শিরোনাম
◈ না খে‌লেই এশিয়ান গেমস পুরুষ ক্রিকে‌টের সেমিফাইনালে বাংলাদেশ, লড়াই হ‌বে পা‌কিস্তানের বিরু‌দ্ধে ◈ এবার রূপপুরের ইউরেনিয়ামবাহী বিমানের অনুমতি না দেওয়ার যে কারণ জানাল পাকিস্তান ◈ চ্যালেঞ্জ কাটিয়ে অনুকূল পরিবেশ তৈরি হলেই তারেক রহমানের ভারত সফর ◈ দেশে বাজারে ইলিশের দাম বাড়ায় ভারতে রপ্তানি বন্ধের দাবি, সরকারকে আইনি নোটিশ ◈ মালয়েশিয়া থেকে ১,৫০০ মিয়ানমারের নাগরিককে দেশে ফেরত পাঠানো শুরু ◈ তারেক রহমানের ভারত সফর নিয়ে তাড়াহুড়ো নেই, সবকিছু ইতিবাচক: ভারতীয় হাইকমিশনার ◈ ১.৪৮ কোটি রুপির সমঝোতায় এমপিএস মামলা থেকে অব্যাহতি গৌতম আদানি গ্রুপ ◈ বাংলাদেশসহ ২০ দেশ থেকে বিশেষায়িত ওষুধ আমদানিতে শুল্ক ছাড় দিল যুক্তরাষ্ট্র ◈ জাতীয় স্বার্থকে অগ্রাধিকার দিয়েই ভারত-যুক্তরাষ্ট্র-রাশিয়ার সঙ্গে আলোচনা: তথ্য উপদেষ্টা ◈ আদাবরে বাড়ি দখল-চাঁদাবাজির মামলার আসামিদের সঙ্গে পুলিশের গোলাগুলি, গুলিবিদ্ধ ২

প্রকাশিত : ২৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ০২:৫৬ দুপুর
আপডেট : ২৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ০৩:১৬ দুপুর

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

মালয়েশিয়া থেকে ১,৫০০ মিয়ানমারের নাগরিককে দেশে ফেরত পাঠানো শুরু

মালয়েশিয়া থেকে মিয়ানমারের নাগরিকদের দেশে ফেরত পাঠানোর কার্যক্রম শুরু হয়েছে। এর প্রথম ধাপে আজ মঙ্গলবার প্রায় ১ হাজার ৫০০ মিয়ানমারের নাগরিককে দেশে ফেরত পাঠানো হচ্ছে। মালয়েশিয়া সরকারের বৃহত্তর পরিকল্পনার আওতায় আটককেন্দ্রে থাকা প্রায় ৫ হাজার মিয়ানমারের নাগরিককে ধাপে ধাপে ‘স্বেচ্ছায়’ প্রত্যাবাসনের অংশ হিসেবে এই কার্যক্রম শুরু হয়েছে।

আন্তর্জাতিক সংবাদ মাধ্যম এএফপির বরাতে দ্য সান জানিয়েছে, মালয়েশিয়ার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এর আগে প্রথম ধাপে ১ হাজার ৪৭৬ জনকে ২৯ সেপ্টেম্বর দেশে ফেরত পাঠানোর ঘোষণা দিয়েছিল। তাদের প্রত্যাবাসনে মিয়ানমার নৌবাহিনীর দু’টি যুদ্ধজাহাজ ও একটি হাসপাতাল জাহাজ ব্যবহারের কথা জানানো হয়।

প্রত্যাবাসন করা ব্যক্তিদের মধ্যে রোহিঙ্গা কতজন রয়েছেন, সে বিষয়ে মালয়েশিয়া সরকার নির্দিষ্ট সংখ্যা প্রকাশ করেনি। তবে জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী, মালয়েশিয়ায় প্রায় ১ লাখ ৯৩ হাজার মিয়ানমারের শরণার্থী রয়েছেন এবং তাদের প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ রোহিঙ্গা। ফলে চলমান প্রত্যাবাসন কর্মসূচিতে রোহিঙ্গাদের অন্তর্ভুক্তি নিয়ে মানবাধিকার সংগঠনগুলোর মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে বলে জানিয়েছে রয়টার্স।

এর আগে জুলাই মাসে মালয়েশিয়ার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ৫ হাজার রোহিঙ্গাসহ মিয়ানমারের নাগরিকদের শনাক্তকরণ, নথিভুক্তকরণ ও নিরাপত্তা যাচাই প্রক্রিয়া শুরু করে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নেতৃত্বে পুলিশ ও অভিবাসন বিভাগসহ সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো এই যাচাই কার্যক্রমে অংশ নেয়।

advertisement

মালয়েশিয়া সরকার বলেছে, প্রত্যাবাসন কর্মসূচিতে অংশ নেওয়া ব্যক্তিরা স্বেচ্ছায় দেশে ফিরতে সম্মত হয়েছেন এবং পুরো প্রক্রিয়া নিরাপদ, সুশৃঙ্খল ও মর্যাদাপূর্ণভাবে সম্পন্ন করার জন্য মিয়ানমার সরকারের সঙ্গে সমন্বয় করা হয়েছে। মিয়ানমার সরকারও সমুদ্রপথে ৫ হাজার নাগরিককে ফিরিয়ে নেওয়ার প্রস্তুতির কথা জানিয়েছিলো বারনামা।

তবে জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থা ইউএনএইচসিআর জানিয়েছে, প্রত্যাবাসনের জন্য ব্যক্তিদের শনাক্ত করার প্রক্রিয়ায় তাদের কোনো ভূমিকা নেই। সংস্থাটি সতর্ক করেছে, চলমান সংঘাত ও নিরাপত্তা পরিস্থিতির কারণে মিয়ানমারকে বর্তমানে নিরাপদ প্রত্যাবাসনের উপযোগী হিসেবে বিবেচনা করা যাচ্ছে না। সংস্থাটির মতে, যেকোনো প্রত্যাবাসন অবশ্যই স্বেচ্ছাসেবী, অবগত সিদ্ধান্তের ভিত্তিতে এবং নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণ পরিবেশে হতে হবে বলে লিখেছে রয়টার্স।

আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম রয়টার্স আরও জানিয়েছে, মানবাধিকার সংগঠনগুলোও বিশেষ করে রোহিঙ্গাদের সম্ভাব্য প্রত্যাবাসন নিয়ে উদ্বেগ জানিয়েছে। তাদের আশঙ্কা, মিয়ানমারে চলমান সশস্ত্র সংঘাত, মানবাধিকার পরিস্থিতি এবং রোহিঙ্গাদের দীর্ঘদিনের নাগরিকত্ব ও নিরাপত্তা সংকটের কারণে দেশে ফেরার পর তাদের জন্য নতুন ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। ১৬০টিরও বেশি নাগরিক সংগঠন মালয়েশিয়াকে রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসন বন্ধের আহ্বান জানিয়েছে।

মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম এর আগে মিয়ানমারের প্রেসিডেন্ট মিন অং হ্লাইংকে মালয়েশিয়া সফরের আমন্ত্রণ জানানোর কথা জানিয়েছিলেন। আনোয়ার বলেছেন, মিয়ানমারের নাগরিকদের ধাপে ধাপে নিজ দেশে ফিরিয়ে নেওয়ার বিষয়ে দুই দেশের মধ্যে সরাসরি আলোচনা প্রয়োজন বলে জানিয়েছে বারনামা।

  • সর্বশেষ