জমিজমা সংক্রান্ত কাজে অনেক সময় ৩০-৪০ বছর আগের বায়া দলিল বা পুরোনো দলিলের সার্টিফায়েড কপি প্রয়োজন হয়। কিন্তু পুরোনো দলিলের নম্বর, তারিখ, বালাম নম্বর কিংবা পৃষ্ঠা নম্বর জানা না থাকায় অনেকেই মনে করেন দলিলটি আর খুঁজে পাওয়া সম্ভব নয়। তবে এসব তথ্য না থাকলেও নির্দিষ্ট আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করে সংশ্লিষ্ট রেজিস্ট্রি অফিস থেকে পুরোনো দলিলের তথ্য বের করা সম্ভব।
অ্যাডভোকেট মো. আমির হামজা লেমন পুরোনো বায়া দলিলের তথ্য বের করার পদ্ধতি নিয়ে দেওয়া এক আলোচনায় জানান, কোনো দলিল রেজিস্ট্রি হওয়ার পর সংশ্লিষ্ট রেজিস্ট্রি অফিসের বালাম বা ভলিউম বইয়ে তা লিপিবদ্ধ করা হয়। একই সঙ্গে দলিলের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সংরক্ষণ করে সূচিপত্র বা ইনডেক্স তৈরি করা হয়। ফলে মূল দলিলের নম্বর বা পৃষ্ঠার তথ্য জানা না থাকলেও সূচিপত্রের মাধ্যমে দলিলটি শনাক্ত করার সুযোগ থাকে।
পুরোনো দলিল খুঁজতে সূচিপত্র বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। সাধারণত দলিলের দাতা ও গ্রহীতার নামের ভিত্তিতে একটি সূচি তৈরি করা হয়। ফলে দলিলের পক্ষগুলোর নাম জানা থাকলে সেই তথ্য ব্যবহার করে সংশ্লিষ্ট দলিলের নম্বর বা অন্যান্য তথ্য খুঁজে বের করা সম্ভব। এ ছাড়া জমির মৌজার নামের ভিত্তিতেও সূচিপত্র সংরক্ষণ করা হয়ে থাকে। তাই দলিলের পক্ষগুলোর নাম জানা না থাকলেও জমির মৌজার তথ্যের মাধ্যমে অনুসন্ধানের সুযোগ থাকতে পারে।
দলিলের নম্বর, তারিখ বা পৃষ্ঠা নম্বরের মতো নির্দিষ্ট তথ্য জানা না থাকলে সংশ্লিষ্ট রেজিস্ট্রেশন অফিসে তল্লাশি বা সার্চের আবেদন করা যায়। নির্ধারিত ফি জমা দিয়ে রেজিস্ট্রি অফিসের সংরক্ষিত সূচিপত্রে অনুসন্ধান করে প্রয়োজনীয় দলিলের তথ্য বের করা সম্ভব। অ্যাডভোকেট আমির হামজা লেমনের বক্তব্য অনুযায়ী, বালাম বই সরাসরি খোঁজার তুলনায় সূচিপত্রের মাধ্যমে তল্লাশি করে প্রয়োজনীয় তথ্য বের করা তুলনামূলক সহজ।
তল্লাশির মাধ্যমে দলিলের নম্বর, সালসহ প্রয়োজনীয় তথ্য পাওয়া গেলে পরবর্তী ধাপে ওই দলিলের সার্টিফায়েড কপি বা নকলের জন্য আবেদন করা যায়। নির্ধারিত সরকারি ফি পরিশোধের পর সংশ্লিষ্ট রেজিস্ট্রি অফিসের নিয়ম অনুযায়ী দলিলের সত্যায়িত অনুলিপি সংগ্রহ করা সম্ভব।
তল্লাশির জন্য নির্ধারিত ফিও আইন অনুযায়ী দিতে হয়। আলোচনায় বলা হয়েছে, প্রথম বছরের জন্য তল্লাশি ফি ২০ টাকা এবং পরবর্তী প্রতিটি বছরের জন্য ১৫ টাকা করে ফি দিতে হয়। তবে আবেদন করার আগে সংশ্লিষ্ট রেজিস্ট্রি অফিসে বর্তমান প্রযোজ্য ফি ও প্রক্রিয়া যাচাই করে নেওয়া ভালো।
অর্থাৎ পুরোনো জমির বায়া দলিলের নম্বর, তারিখ কিংবা বালাম-পৃষ্ঠা নম্বর জানা না থাকলেও সেটি খুঁজে পাওয়ার সুযোগ রয়েছে। দলিলের দাতা-গ্রহীতার নাম, জমির মৌজা বা অন্যান্য পরিচিত তথ্য নিয়ে সংশ্লিষ্ট রেজিস্ট্রি অফিসে তল্লাশি করা যায়। এরপর দলিলের সঠিক তথ্য শনাক্ত হলে সার্টিফায়েড কপি সংগ্রহের জন্য আবেদন করা সম্ভব।
জমির মালিকানা, উত্তরাধিকার বা কেনাবেচা নিয়ে আইনি বিরোধ থাকলে শুধু পুরোনো দলিলের কপি সংগ্রহ করাই যথেষ্ট নাও হতে পারে। সে ক্ষেত্রে দলিলের সঙ্গে খতিয়ান, নামজারি, দাগ নম্বরসহ সংশ্লিষ্ট ভূমি রেকর্ডও যাচাই করা প্রয়োজন।