একটি আধুনিক কারখানায় শত শত বাংলাদেশি শ্রমিক কাজ করছেন। কেউ যন্ত্রে কাঁচামাল দিচ্ছেন, কেউ সংযোজন করছেন, কেউ পণ্যের মান পরীক্ষা করছেন। বাইরে থেকে দেখলে বোঝার উপায় নেই, কারখানাটির সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রযুক্তিগত সিদ্ধান্তগুলো আসলে কারা নিচ্ছেন।
যন্ত্রে বড় ধরনের ত্রুটি দেখা দিলে কে সেটি শনাক্ত ও সমাধান করছেন? উৎপাদনব্যবস্থায় পরিবর্তন আনতে হলে সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন কে? নতুন প্রযুক্তি যুক্ত হলে সেটি পরিচালনার দায়িত্ব কার হাতে যাচ্ছে? আর চীনা প্রকৌশলী ও প্রযুক্তিবিদরা একদিন চলে গেলে বাংলাদেশি প্রকৌশলীরাই কি পুরো কারখানা চালাতে পারবেন?
বাংলাদেশে চীনা বিনিয়োগের সুফল হিসাব করতে কর্মসংস্থান ও বিনিয়োগের অঙ্ক সাধারণত সামনে আসে। কিন্তু শিল্পায়নের আরও একটি হিসাব আছে। সেই কারখানার প্রযুক্তিগত জ্ঞান, রক্ষণাবেক্ষণ দক্ষতা এবং সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা কতটা বাংলাদেশিদের হাতে যাচ্ছে? কারণ আধুনিক মেশিন বাংলাদেশে আসা আর সেই মেশিন চালানো, মেরামত করা ও তার প্রযুক্তি আয়ত্ত করা এক বিষয় নয়।
মেশিন আসা আর প্রযুক্তি থেকে যাওয়া এক নয়
বিদেশি কোনো প্রতিষ্ঠান আধুনিক কারখানা স্থাপন করল, কয়েক হাজার মানুষের কর্মসংস্থান হলো এবং উৎপাদন শুরু হলো। এটি বিনিয়োগের গুরুত্বপূর্ণ সুফল। কিন্তু এটিকে স্বয়ংক্রিয়ভাবে প্রযুক্তি হস্তান্তর বলা যায় না।
শিল্প-সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আলাপ এবং বিভিন্ন প্রকল্পের তথ্য বিশ্লেষণ করে প্রযুক্তি হস্তান্তরের চারটি ধাপ সামনে আসে। প্রথম ধাপে বিদেশি প্রতিষ্ঠান আধুনিক মেশিন, উৎপাদনব্যবস্থা ও প্রযুক্তি নিয়ে আসে। দ্বিতীয় ধাপে স্থানীয় কর্মী ও প্রকৌশলীরা বিদেশি বিশেষজ্ঞদের কাছ থেকে কাজ শেখেন। তৃতীয় ধাপে বাংলাদেশি কর্মী ও প্রকৌশলীরা উৎপাদন, মান নিয়ন্ত্রণ, রক্ষণাবেক্ষণ ও ব্যবস্থাপনার গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব নিতে শুরু করেন।
আর চতুর্থ ধাপে বিদেশি বিশেষজ্ঞের নিয়মিত উপস্থিতি ছাড়াই স্থানীয় প্রকৌশলী ও ব্যবস্থাপকরা কারখানার উৎপাদন ও প্রযুক্তিগত কার্যক্রম পরিচালনা করতে সক্ষম হন। প্রযুক্তি সত্যিকার অর্থে দেশে থেকে গেলো কি না, তার সবচেয়ে বড় পরীক্ষা এই শেষ ধাপেই।
চীনা প্রকল্পে কাজ করছেন কারা?
বাংলাদেশে চীনের অর্থায়ন ও বিনিয়োগে একের পর এক বড় প্রকল্প হয়েছে। পদ্মা সেতু রেল সংযোগ, কর্ণফুলী টানেল, দাশেরকান্দি পয়ঃশোধনাগারসহ বিভিন্ন প্রকল্পে চীনা অর্থ, ঠিকাদার ও প্রযুক্তির ব্যবহার রয়েছে। পাশাপাশি চীনা প্রতিষ্ঠানগুলো বাংলাদেশে শিল্পকারখানাতেও বিনিয়োগ করছে। কিন্তু এসব প্রকল্পে বাংলাদেশির ভূমিকা কতটা, সেটিই গুরুত্বপূর্ণ।
শুধু কতজন বাংলাদেশি শ্রমিক কাজ করছেন, তা দিয়ে বিষয়টি বোঝা যায় না। দেখতে হবে প্রকৌশল, প্রযুক্তি, যন্ত্র পরিচালনা, মান নিয়ন্ত্রণ, ব্যবস্থাপনা ও গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়ার দায়িত্ব কার হাতে।
একটি প্রকল্পে হাজারো বাংলাদেশি শ্রমিক কাজ করলেও যদি মূল প্রযুক্তি, উৎপাদন পরিকল্পনা ও ব্যবস্থাপনা চীনা বিশেষজ্ঞদের হাতে থাকে, তাহলে কর্মসংস্থান হয়েছে ঠিকই। কিন্তু প্রযুক্তি ও দক্ষতা কতটা বাংলাদেশে স্থায়ী হলো, সেটি আলাদা প্রশ্ন।
নারায়ণগঞ্জের স্মার্টফোন কারখানায় শেখার সুযোগ
চীনের ট্রানশান হোল্ডিংসের সহযোগী প্রতিষ্ঠান আইস্মার্টু টেকনোলজি বাংলাদেশের নারায়ণগঞ্জের মেঘনা ইন্ডাস্ট্রিয়াল ইকোনমিক জোনের কারখানাটি এ ক্ষেত্রে একটি উদাহরণ। ২০২৩ সালের মে মাসে কারখানাটির উদ্বোধন হয়। প্রথম ধাপে প্রায় ২২ মিলিয়ন ডলার বিনিয়োগে স্থাপিত এই কারখানায় দুই হাজারের বেশি স্থানীয় মানুষের কর্মসংস্থানের লক্ষ্য ছিল।
কারখানার উৎপাদন লাইনের দায়িত্বে থাকা প্রকৌশলী সাজেদুর রহমান সহকারী প্রকৌশলী হিসেবে যোগ দিয়ে পরে সহকারী দলনেতার দায়িত্ব পান। তার ভাষ্য অনুযায়ী, বিদেশি বিশেষজ্ঞদের কাছ থেকে তিনি মোবাইল ফোন উৎপাদনের মৌলিক শর্ত, পরিচালন মানদণ্ড এবং মান নিয়ন্ত্রণ সম্পর্কে প্রশিক্ষণ পেয়েছেন। একজন বাংলাদেশি প্রকৌশলীর সহকারী পদ থেকে নেতৃত্বের পর্যায়ে উঠে আসা স্থানীয় দক্ষতা তৈরির একটি সংকেত। কিন্তু এটিই পুরো প্রযুক্তি হস্তান্তরের প্রমাণ নয়।
প্রশ্ন হলো, তিনি কি শুধু দৈনন্দিন উৎপাদন পরিচালনা করছেন, নাকি জটিল যান্ত্রিক ও সফটওয়্যারভিত্তিক সমস্যাও স্বাধীনভাবে শনাক্ত ও সমাধান করতে পারছেন?
প্রকাশ্য তথ্য থেকে এর পূর্ণাঙ্গ উত্তর পাওয়া যায় না। কারখানার একজন শপ-ফ্লোর টেকনিশিয়ানের অভিজ্ঞতাতেও শেখার এই প্রক্রিয়াটি দেখা যায়। তিনি বলেন, নতুন ধরনের যন্ত্রপাতি ও উৎপাদনব্যবস্থার সঙ্গে সরাসরি কাজ করার সুযোগই বড় পরিবর্তন। শুরুর দিকে চীনা টেকনিশিয়ানরা হাতে-কলমে প্রশিক্ষণ দিয়েছেন। এখন অনেক ক্ষেত্রেই বাংলাদেশি কর্মীরা নিজেরাই মেশিনের সমস্যা বুঝতে পারেন। তবে আরও উন্নত প্রযুক্তির ক্ষেত্রে নিয়মিত প্রশিক্ষণ প্রয়োজন। অর্থাৎ শেখার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। কিন্তু সেই শেখা কতটা গভীর এবং কতটা স্থায়ী, সেটিই বড় প্রশ্ন।
চীনা প্রকৌশলীদের সঙ্গে কাজের অভিজ্ঞতা
বাংলাদেশ-চায়না চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (বিসিসিসিআই) সাবেক সাধারণ সম্পাদক আল মামুন মৃধা বলেন, চীনা কোম্পানিগুলোর সঙ্গে কাজ করতে গিয়ে বাংলাদেশের প্রকৌশলীরা প্রযুক্তি ব্যবহারের বাস্তব অভিজ্ঞতা অর্জন করছেন।
দেশের বড় অবকাঠামো প্রকল্পে চীনের প্রকৌশলীদের পাশাপাশি বাংলাদেশের প্রকৌশলীরা সরাসরি কাজ করার সুযোগ পেয়েছেন। এর ফলে আধুনিক প্রযুক্তি, যন্ত্রপাতি পরিচালনা এবং প্রকল্প বাস্তবায়নের বিভিন্ন কৌশল সম্পর্কে তাদের দক্ষতা তৈরি হয়েছে।
তিনি বলেন, সরকারি বিভিন্ন বড় প্রকল্পের সঙ্গে যুক্ত হয়ে অনেক বাংলাদেশি প্রকৌশলী এখন বড় পরিসরের প্রকল্প পরিচালনার সক্ষমতা অর্জন করেছেন। একইভাবে বেসরকারি খাতের বিভিন্ন প্রকল্পেও তারা আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার শিখছেন।
আল মামুন মৃধা বলেন, এই প্রযুক্তি হস্তান্তরের সুফল শুধু প্রকৌশলীদের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। বিভিন্ন প্রকল্পে স্থানীয় শ্রমিক, টেকনিশিয়ান ও সহায়ক জনবলও প্রশিক্ষণ ও দক্ষতা অর্জনের সুযোগ পেয়েছেন। চীনা প্রকৌশলীদের সঙ্গে কাজ করার মাধ্যমে তারা আধুনিক যন্ত্রপাতি পরিচালনা, রক্ষণাবেক্ষণ ও কারিগরি কাজের বাস্তব অভিজ্ঞতা পেয়েছেন।
পদ্মা সেতু নির্মাণের উদাহরণ দিয়ে তিনি বলেন, ওই প্রকল্পে অত্যাধুনিক ও বড় আকারের নির্মাণযন্ত্র ও প্রযুক্তির ব্যবহার হয়েছে। বিশেষ করে সেতুর নির্মাণকাজে ব্যবহৃত বিশাল হ্যামারসহ বিভিন্ন নতুন প্রযুক্তির সঙ্গে বাংলাদেশের প্রকৌশলীরা সরাসরি কাজ করার সুযোগ পেয়েছেন।
তার ভাষ্য অনুযায়ী, এখন কোনো প্রকল্পে ব্যবহৃত যন্ত্রপাতিতে সমস্যা দেখা দিলে তা শনাক্ত ও মেরামতের জন্য অনেক ক্ষেত্রেই বিদেশি প্রকৌশলীর ওপর নির্ভর করতে হয় না। দেশের প্রকৌশলী ও কারিগরি জনবলই এসব যন্ত্রপাতির রক্ষণাবেক্ষণ ও মেরামতের কাজ করার মতো দক্ষতা অর্জন করেছেন। তবে সব প্রকল্পে এই সক্ষমতা একই পর্যায়ে পৌঁছেছে কি না, তার পূর্ণাঙ্গ তুলনামূলক তথ্য প্রকাশ্যে নেই।
কাইক্সি: বিনিয়োগ বাড়ছে, দক্ষতা কতটা বাড়ছে?
চট্টগ্রামের মীরসরাইয়ে বাংলাদেশ রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ অঞ্চল কর্তৃপক্ষের অর্থনৈতিক অঞ্চলে চীনের কাইক্সি গ্রুপের বিনিয়োগও প্রযুক্তি ও দক্ষতা হস্তান্তরের প্রশ্নটি সামনে আনে। ২০২২ সালের নভেম্বরে কাইক্সি লিঞ্জারি বাংলাদেশ কোম্পানি লিমিটেড বেপজার সঙ্গে জমি ইজারা চুক্তি করে। প্রায় ৬০ দশমিক ৮৫ মিলিয়ন ডলার বিনিয়োগে প্রকল্পটি গড়ে ওঠে। ২০২৪ সালের জুনে প্রতিষ্ঠানটি বাণিজ্যিক উৎপাদন শুরু করে। ২০২৫ সালের আগস্ট নাগাদ সেখানে প্রায় ৩ হাজার ৭০০ বাংলাদেশি কর্মরত ছিলেন।
এর ১৪ মাস পর, ২০২৫ সালের আগস্টে কাইক্সি গ্রুপ নতুন প্রতিষ্ঠান কাইক্সি গার্মেন্টস বাংলাদেশ লিমিটেডের মাধ্যমে আরও প্রায় ৪০ দশমিক ৫০ মিলিয়ন ডলার বিনিয়োগের জন্য নতুন লিজ চুক্তি করে। নতুন প্রকল্পে আরও প্রায় ৩ হাজার মানুষের কর্মসংস্থানের পরিকল্পনা রয়েছে।
বিনিয়োগ বাড়ছে। কিন্তু প্রথম প্রকল্পে কতজন চীনা প্রকৌশলী কাজ করেছেন, তাঁদের কতজনের জায়গা বাংলাদেশি প্রকৌশলীরা নিয়েছেন, কতজন স্থানীয় কর্মী প্রযুক্তিগত প্রশিক্ষণ পেয়েছেন এবং তাঁরা এখন কোন গুরুত্বপূর্ণ পদে আছেন, এসব তথ্য প্রকাশ্যে সহজলভ্য নয়।
কাইক্সি গার্মেন্টস বাংলাদেশের চেয়ারম্যান শিয়াও হংসি নতুন বিনিয়োগ চুক্তির সময় সাংবাদিকদের জানিয়েছিলেন, কারখানার কাছাকাছি শ্রমিকদের জন্য পর্যাপ্ত আবাসন না থাকায় দূরবর্তী এলাকা থেকে কর্মী আনতে হয়। এতে উৎপাদনে বিলম্ব তৈরি হয়। অর্থাৎ প্রযুক্তি ও দক্ষতার পাশাপাশি শ্রমিকের আবাসন, যাতায়াত ও স্থানীয় অবকাঠামোও শিল্প উৎপাদনের সক্ষমতার সঙ্গে যুক্ত।
বৈদ্যুতিক গাড়িতে নতুন পরীক্ষা
প্রযুক্তি হস্তান্তরের আরেকটি সম্ভাব্য ক্ষেত্র বৈদ্যুতিক গাড়ি বা ইভি শিল্প। দেশীয় প্রতিষ্ঠান রানার অটোমোবাইলস এবং চীনের বিওয়াইডির মধ্যে ময়মনসিংহের ভালুকায় স্থানীয়ভাবে গাড়ি সংযোজন ও রং করার একটি উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। রানারের প্রধান আর্থিক কর্মকর্তা শানাত দত্ত জানিয়েছেন, প্রকল্পটি তখনো প্রাথমিক পর্যায়ে ছিল। কারখানার বিন্যাস ও সরবরাহব্যবস্থা চূড়ান্ত হওয়ার পর বিনিয়োগের অঙ্ক নির্ধারণ করা হবে। তবে বাংলাদেশি কর্মীদের প্রশিক্ষণের জন্য বিওয়াইডি নিজস্ব প্রকৌশলী ও টেকনিশিয়ান পাঠাবে।
এখানে প্রযুক্তি হস্তান্তরের একটি সম্ভাব্য পথ আছে। চীনা প্রযুক্তির সঙ্গে চীনা প্রকৌশলীর সহায়তা, সেখান থেকে বাংলাদেশি কর্মীদের প্রশিক্ষণ, এরপর স্থানীয় সংযোজন। তবে প্রকল্পটি প্রাথমিক পর্যায়ে থাকায় এটিকে পূর্ণাঙ্গ প্রযুক্তি হস্তান্তরের উদাহরণ বলা যাবে না।
ঋণের প্রকল্পেও একই প্রশ্ন
বাংলাদেশ-চায়না চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সাবেক সিনিয়র সহ-সভাপতি ইঞ্জিনিয়ার আজিজুল আকিল ডেভিড বলেন, বিদেশি ঋণে নেওয়া প্রকল্পে বাংলাদেশের প্রকৌশলী ও জনবলের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে ঋণ চুক্তিতেই সুনির্দিষ্ট শর্ত থাকা উচিত।
তিনি বলেন, বেশিরভাগ ঋণ চুক্তিতে এ ধরনের বাধ্যবাধকতা রাখা হয় না। ফলে প্রকল্প বাস্তবায়নকারী বিদেশি প্রতিষ্ঠানগুলো নিজেদের প্রকৌশলী ও কারিগরি জনবল নিয়ে এসে কাজ করে। প্রকল্প শেষ হওয়ার পরও অনেক ক্ষেত্রে তাদের লোকজনই রক্ষণাবেক্ষণের কাজ চালিয়ে যায়।
আজিজুল আকিল ডেভিড বলেন, এমন প্রকল্পও রয়েছে, যেখানে বিদেশি প্রতিষ্ঠানগুলো প্রকৌশলীর পাশাপাশি রাজমিস্ত্রিসহ বিভিন্ন পর্যায়ের শ্রমিক নিজেদের দেশ থেকে নিয়ে এসেছে। কোনো কোনো প্রকল্পে ১০ থেকে ১৫ বছর ধরে বিদেশি জনবল কাজ করছে।
তার মতে, ঋণ চুক্তিতে স্থানীয় জনবল নিয়োগের বাধ্যবাধকতা না থাকায় বাংলাদেশের প্রকৌশলীরা এসব প্রকল্পে কাজ করার সুযোগ থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। শুধু বিদেশি ঋণের অর্থে প্রকল্প বাস্তবায়ন করলেই হবে না, সেই প্রকল্পের মাধ্যমে দেশের প্রকৌশলী, টেকনিশিয়ান ও শ্রমিকদের দক্ষতা বাড়ানোর সুযোগও তৈরি করতে হবে।
তিনি বলেন, ভবিষ্যতে বিদেশি ঋণে কোনো প্রকল্প নেওয়ার সময় ঋণ চুক্তিতেই উল্লেখ থাকতে হবে যে প্রকল্পের নির্দিষ্ট অংশে বাংলাদেশের প্রকৌশলী ও স্থানীয় জনবল কাজ করবেন।
তার মতে, বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়সহ বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে প্রতিবছর অনেক দক্ষ প্রকৌশলী বের হচ্ছেন। তাদের একটি বড় অংশ বিদেশে চলে যাওয়ায় দেশের বড় প্রকল্পগুলোতে অভিজ্ঞ প্রকৌশলীর ঘাটতি তৈরি হয়। তাই বিদেশি প্রকল্পে স্থানীয় প্রকৌশলীদের কাজের সুযোগ নিশ্চিত করার পাশাপাশি দেশে তাঁদের ধরে রাখার পরিবেশও তৈরি করতে হবে।
মেশিন এসেছে, এখন প্রশ্ন জ্ঞান থাকবে কি না
চীনা বিনিয়োগে বাংলাদেশে কারখানা হচ্ছে, কর্মসংস্থান তৈরি হচ্ছে, উৎপাদন বাড়ছে। বাংলাদেশি শ্রমিকরা নতুন যন্ত্রপাতির সঙ্গে পরিচিত হচ্ছেন, প্রকৌশলীরা প্রশিক্ষণ পাচ্ছেন, কেউ কেউ নেতৃত্বের দায়িত্বও নিচ্ছেন। এগুলো প্রযুক্তি হস্তান্তরের সম্ভাবনার গুরুত্বপূর্ণ সংকেত।
কিন্তু বিদেশি বিশেষজ্ঞের ওপর নির্ভরতা সামগ্রিকভাবে কতটা কমেছে, কতজন বাংলাদেশি প্রকৌশলী গুরুত্বপূর্ণ প্রযুক্তিগত সিদ্ধান্ত নিতে পারছেন এবং বিদেশি বিশেষজ্ঞ ছাড়া একটি কারখানা কতটা সময় নির্বিঘ্নে চালানো সম্ভব, এসব প্রশ্নের পূর্ণাঙ্গ ও তুলনামূলক তথ্য এখনও প্রকাশ্যে নেই। কারখানা তৈরি হওয়ার পর তাই আসল পরীক্ষা শুধু উৎপাদনের পরিমাণ নয়।
সূত্র: বাংলা ট্রিবিউন