শিরোনাম
◈ রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও সামাজিক বিভাজনের কারণে গৃহযুদ্ধের ঝুঁকি, যেকোনো সময় ভেঙে পড়তে পারে ইসরায়েল: সিআইএ ◈ বিশ্বের সেরা ৫০০ শহরের তালিকা থেকে বাদ ঢাকা, পিছিয়েছে বাংলাদেশের সব বড় শহর! ◈ সেন্টমার্টিনে বিনামূল্যে খতনা করিয়ে অর্ধশতাধিক শিশুর ইনফেকশন ও রক্তক্ষরণ ◈ সোলার প্যানেল নাকি মিনি উইন্ড টারবাইন, বাড়ির জন্য কোনটি বেশি লাভজনক? ◈ বৃহস্পতিবার মিরপুর-আগারগাঁওসহ বিস্তীর্ণ এলাকায় ১০ ঘণ্টা গ্যাস বন্ধ থাকবে ◈ মে‌সি ম‌্যা‌জিক, গোল কর‌লেন করা‌লেন, জয়ের মঞ্চে মহাতারকার মহাবিদায়  ◈ টাকার বিনিময়ে কলরেকর্ড, লোকেশন ও এনআইডি তথ্য বিক্রি: ৪ পুলিশ সদস্য গ্রেপ্তার ◈ চট্টগ্রাম বন্দরে এবার ‘ব্যবহৃত গাড়ির যন্ত্রাংশ’ ঘোষণায় আস্ত BMW ও ৫ খণ্ডিত ইসুজু ট্রাকের সন্ধান! ◈ উয়েফা নেশন্স লিগে  স্পেন ও ইংল্যান্ডের জয় ◈ দুর্গাপূজায় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে টানা ১৬ দিনের ছুটি, শুরু কবে জেনে নিন বিস্তারিত

প্রকাশিত : ০৭ অক্টোবর, ২০২৬, ১১:৪৮ দুপুর
আপডেট : ০৭ অক্টোবর, ২০২৬, ১২:০৯ দুপুর

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

সোলার প্যানেল নাকি মিনি উইন্ড টারবাইন, বাড়ির জন্য কোনটি বেশি লাভজনক?

সূর্যের আলো ব্যবহার করে বিদ্যুৎ তৈরি করে সোলার প্যানেল।ছবি: এআই

দিন দিন বাড়ছে বিদ্যুতের খরচ। ফলে মাসের বিল কিছুটা কমাতে বাড়িতেই বিদ্যুৎ উৎপাদনের কথা ভাবছেন অনেকেই। এই ক্ষেত্রে সোলার প্যানেল দীর্ঘদিন ধরেই জনপ্রিয়। তবে সাম্প্রতিক সময়ে বাড়ির জন্য ছোট আকারের উইন্ড টারবাইন বা মিনি উইন্ড টারবাইন নিয়েও আগ্রহ তৈরি হয়েছে।

সূর্যের আলো ব্যবহার করে বিদ্যুৎ তৈরি করে সোলার প্যানেল। অন্যদিকে বাতাসের গতিকে কাজে লাগিয়ে বিদ্যুৎ উৎপাদন করে উইন্ড টারবাইন। দু’টি পদ্ধতিই পরিবেশবান্ধব হলেও বাড়িতে ব্যবহারের ক্ষেত্রে খরচ, উৎপাদন ক্ষমতা, রক্ষণাবেক্ষণ এবং স্থানীয় আবহাওয়া সবকিছু বিবেচনা করা জরুরি। তাহলে কোনটি বেশি লাভজনক?

বিদ্যুৎ উৎপাদনে এগিয়ে কোনটি?

সোলার প্যানেলের সবচেয়ে বড় সুবিধা হলো, এটি তুলনামূলকভাবে সহজে পূর্বানুমান করা যায়। দিনের নির্দিষ্ট সময়ে পর্যাপ্ত সূর্যের আলো পাওয়া গেলে প্যানেল বিদ্যুৎ তৈরি করে। সাধারণ হিসাবে, ১ কিলোওয়াট ক্ষমতার সোলার প্যানেল দিনে গড়ে প্রায় ৪ থেকে ৫ ইউনিট বিদ্যুৎ উৎপাদন করতে পারে। তবে ঋতু, আবহাওয়া, প্যানেলের অবস্থান এবং ছায়ার মতো বিষয়গুলোর কারণে উৎপাদনের পরিমাণ কমবেশি হতে পারে।

Advertisement

উইন্ড টারবাইনের ক্ষেত্রে হিসেবটা কিছুটা আলাদা। এখানে বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য পর্যাপ্ত গতির বাতাস প্রয়োজন। সাধারণত ঘণ্টায় প্রায় ১২ থেকে ১৫ কিলোমিটার বা তার বেশি গতির বাতাস প্রয়োজন হতে পারে। বাতাসের গতি কম হলে টারবাইনের উৎপাদনও উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যায়।

অর্থাৎ, উইন্ড টারবাইন দিনে-রাতে বিদ্যুৎ উৎপাদন করতে পারলেও সেটি সম্পূর্ণভাবে নির্ভর করে স্থানীয় বাতাসের গতির উপর। আবাসিক এলাকায় বাতাস অনেক সময় প্রয়োজনীয় গতিতে বা ধারাবাহিকভাবে না বইলে ১ কিলোওয়াট ক্ষমতার টারবাইন তার পূর্ণ সক্ষমতায় কাজ করতে পারে না। অনেক ক্ষেত্রে ক্ষমতার মাত্র ২০ থেকে ৩০ শতাংশের মতো উৎপাদন পাওয়া যেতে পারে।

ইনস্টল করতে খরচ কত?

শুধু বিদ্যুৎ উৎপাদনের ক্ষমতা নয়, সিস্টেম বসানোর প্রাথমিক খরচও গুরুত্বপূর্ণ। সাম্প্রতিক বাংলাদেশি বাজারদর অনুযায়ী ১ কিলোওয়াট সোলার সিস্টেমের খরচ সিস্টেমের ধরন অনুযায়ী প্রায় ৩২-৪২ হাজার টাকা/kWp থেকে শুরু হতে পারে, তবে ব্যাটারি-সহ পূর্ণ অফ-গ্রিড/হাইব্রিড সেটআপ হলে খরচ অনেক বেশি প্রায় ৮০ হাজার থেকে ১.২ লাখ টাকা পর্যন্ত হতে পারে।

অন্যদিকে, বাংলাদেশে এখনো মিনি উইন্ড টারবাইন এতোটা সহজলভ্য নয়। তবে চাইলে আশপাশের দেশ থেকে আনা যেতে পারে। সেক্ষেত্রে মিনি উইন্ড টারবাইন বসাতে প্রায় এক থেকে দেড় লাখ টাকা পর্যন্ত খরচ হতে পারে। অর্থাৎ প্রাথমিক বিনিয়োগের দিক থেকে এটি সোলারের তুলনায় বেশ ব্যয়বহুল।

শুধু তাই নয়, উইন্ড টারবাইনের যান্ত্রিক অংশের সংখ্যা বেশি হওয়ায় রক্ষণাবেক্ষণের বিষয়টিও মাথায় রাখতে হয়। ব্লেড, গিয়ার, বেয়ারিংসহ বিভিন্ন চলমান অংশ দীর্ঘদিন ব্যবহারের পর ক্ষয়প্রাপ্ত হতে পারে। ফলে সময়ের সঙ্গে সার্ভিসিং এবং প্রয়োজনীয় যন্ত্রাংশ বদলের খরচও যুক্ত হয়।

সোলার প্যানেলের ক্ষেত্রে চলমান যন্ত্রাংশ নেই বললেই চলে। তাই নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণের প্রয়োজন তুলনামূলকভাবে কম। তবে প্যানেলের উপর ধুলা-ময়লা জমলে বিদ্যুৎ উৎপাদন কমতে পারে, তাই নিয়মিত পরিষ্কার রাখাও জরুরি।

শহরের বাড়ির জন্য কোনটি ভালো?

শহর বা ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় বাড়ির ছাদে সোলার প্যানেল সাধারণত বেশি বাস্তবসম্মত বিকল্প। বাড়ির ছাদে যদি দিনের বেশিরভাগ সময় সরাসরি সূর্যের আলো পাওয়া যায় এবং আশপাশের ভবন বা গাছের ছায়া বেশি না থাকে, তাহলে সোলার প্যানেল থেকে ভালো উৎপাদন পাওয়া সম্ভব।

মিনি উইন্ড টারবাইনের ক্ষেত্রে পর্যাপ্ত উচ্চতা এবং বাধাহীন বাতাসের প্রয়োজন হয়। শহরের বাড়ির ছাদে উঁচু পোল বসিয়ে টারবাইন স্থাপন করলে প্রবল বাতাস বা ঝড়ের সময় নিরাপত্তার বিষয়টিও বিবেচনা করতে হবে। এর পাশাপাশি টারবাইনের ঘূর্ণন থেকে তৈরি শব্দ ও কম্পন আশপাশের বাসিন্দাদের জন্য অস্বস্তিকর হতে পারে।

কখন উইন্ড টারবাইন বেছে নিতে পারেন?

যেসব এলাকায় বছরের বড় সময়জুড়ে ভালো গতির বাতাস পাওয়া যায়, সেখানে মিনি উইন্ড টারবাইন কার্যকর বিকল্প হতে পারে। বিশেষ করে খোলা জায়গা, উপকূলীয় অঞ্চল বা এমন স্থানে যেখানে বাতাসের গতি তুলনামূলক বেশি ও নিয়মিত, সেখানে এর সম্ভাবনা বেশি।

তবে শুধুমাত্র টারবাইনের গায়ে লেখা ১ কিলোওয়াট ক্ষমতা দেখেই সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত নয়। আপনার এলাকায় বাস্তবে সারা বছর কতটা বাতাস পাওয়া যায়, সেটিই বিদ্যুৎ উৎপাদনের ক্ষেত্রে বেশি গুরুত্বপূর্ণ।

দু’টি একসঙ্গে ব্যবহার করা যায়

বাজেটের সমস্যা না থাকলে সোলার প্যানেল ও মিনি উইন্ড টারবাইন একসঙ্গে ব্যবহার করার কথাও ভাবা যায়। এই ধরনের হাইব্রিড ব্যবস্থায় দিনের বেলায় সূর্যের আলো কাজে লাগিয়ে সোলার প্যানেল বিদ্যুৎ তৈরি করতে পারে। পাশাপাশি বাতাসের গতি অনুকূলে থাকলে উইন্ড টারবাইনও বিদ্যুৎ উৎপাদন করবে।

তবে সাধারণ বাড়ির জন্য কোন ব্যবস্থা সবচেয়ে উপযুক্ত, তা নির্ভর করবে বাড়ির অবস্থান, ছাদের জায়গা, সূর্যালোকের পরিমাণ, স্থানীয় বাতাসের গতি এবং বাজেটের উপর।

সবদিক মিলিয়ে সাধারণ শহুরে বাড়িতে তুলনামূলক কম প্রাথমিক খরচ, সহজ রক্ষণাবেক্ষণ এবং স্থিতিশীল উৎপাদনের কারণে সোলার প্যানেলই সাধারণত বেশি বাস্তবসম্মত বিকল্প। আর পর্যাপ্ত বাতাস পাওয়া যায় এমন খোলা এলাকায় মিনি উইন্ড টারবাইন আলাদা সুবিধা দিতে পারে।

  • সর্বশেষ