মনিরুল ইসলাম : ব্যক্তিতান্ত্রিক ও স্বৈরতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থার ঝুঁকি এড়াতে একজন ব্যক্তির প্রধানমন্ত্রী হিসেবে সর্বোচ্চ ১০ বছর দায়িত্বে থাকার প্রস্তাবে অনড় রয়েছে সরকার। তবে এ বিষয়ে বিরোধী দল আলোচনায় এলে বিভিন্ন প্রস্তাব ও ভিন্নমত নিয়ে সমঝোতার সুযোগ রয়েছে বলে জানিয়েছেন সংবিধান সংশোধনবিষয়ক বিশেষ কমিটির সভাপতি ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।
আজ মঙ্গলবার জাতীয় সংসদে বিশেষ কমিটির চতুর্থ বৈঠক শেষে সংসদের মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন। সালাহউদ্দিন আহমদ জানান, প্রধানমন্ত্রী পদের মেয়াদসীমা নির্ধারণের প্রস্তাব নিয়ে পক্ষে-বিপক্ষে মতামত এসেছে। কেউ কেউ এটিকে অগণতান্ত্রিক বললেও দীর্ঘ সময় একই ব্যক্তির ক্ষমতায় থাকার ঝুঁকি রোধে এই প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী হওয়ার আগেই বিএনপির চেয়ারম্যান হিসেবে বর্তমান প্রধানমন্ত্রী এ প্রস্তাব দিয়েছিলেন এবং তা দলের স্থায়ী কমিটির সিদ্ধান্ত ও নির্বাচনী ইশতেহারের অংশ।
তিনি আরও বলেন, সংসদে বিরোধী দলের পক্ষ থেকে কোনো বিকল্প প্রস্তাব এলে তা নিয়ে আলোচনা করা হবে। সংবিধান সংশোধনের প্রক্রিয়াকে অংশগ্রহণমূলক ও অন্তর্ভুক্তিমূলক করতে সরকার আগ্রহী বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, দ্বিকক্ষবিশিষ্ট সংসদের প্রয়োজনীয়তা, তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থার কাঠামো ও গঠনপ্রক্রিয়া, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা, রাষ্ট্র পরিচালনার মূলনীতি এবং রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর ক্ষমতার ভারসাম্য—এসব বিষয় নিয়ে নতুন করে আলোচনা করার প্রস্তাব এসেছে। এসব মতামত পর্যালোচনা করে সংসদে উপস্থাপনের জন্য একটি গ্রহণযোগ্য সংবিধান সংশোধনী প্রতিবেদন তৈরির উদ্যোগ নিয়েছে বিশেষ কমিটি।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ একক রাষ্ট্র হওয়ায় দ্বিকক্ষ সংসদের প্রয়োজনীয়তা নিয়ে মতভেদ রয়েছে। তবে জুলাই জাতীয় সনদে এ বিষয়ে ঐকমত্য থাকায় সরকার সেই ভিত্তিতে এগোতে চায়। একই সঙ্গে নতুন প্রস্তাব এলে তা সংসদে বিবেচনার সুযোগ থাকবে।
তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থার বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি জানিয়ে তিনি বলেন, এ ব্যবস্থার কাঠামো, সদস্য নির্বাচন পদ্ধতি ও প্রক্রিয়া নিয়ে আরও আলোচনা প্রয়োজন। রাজনৈতিক দল, বিশেষজ্ঞ ও সংশ্লিষ্টদের মতামতের ভিত্তিতে একটি গ্রহণযোগ্য পদ্ধতি নির্ধারণ করা হবে।
জুলাই জাতীয় সনদের বিভিন্ন বিষয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর ভিন্নমত বা ‘নোট অব ডিসেন্ট’ থাকলে তা আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের সুযোগ রয়েছে বলেও জানান সালাহউদ্দিন আহমদ। বিরোধী দলকে বিশেষ কমিটিতে যুক্ত হয়ে মতামত দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
সংবিধান সংশোধন প্রক্রিয়ায় গণমাধ্যম প্রতিনিধি, আইনজীবী, বিচারক, শিক্ষাবিদসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের সঙ্গে পর্যায়ক্রমে বৈঠকের পরিকল্পনা রয়েছে। একই সঙ্গে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও ভুক্তভোগীদের মতামতও নেওয়া হবে।
সব পর্যায়ের আলোচনা শেষে একটি প্রতিবেদন তৈরি করে তা জাতীয় সংসদে উপস্থাপন করা হবে। এরপর সংবিধান সংশোধনী বিল উত্থাপন করে সংসদের ভেতরে ও বাইরে তা নিয়ে বিস্তৃত আলোচনা হবে বলে জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।
বিশেষ কমিটির বৈঠকে চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম মনি, জয়নুল আবেদীন, মো. জোনায়েদ আব্দুর রহিম সাকি, মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন, ফারজানা শারমীনসহ সংশ্লিষ্ট সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।