শিরোনাম
◈ ১৮ আগস্ট থেকে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে চালু হচ্ছে এআই ‘অটো ফাইন সিস্টেম’ ◈ ভারতীয় ক্রিকেট বো‌র্ডের প্রধান নির্বাচকের দৌড়ে জহির খান ◈ বিভ্রান্ত করবেন না, সঠিক পরিকল্পনা আনুন বাস্তবায়ন করব: বিরোধীদলের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী ◈ শিক্ষার্থীদের ব্যাংক হিসাবে বাড়ছে সঞ্চয়, জুনে নতুন হিসাব ১ লাখ ১৮ হাজার ◈ শেখ মুজিবকে হত্যার আগে অস্থির ছিল বাংলাদেশ, ঘটেছিল যেসব ঘটনা ◈ গুলিভর্তি ব্যাগ নিয়ে শাহজালাল বিমানবন্দর পার আশিয়ান গ্রুপের চেয়ারম্যান, দায়িত্বে থাকা দুই স্ক্রিনারের বিরুদ্ধে শাস্তির সুপারিশ ◈ বিএনপি ৩১ দফা দেয়, পূরণ করে ৩২ দফা পর্যন্ত: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ◈ মন্ত্রিসভা পুনর্গঠনে প্রধানমন্ত্রীর সিদ্ধান্তের অপেক্ষা, আলোচনায় একাধিক নাম ◈ বিশেষ সতর্কবার্তা ইসলামিক ফাউন্ডেশনের ◈ শিক্ষকদের অশ্রু মুছতে আজ ২ হাজার ১০০ কোটি টাকা দেওয়া হচ্ছে: শিক্ষামন্ত্রী

প্রকাশিত : ১৫ আগস্ট, ২০২৬, ০৮:৪৩ রাত
আপডেট : ১৫ আগস্ট, ২০২৬, ০৯:০০ রাত

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

রেলের ভেলুয়ারদীঘিতে ‘বড়শি প্রতিযোগিতা’র নামে জুয়া 

এম আর আমিন, চট্টগ্রাম : চট্টগ্রামের পাহাড়তলি ভেলুয়ার দীঘিতে বড়শি দিয়ে মাছ ধরার প্রতিযোগিতার নামে চলছে জমজমাট জুয়ার আসর। এ আসর থেকে হাতিয়ে নেওয়া হচ্ছে লাখ লাখ টাকা। স্থানীয়দের অভিযোগ, ভেলুয়ার দীঘিটি রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের। মাছ চাষের নামে লিজ নিয়ে এ দীঘিতে বড়শি প্রতিযোগিতার নামে জুয়ার আসর বসানো হচ্ছে। এ নিয়ে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষের কোনো মাথাব্যথা নেই।

এই অপকর্ম বন্ধে একটি চিঠি ইস্যু করে দায় সারছে রেলওয়ের ভূসম্পত্তি বিভাগ, তবে এই জুয়ার আসরে রেলের শীর্ষ কর্মকর্তাদের মৌন সম্মতি আছে বলেও মনে করছেন স্থানীয়রা। 

৩০ লাখ টাকার ১৭টি পুরস্কারের লোভ দেখিয়ে প্রতি টিকিটের দাম রাখা হয়েছে ৭৫ হাজার টাকা। বেআইন এই কার্যক্রম চালাতে সংশ্লিষ্ট দপ্তরের কর্মকর্তা ও আইন শৃঙ্খলা বাহিনীকে ম্যানেজ করা হয়েছে বলে বিশ্বস্ত একাধিক সূত্র নিশ্চিত করেছে। পলাতক আওয়ামী লীগ নেতা সাবেক কাউন্সিলার আব্দুস সবুর লিটন পৃষ্ঠপোষকতায় স্থানীয় কতিপয় বিএনপি নেতার সহায়তায় এই অপকর্মের মাধ্যমে আদায়কৃত অর্থের বড় একটি অংশ হাতিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করছে বলেও সূত্র দাবি করছে। 

জানা যায়, দিঘিটি ২০২১ সালে দলীয় প্রভাব খাটিয়ে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের (চসিক) সাবেক প্যানেল মেয়র আব্দুস সবুর লিটন তার ভাই আব্দুল মান্নান খোকনের নামে ইজারা গ্রহণ করে। তখন থেকেই নিয়মিত জুয়ার আসর বসিয়ে পাবলিকের পকেট থেকে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছে। সেই লোভ ছাড়তে না পেরে এবার স্থানীয় কতিপয় বিএনপি নেতার ছত্রছায়ায় আবারো এই ধান্দা শুরু করেছেন। তবে আগের প্রতি টিকিটের মূল্য ৪০ হাজার টাকা থাকলেও এবার অনেককেই ভাগ দিতে হবে বলে প্রতি টিকিটের মূল্য রাখা হয়েছে ৭৫ হাজার টাকা।

বিশেষ সূত্রে জানা যায়, ১৩.৭৪ একর আয়তনের এই জলাশয়টি রেলের ২য় বৃহত্তম দিঘি। এখানে লিজের শর্ত ভেঙে বড়শি প্রতিযোগিতার নামে ১১২ টি সিট বানানো হয়েছে। মাসে চার দিন (প্রতি শুক্রবার) এই খেলা চালানোর জন্য সপ্তাহে একদিনের জন্য ৮৪ লাখ, মাসে প্রায় সাড়ে ৩ আর বছরে ৪০ কোটি টাকা অনৈতিকভাবে হাতিয়ে নিচ্ছে আব্দুস সবুর লিটন চক্র। প্রতিযোগিতার পুরস্কার ও আনুসাঙ্গিক খরচ ছাড়াও স্থানীয় পাতি নেতা এবং সরকারি বিভিন্ন দপ্তরে কিছু সম্মানি দিয়ে বাকি টাকাটা পলাতক লিটেনের কাছে পাঠানো হবে বলে সূত্র দাবি করছে। 

এবিষয়ে জানতে চাইলে বাংলাদেশ রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের প্রধান ভূসম্পত্তি কর্মকর্তা (সিইও) মোহাম্মদ  লুৎফুর রহমান বলেন, রেলের জলাশয়ে বড়শি প্রতিযোগিতার নামে জুয়া খেলা সম্পূর্ণ বেআইনি। এটা ইজারা শর্ত ভঙ্গ, কিছুতেই এমন অপকর্ম চলতে দেওয়া হবে না।তবে বড়শি প্রতিযোতিার নামে জুয়া বন্ধের জন্য সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।এদিকে ডিইও অফিস থেকে পাঠানো চিঠিতে বলা হয়েছে, সদর কাচারি আমিন ও কানুনগোর প্রতিবেদন এবং নথি পর্যালোচনা করে দেখা যায় যে, লাইসেন্সী জনাব আব্দুল মান্নান খোকন, ২০২১ সালের ১৪ অক্টোবর তারিখ থেকে চলতি বছরের ১৩ অক্টোবর পর্যন্ত বৈধ লাইসেন্সি। পুকুরটিতে অবৈধভাবে বড়শি প্রতিযোগিতা আয়োজন করা হয়েছে। সদর কাচারীর ফিল্ড কানুনগো/আমিন মৌখিকভাবে বাধা প্রদান করেন। বড়শিতে মাছ ধরার আয়োজন, টিকিট বিক্রি এবং জুয়ার আসর বসানো লাইসেন্সের শর্ত ভঙ্গের সামিল। যেহেতু বাংলাদেশ রেলওয়ের ভূ-সম্পত্তি নীতিমালা” ২০২০ এর আলোকে মৎস্য লাইসেন্সের চুক্তিপত্র লঙ্গন করা হয়েছে। চুক্তিপত্রের ১নং শর্ত হতে ২৫ নং শর্তে কোন মৎস্য লাইসেন্সী মৎস্য লাইসেন্সে বড়শি প্রতিযোগিতা/জুয়া করা যাবে না। তবুও লাইসেন্সী কর্তৃক বড়শি প্রতিযোগীতা বা প্রাইজমানির টিকেটের ব্যবস্থা করা হয়েছে। তাহা অতি দ্রুত রেলওয়ে নিরাপত্তাবাহিনী/স্থানীয় প্রসাশনের মাধ্যমে উক্ত বড়শি প্রতিযোগিতা/ জুয়া বন্ধ করার জন্য ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। এই বড়শি প্রতিযোগিতার মাধ্যমে রেলওয়ের সম্পত্তিতে অনিয়ন্ত্রিত জনসমাগম সৃষ্টি হয়ে বিশৃঙ্খলা, আইনশৃঙ্খলার অবনতি এবং অনাকাঙিক্ষত পরিস্থিতি সৃষ্টি হওয়ার যথেষ্ট আশঙ্কা রয়েছে। একই সঙ্গে পুকুরের পাড়ে অতিরিক্ত মানুষের অবস্থানের কারণে দুর্ঘটনা, মারামারি/বিরোধ, রেলওয়ের সম্পত্তির ক্ষতিসাধন এবং পরিবেশের ক্ষতির সম্ভবনা রয়েছে। অতিদ্রুত তা বন্ধ করার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে। 

 অনুলিপি রেলের ডিজি, পূর্বাঞ্চলের জিএম, প্রধান ভূ-সম্পত্তি কর্মকর্তা (পূর্ব), চিফ কমানডেন্ট আরএনবি, বিভাগীয় রেলওয়ে ব্যবস্থাপক (ডিআরএম),আরএনবি, ওসি ডবলমুরিং থানা, পাহাড়তলী থানা ও জিআরপি চট্টগ্রামকে (বড়শি প্রতিযোগিতা তথা জুয়া বন্ধ করার প্রয়োজনী ব্যবস্থা গ্রহনের জন্য বলা হয়েছে। 

এবিষয়ে জানতে রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের মহা ব্যবস্থাপক (জিএম) মো. সুবক্তগীন বলেন, সিইও এবং ডিআরএম/চট্টগ্রামকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য নির্দেশনা দিয়েছি। 

এ বিষয়ে জানতে চাইলে চট্টগ্রামের বিভাগীয় রেলওয়ে ম্যানেজার (ডিআরএম) মো. মোস্তাফিজুর রহমান ভূঁইঞা বলেন, ইজারার শর্ত কী রয়েছে, তা খতিয়ে দেখতে ডিইওকে বলা হয়েছে। একই সঙ্গে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার জন্যও নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়