শিরোনাম

প্রকাশিত : ১৪ আগস্ট, ২০২৬, ১২:৪৮ রাত
আপডেট : ২০ আগস্ট, ২০২৬, ১২:০০ রাত

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

বাংলাদেশে নিজেদের গোপন নেটওয়ার্ক গঠনের চেষ্টা করছে আল-কায়েদা: জাতিসংঘের সতর্কর্তা

ইউএনবি: বাংলাদেশে নিজেদের গোপন নেটওয়ার্ক বা 'সেল' গড়ে তুলতে চায় 'ভারত উপমহাদেশীয় আল-কায়দা' (একিউআইএস)। বাংলাদেশকে ব্যবহার করার এই চেষ্টা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদ। 

নিরাপত্তা পরিষদের 'অ্যানালিটিক্যাল সাপোর্ট অ্যান্ড স্যাংশনস মনিটরিং টিম'-এর ৩৮তম প্রতিবেদনে এই উদ্বেগের কথা জানানো হয়। গত ১০ আগস্ট প্রতিবেদনটি প্রকাশ করা হয়। 

২০২৫ সালের নভেম্বরে ভারতের দিল্লিতে লাল কেল্লায় যে হামলা হয়েছিল, সেটির পেছনে একিউআইএস-এর হাত রয়েছে বলে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে। আরও বলা হয়, বাংলাদেশে গোপন আস্তানা ও নেটওয়ার্ক তৈরির জন্য একিউআইএস যেভাবে দেশটিকে ব্যবহার করতে চাইছে, তা বেশ উদ্বেগের। 

আল-কায়েদা ভারত উপমহাদেশ একটি বিক্ষিপ্ত গ্রুপ থেকে এখন একটি আঞ্চলিক সন্ত্রাসী গোষ্ঠীতে রূপ নিচ্ছে উল্লেখ করে প্রতিবেদনে বলা হয়, এর জন্য তারা বিভিন্ন জায়গায় লজিস্টিক এবং অর্থনৈতিক নেটওয়ার্ক গড়ে তুলছে। তারা বড় গ্রুপ হওয়ার বদলে বিকেন্দ্রীভূত ছোট দল ও বিক্ষিপ্ত হয়ে কাজ করছে। 

advertisement

'বিশ্বজুড়ে সন্ত্রাসী হুমকির মাত্রা সার্বিকভাবে প্রায় একই রকম থাকলেও আফ্রিকার সাহেল অঞ্চল এবং দক্ষিণ এশিয়ায় তা আরও বেড়েছে। পাকিস্তান ও আফগানিস্তানের সীমান্তে একের পর এক হামলার কারণে দক্ষিণ এশিয়ায় আঞ্চলিক উত্তেজনা তীব্র আকার ধারণ করে আছে,' বলা হয়েছে প্রতিবেদনে। 

জাতিসংঘের পর্যবেক্ষক দল জানিয়েছে, আফগানিস্তান থেকে উদ্ভূত সন্ত্রাসী হুমকির পরিস্থিতিতে বড় কোনো পরিবর্তন আসেনি। দেশটিতে এখনও বেশ কয়েকটি সন্ত্রাসী গোষ্ঠী সক্রিয় রয়েছে, যা প্রতিবেশী দেশগুলো এবং মধ্য এশিয়ার জন্য দীর্ঘমেয়াদি হুমকি হয়ে আছে।

যদিও তালেবান কর্তৃপক্ষ ইসলামিক স্টেট খোরাসান এবং অন্যান্য সশস্ত্র গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিয়েছে, তবে তারা সন্ত্রাসী হুমকি পুরোপুরি দমন করতে সক্ষম হয়নি।

বিশ্বব্যাপী পরিস্থিতি পর্যালোচনা করতে গিয়ে প্রতিবেদনে সাহেল, সোমালিয়া, ইয়েমেন ও মধ্য আফ্রিকায় আল-কায়েদা এবং ইসলামিক স্টেটের বিভিন্ন শাখা-গোষ্ঠীর কর্মকাণ্ডের কথাও উল্লেখ করা হয়েছে।

সাহেল অঞ্চলে জামা'আত নুসরাতুল ইসলাম ওয়াল মুসলিমিন (জেএনআইএম) মালির সরকারের বিরুদ্ধে হামলা চালিয়েছে। একই সময়ে জেএনআইএম ও ইসলামিক স্টেট ইন দ্য গ্রেটার সাহারার মধ্যে বিরোধ আরও তীব্র হয়েছে।

নিরাপত্তাহীনতার সুযোগ নিয়ে দক্ষিণ ইয়েমেনে আল-কায়েদা ইন দ্য অ্যারাবিয়ান পেনিনসুলা (একিউএপি) তাদের সক্ষমতা আরও বাড়িয়েছে। অন্যদিকে, মধ্য আফ্রিকায় অ্যালাইড ডেমোক্রেটিক ফোর্সেস (এডিএফ) তাদের নিয়ন্ত্রণাধীন এলাকা আরও বিস্তৃত করেছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আল-কায়েদা ও ইসলামিক স্টেটের বিভিন্ন শাখা-গোষ্ঠী অর্থ সংগ্রহ এবং স্থানীয় নিরাপত্তা বাহিনীকে দুর্বল করার উপায় হিসেবে মুক্তিপণের বিনিময়ে অপহরণকে এখনও অগ্রাধিকার দিচ্ছে।

  • সর্বশেষ