শিরোনাম
◈ ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় আজও বৃষ্টির সম্ভাবনা ◈ বিরোধীদের চাপে নতি স্বীকার, ছাত্র আন্দোলন নিয়ে সংসদে আলোচনায় রাজি মোদি সরকার ◈ কিউবার পরিণতি ইরানের মতো হতে পারে, সতর্ক করছে মার্কিন গোয়েন্দারা ◈ বাংলাদেশের সঙ্গে ব্যবসা স্থগিতের সিদ্ধান্ত বাতিল করল পোলিশ ব্র্যান্ড এলপিপি ◈ সাভার-আশুলিয়া শিল্পাঞ্চলে মাদকের ভয়াবহ বিস্তার: বাড়ছে চুরি-ছিনতাই ও আইনশৃঙ্খলা ঝুঁকি ◈ মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার খুলতেই নতুন সিন্ডিকেটের তৎপরতা, জনপ্রতি চাঁদা ১৭ কোটি টাকা ◈ মোবাইল ব্যাংকিংয়ে সন্দেহজনক লেনদেন ধরবে এআই, নজরে থাকবে অবস্থানও ◈ শহীদদের স্বপ্নের বাংলাদেশ গড়তে দায়িত্বশীল আচরণের আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর ◈ মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রীর দ্রুত আরোগ্য কামনা করেছেন তারেক রহমান ◈ বিতর্কিত মালিকদের হাতে ফিরছে না একীভূত ৫ ব্যাংকের মালিকানা: মন্ত্রিসভায় অনুমোদন

প্রকাশিত : ১১ আগস্ট, ২০২৬, ০৭:৪৫ সকাল
আপডেট : ১১ আগস্ট, ২০২৬, ০৮:৫৮ সকাল

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

পুলিশ পরিচয়ে নতুন প্রতারণার ফাঁদ, মামলা-ভেরিফিকেশনের ভয় দেখিয়ে হাতিয়ে নিচ্ছে টাকা

‘আমি পুলিশ হেডকোয়ার্টার থেকে এসআই হুমায়ুন কবির বলছি...’, ‘মিরপুর থানার ওসি ফরমান আলী বলছি...’ কিংবা ‘অতিরিক্ত পুলিশ সুপার বলছি...’। ফোনের ওপাশ থেকে এমন পরিচয় শুনে অনেকেই প্রথমে বিশ্বাস করে বসেন।

এরপর শুরু হয় ধাপে ধাপে নির্দেশনা। কখনো হোয়াটসঅ্যাপের সেটিংসে যেতে বলা হয়, কখনো ফোনের বিভিন্ন অপশন চালু করতে বলা হয়।

উদ্দেশ্য একটাই, কৌশলে ভুক্তভোগীর ডিভাইস ও ব্যক্তিগত তথ্যের নিয়ন্ত্রণ নেওয়া।

আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পরিচয় ব্যবহার করে পরিচালিত এই নতুন প্রতারণার ফাঁদে প্রতিনিয়ত টার্গেট হচ্ছে সাধারণ মানুষ।

কেউ সচেতন থাকায় রক্ষা পাচ্ছেন, আবার কেউ হারাচ্ছেন ব্যক্তিগত তথ্য, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের নিয়ন্ত্রণ, এমনকি অর্থও।

সম্প্রতি এমনই প্রতারণার শিকার হয়েছেন বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে কর্মরত পারুল আক্তার।

পুলিশ হেডকোয়ার্টার পরিচয়ে ফোন করে মামলার ভয় দেখিয়ে এবং তদন্তের নামে বিভিন্ন তথ্য ও ভেরিফিকেশন কোড আদায় করে তার বিকাশ অ্যাকাউন্ট থেকে টাকা হাতিয়ে নেয় প্রতারকরা।
গত ১ আগস্ট দুপুরে পুলিশ হেডকোয়ার্টার থেকে এসআই হুমায়ুন কবির পরিচয়ে মেহেদি মাসুদ করিমের হোয়াটসঅ্যাপে কল করে তার ফোন নম্বর পুলিশ হেডকোয়ার্টারের ‘মূল সার্ভারে’ যুক্ত হয়ে গেছে বলে দাবি করা হয়। পরে তাকে কিছু নির্দেশনা মানতে বলা হলেও বিষয়টি বুঝতে পেরে তিনি দ্রুত ফোন কেটে দেন।

এর আগে গত ১২ জুন মিরপুর থানার ওসি ফরমান আলী পরিচয়ে মো. গুলজারের হোয়াটসঅ্যাপে কল করে তার নম্বর থেকে পুলিশের এক কর্মকর্তাকে ছবি ও বিভিন্ন বার্তা পাঠানোর অভিযোগ তোলা হয়। এরপর হোয়াটসঅ্যাপের সেটিংসে গিয়ে ফোন ‘ঠিক করে দেওয়ার’ কথা বলে প্রতারকরা কৌশলে তার ফোনের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার চেষ্টা করে। তবে সহকর্মীদের সতর্কতায় তিনি ফোন কেটে দিয়ে নম্বরটি ব্লক করে দেন।

মামলার ভয় দেখিয়ে বিকাশের টাকা হাতিয়ে নেওয়া

গত ৩০ জুলাই দুপুরে ০১৩৫১৬৬৪৪০৫ নম্বর থেকে পারুল আক্তার নামে এক নারীকে ফোন করে নিজেকে উত্তরা ট্রাস্ট সুপারশপের ম্যানেজার পরিচয় দেন এক ব্যক্তি। বলা হয়, ভুল করে ওই নারীর মোবাইল নম্বর দিয়ে একটি মামলার তথ্য দেওয়া হয়েছে।

এর প্রায় দুই মিনিট পর ০১৩৫১৬৬৪৪০৭ নম্বর থেকে পুলিশ হেডকোয়ার্টার পরিচয়ে ফোন আসে। অপর প্রান্তের ব্যক্তি নিজেকে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার পরিচয় দিয়ে জানান, ওই নারীর মোবাইল নম্বর ও জাতীয় পরিচয়পত্র ব্যবহার করে একটি বিকাশ অ্যাকাউন্ট খোলা হয়েছে, যা একটি মামলার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট।

ওই নারী জানান, ট্রাস্ট বাজারের সঙ্গে তার কোনো লেনদেন নেই এবং ম্যানেজারের ভুলের কারণেই তার নম্বর ব্যবহৃত হয়েছে। তিনি ম্যানেজারের বিরুদ্ধে অভিযোগ করতে চাইলে কল করা ব্যক্তি জানান, আপাতত তার বিরুদ্ধে একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) রাখা হবে। এরপর তদন্তের কথা বলে তাকে কল না কেটে লাউডস্পিকারে রাখতে বলেন এবং বিকাশ থেকে আসা এসএমএসের ভেরিফিকেশন কোড পড়ে শোনাতে নির্দেশ দেন। পরপর দুটি এসএমএসে আসা ছয় সংখ্যার কোড তিনি তাদের জানিয়ে দেন।

পরে তারা ওই নারীর বিকাশ অ্যাকাউন্ট কোথা থেকে খোলা হয়েছিল এবং অ্যাকাউন্ট খোলার সময় পাওয়া ফর্ম নম্বর সংরক্ষণ করা আছে কি না, তা জানতে চান। এরপর মোবাইলের ক্যালকুলেটর খুলে বিভিন্ন সংখ্যা দিয়ে হিসাব করতে বলেন এবং ফলাফলের প্রথম কয়েকটি সংখ্যা জানাতে নির্দেশ দেন। এসব তথ্য তাদের ‘সার্ভারে’ জমা হচ্ছে বলেও দাবি করেন তারা।

একপর্যায়ে প্রতারকরা তার বিকাশ অ্যাকাউন্টে সর্বশেষ কত টাকা ছিল, তা জানতে চাইলে ওই নারীর সন্দেহ হয়। তিনি জানতে চান, কীভাবে নিশ্চিত হবেন যে তারা সত্যিই পুলিশ। জবাবে তারা দাবি করেন, প্রতারকরা বিকাশের অফিসিয়াল এসএমএস পাঠাতে পারে না এবং তারা যেহেতু বিকাশের পিন নম্বর চাইছেন না, তাই তাদের বিশ্বাস করা যায়।

শেষে প্রতারক চক্র জানায়, ভেরিফিকেশন শেষ হয়েছে এবং তার দেওয়া সব তথ্য তাদের ‘সার্ভারে’ সফলভাবে জমা হয়েছে। এরপর আর কোনো এসএমএস পাঠানো হবে না বলেও জানান তারা। এর মাঝে প্রতারক চক্র দুইবার মোবাইল থেকে টাকা হাতিয়ে নেয়। এই ফোন আলাপের ১৬ মিনিটের রেকর্ড বাংলানিউজের হাতে এসেছে।

১৬ মিনিট কথা বলে দুই দফায় ৯৯৯ টাকা

ভুক্তভোগী বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে কর্মরত পারুল আক্তার বলেন, অফিসে কাজ করার সময় ০১৩৫১৬৬৪৪০৫ নম্বর থেকে কল আসে। নিজেকে উত্তরা ট্রাস্ট সুপারশপের ম্যানেজার পরিচয় দিয়ে বলা হয়, ভুল করে আমার নম্বর দিয়ে মামলা করা হয়েছে।

তিনি বলেন, দুই মিনিট পর ০১৩৫১৬৬৪৪০৭ নম্বর থেকে পুলিশ হেডকোয়ার্টার পরিচয়ে কল আসে। প্রায় ১৬ মিনিট কথা বলে নানা কৌশলে তারা আমার বিকাশ অ্যাকাউন্ট থেকে দুই দফায় ৯৯৯ টাকা করে হাতিয়ে নেয়। সন্দেহ হলেও কথার ফাঁকে তারা আমাকে বিভ্রান্ত করে।

পারুল বলেন, প্রশাসনের কাছে অনুরোধ, এ চক্র দ্রুত শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা হোক। পাশাপাশি পুলিশ পরিচয়ে ফোন, মামলা বা ভেরিফিকেশনের নামে প্রতারণা নিয়ে ব্যাপক জনসচেতনতা তৈরি করা জরুরি, যাতে আর কেউ এমন প্রতারণার শিকার না হন।

‘আপনার নম্বর পুলিশ হেডকোয়ার্টারের মূল সার্ভারে’

১ আগস্ট দুপুরে মেহেদি মাসুদ করিমের হোয়াটসঅ্যাপে আসে এমনই একটি কল। ফোনের অপর প্রান্ত থেকে বলা হয়, ‘আমি পুলিশ হেডকোয়ার্টার থেকে এসআই হুমায়ুন কবির বলছি। আপনি কি আপনার ফোনটা কোনো ছোট বাচ্চার হাতে দিয়েছিলেন? ও হয়তো টিপাটিপি করেছে। আপনার ফোন নম্বর পুলিশ হেডকোয়ার্টারের মূল সার্ভারে যুক্ত হয়ে গেছে।’

জবাবে মেহেদি বলেন, ‘ও আচ্ছা। এই খবর! এখন আমাকে কী করতে হবে?’ তখন ফোনের ওপাশ থেকে বলেন, ‘আমি এখন আপনাকে কিছু নির্দেশনা দিচ্ছি। আপনি নির্দেশনাগুলো মেনে কাজ করুন। তাহলে আপনি দ্রুত সার্ভার থেকে বেরিয়ে যেতে পারবেন।’ এরপর মেহেদি বলেন, ‘দুঃখিত, আপনি ভুল নম্বরে ডায়াল করেছেন।’

মেহেদি মাসুদ করিম বলেন, ১ আগস্ট দুপুর ১২টা ২৮ মিনিটে ০১৮৩৫১৬৪৬৮২ নম্বর থেকে আমার হোয়াটসঅ্যাপে একটি কল আসে। নিজের পরিচয় দিয়ে ছেলেটি এভাবেই কথা বলতে শুরু করে। আমার আর বুঝতে বাকি রইল না ঘটনা কী! ব্যস্ত থাকার কারণে কথা না বাড়িয়ে দ্রুত লাইন কেটে দিই।

‘আপনার নম্বর থেকে এসিকে ছবি পাঠানো হচ্ছে’

চলতি বছরের ১২ জুন বিকেলে ভুক্তভোগী মো. গুলজারের হোয়াটসঅ্যাপ নম্বরে একটি অপরিচিত নম্বর থেকে ফোন আসে। ওই প্রান্ত থেকে বলা হয়, ‘আপনার নম্বর থেকে আমার এক স্যারের নম্বরে মেসেজ আসছে। আমি মিরপুর থানার ওসি ফরমান আলী বলছি। আমার নম্বরে আপনার এই ফোন নম্বর থেকে আমার স্যারকে, এসি স্যারকে বিভিন্নভাবে, বিভিন্ন ছবি-টবি, হাবিজাবি এইসব পাঠাচ্ছে।’ সে সময় ভিকটিম গুলজার বলেন, ‘আমার ফোন তো আমার হাতেই।’

ওই প্রান্ত থেকে বলা হয়, ‘আপনি করেন নাই, কিন্তু এইটা আপনার নম্বর থেকে আসতেছে যেহেতু, আপনি এক কাজ করেন… আপনি হোয়াটসঅ্যাপে ওপরে তিনটা ডট চিহ্ন আছে, ওই জায়গায় ক্লিক করেন। আমি আপনার এই ফোনটা ঠিক করে দিই, যাতে এইরকম কোনো মেসেজ আর না আসে, আপনার ফোন থেকে না যায়।’

ভুক্তভোগী মো. গুলজার বলেন, ‘আমি কাজে ব্যস্ত ছিলাম। আমার সঙ্গে চার-পাঁচজন সহকর্মী ছিল। তারা সে সময় বলেন, ফোন কাটেন। এটা প্রতারক, হ্যাক করবে। আমি সঙ্গে সঙ্গে ওই নম্বরটা ব্লক করে দেই। আমার সঙ্গে যারা ছিলেন, তাদের সঙ্গে এরকম হয়েছে। এ কারণেই তারা বুঝতে পেরেছেন যে, এটা প্রতারক চক্র।’

‘পুলিশের সরকারি ফোন নম্বরের ধরন আছে’

ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশন্স বিভাগের অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার নিয়াজ মেহেদী বাংলানিউজকে বলেন, পুলিশ সদর দপ্তরের মিডিয়া সেল কিছুদিন আগে এ ধরনের প্রতারণার বিষয়ে সতর্কতা জারি করেছে। পুলিশের পরিচয় বা ছবি ব্যবহার করে প্রতারকরা বিভিন্নভাবে মানুষকে হয়রানি ও অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করছে।

তিনি বলেন, পুলিশের সরকারি ফোন নম্বরের একটি নির্দিষ্ট সিরিয়াল রয়েছে। যেমন, পুলিশের অনেক সরকারি নম্বর ০১৩২০০, ০১৩২০১ দিয়ে শুরু হয়। তাছাড়া পুলিশ সাধারণত অপ্রয়োজনে বা বিনা কারণে কাউকে ফোন করে না। কোনো প্রয়োজনে ফোন করা হলে কী কারণে যোগাযোগ করা হচ্ছে, সেটি যাচাই করে নেওয়া উচিত।

নিয়াজ মেহেদী বলেন, প্রতারকরা বিভিন্ন কথা বলে মানুষকে ভয়ভীতি দেখায়। এসব কথায় বিশ্বাস করে কোনো ধরনের টাকা-পয়সার লেনদেন না করার জন্য বলা হয়েছে। পুলিশের পরিচয় ব্যবহার করলেও কাউকে টাকা দেওয়া যাবে না।

তিনি বলেন, প্রতারকদের মূল লক্ষ্য থাকে মিথ্যা পরিচয় দিয়ে টাকা হাতিয়ে নেওয়া। সেটা বিকাশ, মোবাইল ব্যাংকিং বা নগদ যেভাবেই হোক, কোনো ধরনের টাকা-পয়সার লেনদেন করা যাবে না। কেউ এ ধরনের প্রতারণার শিকার হলে থানায় গিয়ে অভিযোগ করতে পারেন। আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এক প্রশ্নের জবাবে পুলিশের এই কর্মকর্তা বলেন, প্রতারকরা ওয়্যারলেসের শব্দ বা বিভিন্ন ধরনের সাউন্ড ইফেক্ট ব্যবহার করেও নিজেদের আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য হিসেবে উপস্থাপন করতে পারে। তাই কেউ পুলিশের পরিচয়ে ফোন করলে পরিচয় ও ফোন নম্বর ক্রসচেক করে নেওয়া উচিত। পাশাপাশি টাকা পাঠানোর জন্য কোনো নম্বর বা অ্যাকাউন্ট দেওয়া হলে কোনোভাবেই সেখানে অর্থ পাঠানো যাবে না।

প্রতারণার এই কৌশল নতুন নয়

অপরাধ বিশেষজ্ঞ ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজকল্যাণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের সহযোগী অধ্যাপক ড. তৌহিদুল হক বাংলানিউজকে বলেন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, র‍্যাব কিংবা সেনাবাহিনীর পরিচয় ব্যবহার করে ভয়ভীতি দেখিয়ে অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার ঘটনা নতুন নয়। তবে সাম্প্রতিক সময়ে এ ধরনের প্রতারণা বড় আকার ধারণ করেছে।

তিনি বলেন, রাজনৈতিক বা সামাজিক কোনো সংকটকে কাজে লাগিয়ে প্রতারকরা মানুষের মধ্যে ভয় ও উদ্বেগ তৈরি করে। কাউকে কোনো রাজনৈতিক দলের অনুসারী হিসেবে চিহ্নিত করা, হামলা-হয়রানির ভয় দেখানো কিংবা অন্য কোনো বিপদের আশঙ্কা তৈরি করে তারা অর্থ দাবি করে থাকে। এসব ফোন সাধারণত প্রান্তিক পর্যায়ের মানুষের কাছেই বেশি যায়।

ড. তৌহিদুল হক বলেন, প্রতারকরা বিভিন্ন উৎস থেকে মোবাইল নম্বর সংগ্রহ করে। মোবাইল ব্যাংকিংয়ের এজেন্টদের মাধ্যমে নম্বর সংগ্রহের পাশাপাশি কোনো কোনো ক্ষেত্রে এসব সেবার সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদের কাছ থেকেও তথ্য সংগ্রহের অভিযোগ রয়েছে। এরপর মোবাইল নম্বরের সূত্র ধরে ভোটার আইডিসহ বিভিন্ন প্রাথমিক তথ্য সংগ্রহ করে লক্ষ্য করা ব্যক্তিকে ফোন করা হয়।

তিনি বলেন, এটি এক ধরনের ডিজিটাল ক্রাইম। প্রযুক্তিনির্ভর এসব অপরাধে মানুষের বর্তমান উদ্বেগ ও ভয়কে কাজে লাগানো হচ্ছে। রাজনৈতিক পরিচয়, পেশা, চাকরি, পারিবারিক বা সামাজিক বিষয়; যে ক্ষেত্রেই মানুষের উদ্বেগ থাকুক না কেন, প্রতারকরা সেটিকে কাজে লাগিয়ে মনস্তাত্ত্বিক চাপ তৈরি করছে।

এ ধরনের প্রতারণা নিয়ন্ত্রণ করা জরুরি। কারণ, এতে সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক তৈরি হওয়ার পাশাপাশি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ভাবমূর্তিও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। অনেকেই বিষয়টি সত্য ধরে নিয়ে অর্থ দিয়ে সমস্যার সমাধানের চেষ্টা করেন। ফলে বাস্তবে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা না করলেও তাদের পরিচয় ব্যবহার করে প্রতারকরা এক ধরনের চাঁদাবাজি করছে, এমন ধারণা তৈরি হতে পারে, বলেন এই অপরাধ বিশেষজ্ঞ।

এমন অপরাধ ঠেকাতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পোশাক বিক্রির বিষয়েও নজরদারি বাড়ানোর পরামর্শ দেন তৌহিদুল হক। তিনি বলেন, বিভিন্ন বাহিনীর পোশাক কারা কিনছে, কী উদ্দেশ্যে ব্যবহার করবে এবং তাদের যোগাযোগের তথ্য সংরক্ষণ করা প্রয়োজন। প্রয়োজনে এলোমেলোভাবে কিছু ক্রেতার তথ্য যাচাই করে দেখা যেতে পারে, তারা যে উদ্দেশ্যে পোশাক কিনেছেন, সেটিই অনুসরণ করছেন কি না।

তিনি আরও বলেন, প্রতারক চক্রকে শনাক্ত করে তাদের বিরুদ্ধে অভিযান চালিয়ে গ্রেপ্তার ও আইনের আওতায় আনতে হবে। এ ক্ষেত্রে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর গোয়েন্দা তৎপরতা বাড়ানোর পাশাপাশি প্রযুক্তির কার্যকর ব্যবহার প্রয়োজন।

সূত্র: বাংলানিউজ টোয়েন্টিফোর.কম

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়