এম, এ কুদ্দুস, বিরল (দিনাজপুর) প্রতিনিধি: অপেক্ষার পালা শেষ করে নিজ বাগান থেকে হারবেস্ট বা ফল সংগ্রহ শুরু করেছেন অসময়ের সফল তরমুজ চাষী বিরলের জয়নন্দ রায় নানু।
সাধারণত নির্দিষ্ট মৌসুমে তরমুজ চাষ হলেও কৃষক জয়নন্দ রায় নানু কৃষি বিভাগের সার্বিক সহযোগিতায় প্রথম বারের মত মাচায় মালচিং পদ্ধতিতে ২০ শতাংশ জমিতে একই সাথে রঙ্গীলা, ইয়েলো ড্রাগন ও বেঙ্গল টাইগার প্লাস ব্লাক কুইন জাতের তরমুজ চাষ করে এলাকায় ব্যপক সাড়া ফেলেছেন।
কৃষক জয়নন্দ রায় নানু-এর বাড়ী উপজেলার ৬নং ভান্ডারা ইউপি’র ভান্ডারা গ্রামে। দিনাজপুর অঞ্চলে টেশসই কৃষি উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় তিনি আধুনিক কৃষি প্রযুক্তি ব্যবহার করে গাছের পরিচর্যা করায় তার বাগানে ভালো ফলন এসেছে। তার এই সফলতা দেখে ওই অঞ্চলের কৃষকরা অসময়ে তরমুজ চাষে আগ্রহী হয়ে উঠছেন। একই সাথে তার প্রদশনি প্লটকে সামনে রেখে মাঠ দিবস, আলোচনা সভা সহ বিভিন্ন প্রচরাণা চালিয়ে তরমুজ চাষে কৃষকদের উদ্বুদ্ধ করছেন, কৃষি বিভাগ।
এদিকে, বর্তমান বাজারে তরমুজের দাম ভালো থাকায় লাভবান হওয়ার আশা করছেন তরমুজ চাষী জয়নন্দ রায় নানু।
তিনি জানান, কৃষি বিভাগের সার্বিক সহযোগিতা ও পরামর্শে আমি প্রথম বারেরমত আধুনিক কৃষি প্রযুক্তি ব্যবহার করে একই সাথে চারটি জাতের তরমুজের চাষ করেছি। বর্তমানে বাজারে তরমুজের দাম ভালো আছে। তাই লাভবান হবার আশা করছি।
অপরদিকে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, কৃষক জয় নন্দ রায় নানুর এই অসময়ে তরমুজ চাষ দেখে মানুষ তরমুজ চাষে আগ্রহী হচ্ছেন। আগামীতে এই অঞ্চলে তরমুজের চাষে ব্যপক প্রসার ঘটবে।
৬নং ভান্ডারা উপসহকারী কৃিষ কর্মকর্তা সাইফুল ইসলাম জানান, তরমুজ চাষী জয়নন্দ রায় নানু কে কৃষি বিভাগের পক্ষ থেকে সকল প্রকার সহযোগিতা ও পরামর্শ দেয়া হয়েছে। আগামীতে এই তরমুজ চাষের আরোও ব্যপক প্রসার ঘটবে।
এব্যাপারে বিরল উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অফিসার কৃষিবিদ আফরোজা হক আঁখি জানান, দিনাজপুর অঞ্চলে টেকসই কৃষি উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় কৃষি বিভাগের উদ্যাগে এ উপজেলার ১২টি ইউনিয়নে ১২টি তরমুজের প্রদশর্ণী প্লট করা হয়। অনেকের হারবেস্ট বা ফল সংগ্রহ শেষ হয়েছে। অনেকের চলমান রয়েছে। বর্তমানে বাজারে এক কেজি তরমুজ ৫০ থেকে ৬০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। ফলে তনমুজ চাষীরা তাদের ফলের দাম পাওয়ায় অল্প জমিতে বেশি লাভবান হচ্ছেন।
স্থানীয় ইউপি সদস্য আতিউর রহমান জানান, আমি প্রথমে বিশ^াস করিনি যে, আমাদের এলাকায় তরমুজের চাষ হবে। তাই মাঝে মধ্যেই এসে খবর নিতাম। এখন দেখছি আবাদ খুব ভালো হয়েছে এবং এই অসময়ের তরমুজ খেতে অনেক মিষ্টি। কৃষক জয়নন্দ রায় নানুর উদ্যোগ স্থানীয় কৃষকদের মধ্যে নতুন পদ্ধতিতে তরমুজ চাষের আগ্রহ তৈরি হয়েছে। কৃষকেরা বলছেন, অসময়ে তরমুজ উৎপাদন করতে পারলে বাজারে ভালো দাম পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
রবিবার বিকালে জয়নন্দ রায় নানুর বাগানে হারবেস্ট ও ফল সংগ্রহের সময় পরিদর্শনে আসা দিনাজপুর খামার বাড়ীর অতিরিক্তি পরিচালক কৃষিবিদ রিয়াজ উদ্দীন জানান, কৃষি বিভাগের সহযোগিতা ও আধুনিক প্রযুক্তির সঠিক ব্যবহার করে কৃষকরা লাভবান হচ্ছেন। ফলে অসমেয় মাচায় তরমুজের চাষ ব্যপকভাবে বাড়ছে। এরজন্য সার্বিক সহযোগিতা প্রদান করছে কৃষি বিভাগ। কৃষি বিভাগের সহযোগিতা ও আধুনিক প্রযুক্তির সঠিক ব্যবহার বাড়ানো গেলে, এ ধরনের উদ্যোগ কৃষকদের জন্য নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলে দিতে পারে।
এসময় উপস্থিত ছিলেন, দিনাজপুর জেলা কৃষি প্রশিক্ষণ অফিসার কৃষিবিদ মোঃ শাহ আলম মিয়া, ঢাকা খামার বাড়ির প্রকল্প পরিচালক কৃষিবিদ আবু রেজা মোঃ আসাদুজ্জামান, উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অফিসার কৃষিবিদ আফরোজা হক আঁখি, উপসহকারী উদ্ভিদসংরক্ষণ কর্মকর্তা মোঃ শাহাজান আলী ও উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা মোঃ সাইফুল ইসলাম।