স্পোর্টস ডেস্ক : আগামী সেপ্টেম্বরে ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ডের প্রধান নির্বাচক হিসেবে অজিত আগারকারের চুক্তির মেয়াদ শেষ হতে চলেছে। তবে আগামী বছরে অনুষ্ঠেয় ওয়ানডে বিশ্বকাপের আগে তার মেয়াদ আরও এক বছর বাড়ানোর বিষয়ে আলোচনা শুরু হয়। এমন পরিস্থিতিতে নির্বাচন কমিটির চেয়ারম্যান হিসেবে অজিত আগরকারের চুক্তি নবায়ন না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিসিসিআই। বিভিন্ন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই শূন্যপদ পূরণের দৌড়ে এগিয়ে আছেন দেশটির সাবেক ক্রিকেটার জহির খান।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মেয়াদ শেষে আগরকার এই দায়িত্ব থেকে সরে দাঁড়াবেন। এর আগে বিভিন্ন প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল, প্রধান নির্বাচকের পদের বিষয়ে বিসিসিআই ও জহির খানের মধ্যে আলোচনা চলছে। ২০২৩ সালের ৪ জুলাই আগরকারের চুক্তির মেয়াদ শুরু হয়েছিল। আগামী সেপ্টেম্বরে এই পদে তার তিন বছর পূর্ণ হবে।
নিয়ম অনুযায়ী তিনি আরও এক বছরের মেয়াদ বৃদ্ধির যোগ্য।
এনডিটিভি স্পোর্টসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, আগরকারের স্থলাভিষিক্ত হিসেবে জহির খানের নামও উঠে এসেছে। আগরকার যদি তার পদ ধরে রাখতে ব্যর্থ হন এবং লক্ষ্মণকে ‘ডিরেক্টর অফ ক্রিকেট’ বা ক্রিকেট পরিচালক করা হয়, তাহলে জহির খানকে নিয়ে আলোচনা হতে পারে। মেয়াদ বৃদ্ধির যোগ্যতা থাকা সত্ত্বেও, বোর্ড তাকে সেই সুযোগ না দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বলে জানা গেছে।
শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ভারতের টেস্ট সিরিজ শেষ হওয়ার পর বিসিসিআই-এর কর্মকর্তারা আগরকারের সঙ্গে বৈঠক করবেন বলে আশা করা হচ্ছে। যেখানে বোর্ডের সঙ্গে তার ভবিষ্যৎ নিয়ে আনুষ্ঠানিক আলোচনা হবে। প্রধান নির্বাচকের পদের প্রতি হরভজন সিংয়ের আগ্রহের কথাও শোনা যাচ্ছে।
আগরকারের চুক্তি কেন নবায়ন করা হচ্ছে না?
বোর্ডের এই সিদ্ধান্তের পেছনে একটি বড় কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে নির্বাচন কমিটি এবং বিসিসিআই কর্মকর্তাদের মধ্যে দীর্ঘদিনের মতপার্থক্য। বিশেষ করে সিনিয়র খেলোয়াড় এবং বিশেষত অধিনায়ক রোহিত শর্মার বিষয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে।
‘দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস’-এর তথ্যমতে, নির্বাচকরা শর্মাকে জানিয়েছিলেন জুলাই মাসে ইংল্যান্ড সিরিজের পর তাকে দল থেকে বাদ দেওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করা হচ্ছে। বিসিসিআই এই অবস্থানের সঙ্গে একমত ছিল না; বরং তারা চেয়েছিল ২০২৭ সালের ওয়ানডে বিশ্বকাপের প্রস্তুতি হিসেবে শর্মার অবস্থান প্রতিটি ম্যাচের পারফরম্যান্সের ভিত্তিতে মূল্যায়ন করা হোক।
বিসিসিআই-এর সেক্রেটারি দেবজিৎ সাইকিয়া বোর্ডের অবস্থান স্পষ্ট করে বলেছিলেন, দলের পরিকল্পনায় বা বিবেচনায় থাকা পর্যন্ত শর্মা দেশের প্রতিনিধিত্ব চালিয়ে যাবেন। এই বক্তব্যটি খেলোয়াড় সংক্রান্ত একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে বোর্ড ও নির্বাচকদের মধ্যকার মতপার্থক্যের বিষয়টি সামনে নিয়ে আসে। তবে আগরকারের চুক্তির মেয়াদ না বাড়ানোর বিষয়ে বিসিসিআই-এর পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক কারণ জানানো হয়নি।
প্রধান নির্বাচকের পদের জন্য জহিরের নামই সবচেয়ে জোরালোভাবে উঠে আসছে। ভারতের সাবেক বাঁ হাতি ফাস্ট বোলারকে সক্রিয়ভাবে চিন্তাভাবনা করা হচ্ছে, বিশেষ করে এমন পরিস্থিতিতে যেখানে ভিভিএস লক্ষ্মণকে ‘ডিরেক্টর অফ ক্রিকেট’ পদে নিয়োগ দেওয়া হতে পারে। আগারকারের সরাসরি উত্তরসূরি হিসেবে লক্ষ্মণকে প্রাথমিক বিবেচনায় রাখা হয়েছিল। তবে শোনা যাচ্ছে, প্রধান নির্বাচকের পদে প্রচুর ভ্রমণের প্রয়োজন থাকায় তিনি এই দায়িত্ব গ্রহণে অনাগ্রহ প্রকাশ করেছেন।
এছাড়াও লক্ষ্মণ যদি নির্বাচক কমিটির প্রধান না হয়ে ‘ডিরেক্টর অফ ক্রিকেট’-এর দায়িত্ব গ্রহণ করেন, তবে জহিরের প্রধান নির্বাচক হওয়ার সম্ভাবনা আরও জোরালো হবে। অন্য একটি প্রতিবেদনে পার্থিব প্যাটেলের নামও এই পদের অন্যতম দাবিদার হিসেবে উঠে এসেছে। যদ্রি এই পদে নতুন নিয়োগের বিষয়ে বিসিসিআইয়ের পক্ষ থেকে এখনও কোনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেওয়া হয়নি।