নুর উদ্দিন, সুনামগঞ্জ : গুরুত্বপূর্ণ শিল্প অবকাঠামো ছিল ছাতক-ভোলাগঞ্জ রোপওয়ে (রজ্জুপথ)। সীমান্তবর্তী ভোলাগঞ্জ থেকে পাথর পরিবহনের জন্য নির্মিত ১৯ কিলোমিটার দীর্ঘ এই রোপওয়ে এখন দীর্ঘদিনের অবহেলা, লুটপাট ও যন্ত্রাংশ চুরিতে ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে।
সরেজমিনে দেখা যায়, রোপওয়ের অধিকাংশ স্থাপনা পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে আছে। কোথাও ট্রেসেল হেলে পড়েছে, কোথাও নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। তারের বিভিন্ন অংশ ছিঁড়ে গেছে। শত শত বাকেট মাটিতে পড়ে মরিচা ধরে নষ্ট হচ্ছে। লোডিং স্টেশন, কন্ট্রোল রুম ও বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যবস্থাও দীর্ঘদিন ধরে অচল।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ১৯৬৪ থেকে ১৯৭০ সালের মধ্যে নির্মিত রোপওয়েটি মুক্তিযুদ্ধের সময় ক্ষতিগ্রস্ত হয়। পুনর্বাসনের পর ১৯৮০ সালে এটি আবার চালু করা হয়। ১২০টি ট্রেসেল, চারটি স্টেশন ও ৪২৫টি বাকেটের মাধ্যমে বছরে প্রায় ১২ লাখ ঘনফুট পাথর পরিবহনের সক্ষমতা ছিল। সর্বশেষ ২০১৩ সালের ৩১ ডিসেম্বর পাথর পরিবহনের পর এটি পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায়।
বাংলাদেশ রেলওয়ের নথি অনুযায়ী, রোপওয়ে ও পাথর কোয়ারি এলাকায় রেলওয়ের মোট ১ হাজার ২৭ দশমিক ৩৩ একর জমি রয়েছে। দীর্ঘদিন তদারকি না থাকায় এসব জমিও দখলের ঝুঁকিতে রয়েছে বলে স্থানীয়দের অভিযোগ। ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর রোপওয়ের বাঙ্কার এলাকায় ব্যাপক লুটপাট ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে।
রেলপথের নির্বাহী প্রকৌশলী (ছাতক) আহসান হাবিব বলেন, কারিগরি সমস্যার কারণে রোপওয়ের কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যায়। ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর বিভিন্ন মালামাল লুটের ঘটনাও ঘটে। রোপওয়েটি পুনরায় চালুর বিষয়ে আপাতত ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কোনো সিদ্ধান্ত বা উদ্যোগ নেই।