শিরোনাম
◈ মোগলহাট স্থলবন্দর চালুর সুসংবাদ দিলেন দুই মন্ত্রী, পরিদর্শনে মিলল নতুন আশার আলো ◈ রাজধানীতে আগামীকাল ৭ ঘণ্টা গ্যাস থাকবে না যেসব এলাকায় ◈ প্রতিটি সিটি কর্পোরেশন ও জেলায় মাস্টারপ্ল্যান করছে সরকার : প্রধানমন্ত্রী ◈ প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে যুক্তরাজ্যের হাইকমিশনারের সাক্ষাৎ ◈ অটোগ্যাসে বড় মূল্যবৃদ্ধি, লিটারে বাড়ল প্রায় ১১ টাকা ◈ আখতারুজ্জামানের জামিন নাকচ, আদালত প্রাঙ্গণে বিএনপি-জামায়াতপন্থী আইনজীবীদের হাতাহাতি ◈ ২৪ ঘণ্টায় হাম উপসর্গে ৩ জনের মৃত্যু, আক্রান্ত ১ হাজার ৩০০ ◈ দিল্লিতে রিয়াজ-জয়শঙ্কর বৈঠক, অমীমাংসিত সংকট নিরসনে আলোচনায় জোর ◈ তৃণমূলের রাজ্যসভা আসনে এবার বিজেপির প্রার্থী কোয়েল মল্লিক ◈ ডেঙ্গুতে আরো ৬ প্রাণহানি, হাসপাতালে ২০৮৯

প্রকাশিত : ০৪ অক্টোবর, ২০২৬, ০৭:৫৭ বিকাল
আপডেট : ০৪ অক্টোবর, ২০২৬, ০৯:২৭ রাত

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

অবৈধ ক্রসিংয়ে মৃত্যুফাঁদ, ঝুঁকিতে কক্সবাজার রেলপথ 

এম আর আমিন, চট্টগ্রাম : চট্টগ্রাম-কক্সবাজার রেলপথ চালুর পর দক্ষিণ চট্টগ্রামে রেল যোগাযোগের নতুন দ্বার খুললেও নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে তৈরি হয়েছে উদ্বেগ।দিনদিন দুর্ঘটনাপ্রবণ হয়ে উঠছে চট্টগ্রাম-কক্সবাজার রেলপথ। ট্রেন চলাচলের নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

অবৈধ ক্রসিং চিহ্নিত করে সেগুলো বন্ধ এবং ঝুঁকিপূর্ণ স্থানগুলোতে নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদার করা প্রয়োজন। 

এই রেলপথে পৌনে তিন বছরে ট্রেন দুর্ঘটনায় একটি হাতিসহ প্রাণ হারিয়েছেন ১০১ জন। এর মধ্যে চলতি সেপ্টেম্বর মাসেই মারা গেছেন অন্তত পাঁচ জন।লেভেল ক্রসিংগুলো অরিক্ষত থাকায় এমন প্রাণহানি বাড়ছে। পাশাপাশি পরিকল্পনায়ও ত্রুটি আছে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

দুর্ঘটনার প্রায় সবগুলোই ঘটেছে অবৈধ ও ঝুঁকিপূর্ণ লেভেল ক্রসিংয়ে। অথচ ১৫২ কিলোমিটার দীর্ঘ এই রেলপথে বৈধ লেভেল ক্রসিংয়ের পাশাপাশি রয়েছে বিপুলসংখ্যক অবৈধ ক্রসিং। এসব অবৈধ লেভেল ক্রসিং দুর্ঘটনার অন্যতম কারণ বলে মনে করছে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ।

advertisement

রেলওয়ে পূর্বাঞ্চল সূত্র জানায়, চট্টগ্রাম থেকে কক্সবাজার পর্যন্ত রেলপথে বৈধ লেভেল ক্রসিং রয়েছে ৯৯টি। এর বিপরীতে অবৈধ লেভেল ক্রসিং রয়েছে ৭৭টি। এসবের মধ্যে ৫৬টি বৈধ লেভেল ক্রসিংয়েই নেই কোনও গেটম্যান। ফলে ট্রেন আসা-যাওয়ার সময় এসব ক্রসিংয়ে যানবাহন ও পথচারীদের নিরাপত্তা অনেকটাই নির্ভর করছে চালক ও পথচারীদের সতর্কতার ওপর।

রেলওয়ের কর্মকর্তারা বলছেন, দুর্ঘটনা প্রতিরোধে ইতোমধ্যে ২২টি অবৈধ লেভেল ক্রসিং বন্ধ করা হয়েছে। আরও ৩৫টি অবৈধ ক্রসিং বন্ধের প্রক্রিয়া চলছে। পাশাপাশি ৫৬টি বৈধ ক্রসিংয়ে গেটম্যান নিয়োগের প্রস্তাব রেলওয়ে মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। তবে নতুন নির্মিত রেলপথ রক্ষণাবেক্ষণ ও নিরাপত্তার জন্য প্রয়োজনীয় জনবলের বিপরীতে এখনো পর্যাপ্ত অর্থ বরাদ্দ পাওয়া যায়নি।

চট্টগ্রাম-কক্সবাজার রেলপথে ট্রেন চলাচল শুরু হয় ২০২৩ সালের ১ ডিসেম্বর। বর্তমানে এ রুটে চার জোড়া ট্রেন চলাচল করছে। ঢাকা-কক্সবাজার রুটে আন্তনগর কক্সবাজার এক্সপ্রেস ও পর্যটক এক্সপ্রেস এবং চট্টগ্রাম-কক্সবাজার রুটে প্রবাল এক্সপ্রেস ও সৈকত এক্সপ্রেস চলাচল করছে। আগামী মাসে এ রুটে ঢাকা পর্যন্ত মহানগর এক্সপ্রেস ট্রেন যুক্ত হওয়ার কথা রয়েছে। ফলে ট্রেনের সংখ্যা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে লেভেল ক্রসিংগুলোর নিরাপত্তা নিয়েও নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

চট্টগ্রাম রেলওয়ে থানা সূত্রে জানা যায়, চট্টগ্রাম-কক্সবাজার রুটে ট্রেন দুর্ঘটনায়  পৌনে তিন বছরে ১০১ জন মারা গেছেন। ট্রেনের ধাক্কায় ২০২৪ সালের অক্টোবরে একটি হাতিও মারা যায়। এর মধ্যে ২০২৪ সালে ২৭ জন, ২০২৫ সালে ৪৩ জন এবং চলতি বছরের ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ৩১ জন মারা গেছেন।আরও জানা যায়,২০২৪ সাল থেকে ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত চট্টগ্রাম রেলওয়ে থানা এলাকায় ১৯১ জন ট্রেন দুর্ঘটনায় মারা গেছেন। এর মধ্যে ২০২৪ সালে ৫৭ জন, ২০২৫ সালে ৮১ জন এবং ২০২৬ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ৫২ জন ট্রেনে কাটা পড়ে মারা গেছেন।

স্থানীয়দের অভিযোগ, গুরুত্বপূর্ণ সড়কের ওপর থাকা রেলক্রসিংটিতে পর্যাপ্ত নিরাপত্তাব্যবস্থা না থাকায় প্রতিনিয়ত ঝুঁকি নিয়ে পারাপার করতে হয়।

দুর্ঘটনার পর স্থানীয় লোকজন নিরাপদ রেল পারাপার ও গেটম্যান নিয়োগের দাবিতে রেললাইন অবরোধ করেন। এ বিষয়ে জানতে চাইলে, রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের বিভাগীয় রেলওয়ে ম্যানেজার মোস্তাফিজুর রহমান ভূঁইয়া  বলেন, লোকজনের চলাচলের জন্য রেললাইনের ওপর দিয়ে অবৈধ পথ তৈরি করছে।

এসব লেভেল ক্রসিং  ট্রেন দুর্ঘটনায় কেউ মারা গেলে আবার লোকজনই ব্যারিকেড দিয়ে বলছেন, রেলওয়ে কেন এখানে গার্ড দিচ্ছে না।এসব পথে চলাচলের ক্ষেত্রে লোকজনকে সতর্ক থাকতে হবে। সচেতনতার অভাবেই মূলত  দুর্ঘটনা ঘটছে।

  • সর্বশেষ