সুমিত কুমার ভৌমিক, অভয়নগর (যশোর) : যশোরের অভয়নগরে এলপিজি গ্যাস সিলিন্ডারের সংকট মারাত্মক আকার ধারণ করেছে। উপজেলার সবচেয়ে বড় বাজার নওয়াপাড়া সহ অন্য বাজারগুলোতে মিলছেনা পর্যাপ্ত সিলিন্ডার। যা পাওয়া যাচ্ছে তাও প্রয়োজনের তুলনায় অনেক কম ও দাম অনেক বেশি।
নওয়াপাড়ার বাসিন্দা রাজিউর রহমান বলেন, কোথাও গ্যাস না পেয়ে গত ৪ দিন ধরে রাইস কুকারে রান্না করে আলু ভর্তা আর ভাত খেয়ে আছি। অবশেষে ইলেকট্রিক চুলা কিনতে বাধ্য হয়েছি। উপজেলার শহরে-গ্রামে একই অবস্থা। কোথাও সিলিন্ডার মিলছেনা।
বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি) নির্ধারিত ১২ কেজি এলপিজি সিলিন্ডারের দাম ১ হাজার ৫ শত ৮৫ টাকা হলেও উপজেলার বিভিন্ন বাজারে বিক্রি হচ্ছে ২ হাজার ৫০০ থেকে ২ হাজার ৯০০ টাকায় । এই বাড়তি দামের জন্য সাধারণ ক্রেতাদের পাশাপাশি বিপাকে পড়েছেন হোটেল রেস্তোরাঁ ব্যবসায়ীরা।
নওয়াপাড়া বাজারের খাবার হোটেল ব্যবসায়ী তরিকুল বলেন, গ্যাস সিলিন্ডার এভাবে বেশি দামে কিনতে হলে আমরা খাবারের দাম বাড়াতে বাধ্য হবো।
ভাঙ্গাগেট এলাকার মুদি দোকানী স্বপন বলেন, উৎপাদন কম হচ্ছে এই অজুহাতে কোম্পানি গুলো আমাদের চাহিদার তুলনায় অনেক কম দিচ্ছে। গ্যাসের সিলিন্ডার কম পাওয়াতে আমরাও ব্যবসায়ীক ক্ষতি হচ্ছে।
সরবরাহ কমের অজুহাতে দাম বেশি হওয়াতে গ্যাস র্নিভর পরিবার গুলোর জীবনে চরম অস্থিরতা বিরাজ করছে। এখন গ্যাস সংকটে বিকল্প হিসাবে ইগনিটর বা বৈদ্যুতিক চুলার দিকে ঝুকছেন তারা। ফলে, বিদ্যুৎ সংকট আরোও ঘনীভূত হচ্ছে।
বেশি দামের জন্য ভোক্তাদের উপর সৃষ্টি হচ্ছে অর্থনৈতিক চাপ।
সাধারন মানুষের অভিযোগ, এই সংকট কাটাতে স্থানীয় প্রশাসনের কার্যকর কোন পদক্ষেপ নেই।
অভয়নগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শেখ সালাউদ্দিন দীপু বলেন, কোথাও গ্যাসের সংকট আছে বলে জানা নেই। অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।