প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

[১] কক্সবাজারের চকরিয়ায় বৃদ্ধকে বিবস্ত্র করে পেটালেন যুবলীগ নেতা

ডেস্ক রিপোর্ট : [২] মঙ্গলবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ওই ভিডিও ভাইরাল হওয়ার পর বিষয়টি সবার নজরে আসে। ভিডিওতে দেখা যায়, ৭২ বছর বয়সী বৃদ্ধ নুরুলকে কিল-ঘুষি মারছে, পরনের লুঙ্গি-গেঞ্জি টেনে ছিঁড়ে ফেলছে সেইসঙ্গে অসভ্য গালিগালাজ করছে ঢেমুশিয়া ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ড যুবলীগের সভাপতি আনছুর আলম (৩৫)।

[৩] ঘটনাটি ঘটেছে ২৪ মে ছয়কুড়িটিক্কা পাড়ায়। আর সে সময় কয়েকজন যুবক তা মোবাইলের ক্যামেরায় ভিডিও ধারণ করছে। কিন্তু ওই বৃদ্ধকে বাঁচাতে এগিয়ে আসেনি।

[৪] উপজেলা যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক কাউছার উদ্দির কছির বলেন, আনছুর আলম ডাকাত ও বিভিন্ন মামলার আসামি বলে শুনেছি। তাই চকরিয়া উপজেলা যুবলীগের পক্ষ থেকে এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে সভাপতির পদসহ সংগঠন থেকে আজীবন বহিষ্কার করার জন্য ঢেমুশিয়া ইউনিয়ন যুবলীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদককে নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

[৫] ঘটনার পর গত ৩১ মে রাতে নুরুল আলমের ছেলে আশরাফ হোসাইন বাদি হয়ে একটি এজাহার দায়ের করেন। এতে বদিউল আলম (৫৫), আনছুর আলম (৩৫), শাহ আলম (৫২), শাহ আলমের স্ত্রী আরেজ খাতুন (৪৮), বদিউল আলমের ছেলে মিজানুর রহমান (২৮), রিয়াজ উদ্দিন (৩২), জয়নাল আবেদিন (৩০) এবং মো. রুবেল (২৮) নামের ৮ জনকে আসামি করা হয়েছে।

[৬] এজাহারে আশরাফ দাবি করেন, ২৪ এপ্রিল আমার বাবা ঈদের বাজার করে ঢেমুশিয়া স্টেশন থেকে টমটম গাড়িতে করে ফিরছিলেন। পথিমধ্যে আনছুর আলমের নেতৃত্বে একদল সন্ত্রাসী টমটম থেকে আমার বাবাকে নামিয়ে নির্জন স্থানে নিয়ে গিয়ে পরনে থাকা লুঙ্গি, গেঞ্জি ছিঁড়ে পেলে। পাশাপাশি মারধর ও অসভ্য গালিগালাজও করে এবং বাবার ব্যবহৃত মোবাইল সেট ও সাড়ে ৭ হাজার টাকাও ছিনিয়ে নেয়। পরে ঘটনাটি শোনার পর আমার ছোট ভাই সিএনজি চালক সালাহউদ্দিন স্থানীয় লোকজনসহ ঘটনাস্থলে গিয়ে আমার বাবাকে উদ্ধার করে স্থানীয় এক চিকিৎসকের কাছে নিয়ে চিকিৎসা করান।

[৭] ঢেমুশিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নুরুল আলম জিকু বলেন, তুচ্ছ একটি ঘটনার জের ধরে এমন অমানবিক আচরণ করা হয়েছে। এলাকার কিছু চিহিৃত সন্ত্রাসী ঘটনাটি ঘটিয়েছে। বিষয়টি আমাকে জানানোর পর থানায় এজাহার দেয়ার জন্য পরামর্শ  দিয়েছি।

[৮] ঘটনার বিষয়ে জানতে আনছুর আলমের মোবাইলে অনেকবার চেষ্টা করা হলেও তার মোবাইল বন্ধ থাকায় বক্তব্য নেয়া সম্ভব হয়নি।

[৯] কক্সবাজারের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ইকবাল হোসাইন বলেন, বিষয়টা আমি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেখেছি। এরপর ভুক্তভোগী ছেলে আশরাফ হোসাইন একটি এজাহারও দিয়েছে। এ ঘটনায় জড়িত মূল ব্যক্তিকে ধরতে পুলিশের একাধিক টিম মাঠে নেমেছে। আশা করছি, সহসাই তাকে আটক করা সম্ভব হবে। তারপরই এ ঘটনার সাথে অন্য কারা কারা জড়িত তাদেরকে আইনের আওতায় আনা হবে। সময়টিভি, রাইজিংবিডি

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত