ষার প্রস্তুতি শুরু করেন নিধি তেওয়ারি।
সিভিল সার্ভিস পরীক্ষার পথ সহজ ছিল না। ২০১২ সালের পরীক্ষায় ওয়েটিং লিস্টে থাকেন তিনি। কিন্তু এতে দমে না গিয়ে আবারও প্রস্তুতি নেন।
শেষ পর্যন্ত ২০১৩ সালের ইউপিএসসি সিভিল সার্ভিস পরীক্ষায় সর্বভারতীয় মেধাতালিকায় ৯৬তম স্থান অর্জন করেন নিধি তেওয়ারি। এই ফলাফলের ভিত্তিতে তিনি ভারতীয় ফরেন সার্ভিসে যোগ দেওয়ার সুযোগ পান এবং ২০১৪ ব্যাচের কর্মকর্তা হিসেবে কূটনৈতিক ক্যারিয়ার শুরু করেন।
আইএফএস কর্মকর্তা হিসেবে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেন নিধি তেওয়ারি। নিরস্ত্রীকরণ, আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা ও পররাষ্ট্রনীতির মতো স্পর্শকাতর বিষয়ে কাজের অভিজ্ঞতা অর্জন করেন তিনি।
পরে পিএমওতে যোগ দেওয়ার পরও পররাষ্ট্র ও আন্তর্জাতিক নিরাপত্তাসংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে কাজ করেন। জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত ডোভালের সঙ্গে নিরাপত্তাসংক্রান্ত বিষয়েও কাজ করার অভিজ্ঞতা রয়েছে তার বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
এই অভিজ্ঞতাই তাকে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বের জন্য উপযুক্ত করে তোলে বলে ধারণা করা হয়।
২০২৫ সালের ২৯ মার্চ নিধি তেওয়ারিকে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ব্যক্তিগত সচিব হিসেবে নিয়োগের অনুমোদন দেয় ভারতের অ্যাপয়েন্টমেন্টস কমিটি অব দ্য ক্যাবিনেট। সরকারি আদেশ অনুযায়ী, লেভেল-১২ পে ম্যাট্রিক্সে তার এই নিয়োগ কার্যকর হয়।
প্রধানমন্ত্রীর ব্যক্তিগত সচিবের দায়িত্ব অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরের দৈনন্দিন কার্যক্রমের সমন্বয়, গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক ও সরকারি কার্যক্রমে সহযোগিতা এবং বিভিন্ন নীতিগত ও প্রশাসনিক বিষয়ে সমন্বয়ের ক্ষেত্রে এ পদে থাকা কর্মকর্তাদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা থাকে।
বিজ্ঞানী হিসেবে ক্যারিয়ার শুরু করে ইউপিএসসির মাধ্যমে কূটনীতিক হওয়া এবং পরে ভারতের প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে পৌঁছানো নিধি তেওয়ারির ক্যারিয়ার তাই প্রশাসনিক ও কূটনৈতিক অঙ্গনে বিশেষভাবে আলোচিত হচ্ছে।