শিরোনাম
◈ বা‌ঘের গর্জন শুন‌লো অ‌স্ট্রেলিয়া, ডারউইনে ইতিহাস গড়‌লো বাংলাদেশ  ◈ সরকার বল‌ছে জ‌ঙ্গি নেই, তারপ‌রেও বাংলাদেশে জঙ্গি তৎপরতা ও আল কায়েদা ইস্যু আবার কেন আলোচনায়?  ◈ থাইল্যান্ডের বয়স‌ভি‌ত্তিক সাঁতারে বাংলা‌দে‌শের রাফির সোনা জয়  ◈ ভারতে যৌথভাবে পঞ্চম প্রজন্মের যুদ্ধবিমানের ইঞ্জিন বানাবে রিলায়েন্স ও রোলস-রয়েস ◈ ইমরান খান অধিনায়ক থাকলে টেস্টে ৪০০ উইকেট পেতাম, ওয়া‌সিম আকরা‌মের সমালোচনাও করলেন শোয়েব আখতার ◈ অ্যামাজন প্রতিষ্ঠাতা জেফ বেজোস লিভারপুলের মালিকানায় ◈ ঢাকার ১১০ কিমি নৌপথে চালু হচ্ছে বৈদ্যুতিক ওয়াটার বাস, ৪৫টি ল্যান্ডিং পয়েন্ট নির্ধারণ ◈ খুলনা-বরিশালসহ ৬ অঞ্চলে ঝোড়ো হাওয়াসহ বৃষ্টির আভাস ◈ আজ কিশোরগঞ্জে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী ◈ মেঘমুক্ত আকাশে দেখা মিলছে কাঞ্চনজঙ্ঘার, পঞ্চগড়ে বাড়ছে পর্যটকের আনাগোনা

প্রকাশিত : ১৬ আগস্ট, ২০২৬, ১১:১১ দুপুর
আপডেট : ১৬ আগস্ট, ২০২৬, ১২:০০ দুপুর

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

সাইট বন্ধ করেও থামছে না অনলাইন জুয়া, প্রতিদিন খুলছে ৩০–৩৫ নতুন প্ল্যাটফর্ম, অনলাইনে লেনদেন ৫০০ কোটি টাকা

একটি জুয়ার ওয়েবসাইট বন্ধ হওয়ার কয়েক দিনের মধ্যেই নতুন নামে চালু হচ্ছে আরেকটি সাইট। একইভাবে একটি অ্যাপ সরিয়ে দেওয়া হলে ভিন্ন নামে আবার শুরু হচ্ছে কার্যক্রম। প্রযুক্তির এ ফাঁক কাজে লাগিয়ে দেশে দ্রুত বিস্তৃত হচ্ছে অনলাইন জুয়া। পুলিশ বলছে, প্রতিদিন গড়ে ৩০ থেকে ৩৫টি নতুন জুয়ার সাইট খোলা হচ্ছে। সূত্র: আজকের পত্রিকা প্রতিবেদন

সিআইডির সাইবার পুলিশ সেন্টারের (সিপিসি) তথ্যানুযায়ী, ১ মে থেকে ১১ আগস্ট পর্যন্ত দেশে প্রায় ৫৮৬টি অনলাইন জুয়ার সাইট সক্রিয় ছিল। এসব সাইটে জুয়ার লেনদেনে ব্যবহৃত হচ্ছে ৩ হাজার ৮৬৪টি মোবাইল ব্যাংকিং (এমএফএস) হিসাব ও ১৯৮টি ব্যাংক হিসাব।

এসব হিসাবের মাধ্যমে প্রতিদিন ৩০০ থেকে ৫০০ কোটি টাকা লেনদেন হচ্ছে বলে পুলিশের পর্যবেক্ষণ। 

আজকের পত্রিকা এক প্রতিবেদনে জানায়, অনলাইন জুয়ার লেনদেনের বড় একটি অংশ ক্রিপ্টোকারেন্সি ও ডিজিটাল হুন্ডির মাধ্যমে বিদেশে পাচার হচ্ছে। জুয়ার সাইট ও অ্যাপের অনেকগুলোর নিয়ন্ত্রণ দেশের বাইরে থাকায় আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলো নিয়মিত অভিযান চালিয়েও পুরোপুরি বন্ধ করতে পারছে না।

সিআইডির তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, অনলাইন জুয়ার বেশির ভাগ সাইট রাশিয়া, চীন, হংকং, ভিয়েতনাম ও মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশ থেকে নিয়ন্ত্রিত হয়।

দেশে এসব চক্রের এজেন্ট, সাব-এজেন্ট ও প্রত্যন্ত অঞ্চলে নিজস্ব লোক রয়েছে। তারা এমএফএস, ব্যাংক হিসাব ও ক্রিপ্টো ওয়ালেটের মাধ্যমে জুয়ার অর্থ সংগ্রহ করে। পরে তা ক্রিপ্টোকারেন্সিতে রূপান্তর করে বিদেশে পাচার করা হয়।
সিআইডির সাইবার পুলিশ সেন্টারের সাইবার ইন্টেলিজেন্স অ্যান্ড রিস্ক ম্যানেজমেন্ট ইউনিটের তদন্তে এমন একটি চক্রের সন্ধান পাওয়া গেছে। গত ৬ মে ময়মনসিংহ ও কিশোরগঞ্জ থেকে অনলাইন জুয়ার সঙ্গে সম্পৃক্ত চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়।

তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ১৭ মে নরসিংদী ও ঢাকার ধানমণ্ডি থেকে আরো চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তাররা হলেন, আশরাফ উদ্দীন আহম্মেদ, সজীব চক্রবর্তী, আশরাফুল ইসলাম, জসীম উদ্দীন, তৈয়ব খান, সৌমিক সাহা, মো. কামরুজ্জামান ও আবদুর রহমান।

এ ঘটনায় রাজধানীর পল্টন থানায় সাইবার সুরক্ষা অধ্যাদেশে মামলা হয়েছে। তদন্তসংশ্লিষ্ট সিআইডির এক কর্মকর্তা জানান, গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা দীর্ঘদিন ধরে দেশি-বিদেশি বিভিন্ন অনলাইন জুয়ার প্ল্যাটফর্ম নিয়ন্ত্রণ ও পরিচালনা করছিলেন। এসব প্ল্যাটফর্মে বিকাশ, রকেট, নগদসহ এমএফএস, ব্যাংক হিসাব এবং ক্রিপ্টো ওয়ালেটের মাধ্যমে লেনদেন হতো। পরে অর্থ ক্রিপ্টোকারেন্সি ও ডিজিটাল হুন্ডির মাধ্যমে বিদেশে পাচার করা হতো।

সিআইডি জানায়, ওই চক্র চারটি ওয়েবসাইট খুলে জুয়া পরিচালনা করছিল। ওয়েবসাইটগুলোর নিয়ন্ত্রণ ছিল রাশিয়াভিত্তিক একটি চক্রের হাতে। এ চক্র প্রায় ২৫০ কোটি টাকা পাচার করেছে বলে তদন্তে তথ্য পাওয়া গেছে। পাচার হওয়া অর্থ ফেরত আনতে সিআইডি, বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট (বিএফআইইউ) ও আন্তর্জাতিক আইন প্রয়োগকারী সংস্থার সঙ্গে সমন্বয় করা হচ্ছে। এরই মধ্যে চক্রটির আন্তর্জাতিক নেটওয়ার্ক ও সংশ্লিষ্ট ক্রিপ্টো ওয়ালেট শনাক্ত করা হয়েছে।

সিআইডির তথ্যানুযায়ী, একটি এমএফএস হিসাব থেকে ৩০ হাজার থেকে ৫ লাখ বা ১০ লাখ টাকা পর্যন্ত লেনদেন করে জুয়ার চক্রগুলো। কোনো কোনো এজেন্ট নম্বরে এর চেয়েও বেশি অর্থ লেনদেন হয়। সেই হিসাবে ৩ হাজার ৮৬৪টি এমএফএস হিসাব থেকে প্রতিদিন ৩০০ থেকে ৫০০ কোটি টাকা জুয়ার লেনদেনে ব্যবহৃত হচ্ছে বলে সিআইডির পর্যবেক্ষণ। জুয়াড়িরা বিভিন্ন এমএফএস প্রতিষ্ঠানের ব্যক্তিদের সঙ্গে যোগসাজশ করে এজেন্ট নম্বর সংগ্রহ করে। কেউ কেউ আবার দৈনিক ভিত্তিতে এজেন্ট নম্বর ভাড়া নিয়ে জুয়ার টাকা সংগ্রহ করে।

গত ৮ জুন কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারী থেকে মোস্তাক মিয়া নামে এক যুবককে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। তাঁর বিকাশ ও নগদের এজেন্ট ব্যবসা রয়েছে। পুলিশের দাবি, ওই ব্যবসার আড়ালে ১০ থেকে ১১টি অনলাইন জুয়ার সাইটের টাকা তাঁর নম্বরে লেনদেন হতো। এর বিনিময়ে তিনি কমিশন পেতেন। তাঁর বিরুদ্ধে সাইবার সুরক্ষা আইনে মামলা হয়েছে বলে জানান ভূরুঙ্গামারী সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার মুনতাসির মামুন মুন।

অনলাইন জুয়ার ওয়েবসাইট ও অ্যাপ বন্ধে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীর সুপারিশ অনুযায়ী ব্যবস্থা নেয় বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি)। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, ২০২১ সালের অক্টোবর থেকে এ পর্যন্ত অন্তত ৫ হাজার ১০৯টি জুয়ার ওয়েবসাইট ও ৪৫০টি অ্যাপ বন্ধ করেছে সংস্থাটি।

সিআইডির সিপিসি ইউনিটের অতিরিক্ত ডিআইজি মো. সাইফউদ্দীন শাহীন বলেন, সাইবার প্যাট্রল টিম নিয়মিত জুয়ার সাইটগুলো মনিটরিং করে। প্রতিদিন শনাক্ত হওয়া সাইট বন্ধ করতে বিটিআরসিকে তালিকা দেওয়া হয়। ৫৮৬টি সক্রিয় জুয়ার ওয়েবসাইট বন্ধের জন্যও তালিকা দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি এমএফএস হিসাবের বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংককে তথ্য দেওয়া হয়েছে।

তদন্তসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, কোনো ব্যবহারকারী জুয়ার সাইট বা অ্যাপে মোবাইল নম্বর দিয়ে নিবন্ধন করার পর নির্দিষ্ট এমএফএস নম্বর বা ব্যাংক হিসাবে টাকা পাঠিয়ে জুয়ার অ্যাকাউন্টে অর্থ যোগ করেন। জিতলে একই নেটওয়ার্কের মাধ্যমে টাকা ফেরত নেওয়ার সুযোগ থাকে। ফলে শুধু ওয়েবসাইট বন্ধ করলেই পুরো চক্র ভেঙে পড়ে না।

গত ২৪ জুন জাতীয় সংসদে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী জানিয়েছিলেন, অনলাইন জুয়া ও ডিজিটাল হুন্ডির সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার অভিযোগে প্রায় ৫৫ হাজার এমএফএস হিসাবের লেনদেন স্থগিত বা ফ্রিজ করা হয়েছে।

এ বিষয়ে প্রযুক্তিবিদ ও আইনজীবী তানভীর হাসান জোহা বলেন, একটি সাইট বন্ধ করলে অপরাধীরা নতুন সাইট নিয়ে ফিরে আসতে পারে। তাই শুধু সাইট বা অ্যাপ বন্ধ না করে ব্যবহারকারী, এজেন্ট, এমএফএস, ব্যাংক হিসাব ও অর্থের গন্তব্য—পুরো চেইনকে আইনের আওতায় আনতে হবে। এতে জুয়ার নেপথ্যের মূল হোতাদের শনাক্ত করা সম্ভব হবে। তবে এ ধরনের তদন্ত সময়সাপেক্ষ ও জটিল হওয়ায় মামলার অগ্রগতি ধীর হয়।

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়