মনিরুল ইসলাম: রাজধানী ঢাকার ইতিহাস, ঐতিহ্য ও বহুমাত্রিক সংস্কৃতি নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরতে সপ্তাহব্যাপী চলচ্চিত্র উৎসব শুরু হয়েছে। ‘হৃদয়ে ঢাকা-৪১৬’ উৎসবের অংশ হিসেবে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি) এই আয়োজন করেছে।
আজ শনিবার বিকেলে রাজধানীর মতিঝিলের ঐতিহ্যবাহী মধুমিতা সিনেমা হলে উৎসবের উদ্বোধন করা হয়। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা জহির উদ্দিন স্বপন।
অনুষ্ঠানে বক্তব্যে জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, দেশের চলচ্চিত্র শিল্প একসময় অত্যন্ত সমৃদ্ধ ছিল। সারা দেশে সাড়ে আটশোর বেশি সিনেমা হল চালু থাকলেও বর্তমানে সেই সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে এসেছে। তিনি বলেন, ডিজিটাল যুগে স্মার্টফোন ও আধুনিক মাল্টিমিডিয়ার সহজলভ্যতায় দর্শকদের রুচিতে পরিবর্তন এসেছে। তাই সময়ের সঙ্গে তাল মিলিয়ে দর্শকের চাহিদা অনুযায়ী চলচ্চিত্র নির্মাণের ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি। একই সঙ্গে এ খাতে সরকারের নীতিগত সহায়তার প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরেন।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সংস্কৃতিবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়ম বলেন, ‘দর্শকদের ভালো সিনেমা উপহার দিতে পারলে আমাদের চলচ্চিত্রে আবারও সুদিন ফিরে আসবে। তিনি বলেন, মানসম্মত চলচ্চিত্র নির্মাণের মাধ্যমে দেশের চলচ্চিত্র শিল্পে আবারও সুদিন ফিরে আসতে পারে।
সভাপতির বক্তব্যে ডিএসসিসি প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আবদুস সালম বলেন, চলচ্চিত্র আমাদের মুক্তিযুদ্ধ, ভাষা আন্দোলনসহ বিভিন্ন ঐতিহাসিক ঘটনাকে জীবন্তভাবে উপস্থাপনের গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম। ঢাকার গৌরবময় ইতিহাস ও সংস্কৃতি দেশ-বিদেশে ছড়িয়ে দিতে এ ধরনের উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
আগামী সাত দিন মধুমিতা হলে বিনামূল্যে সিনেমা প্রদর্শিত হবে। অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন
অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন ঢাকা-৭ আসনের সংসদ সদস্য হামিদুর রহমান এবং ফেনী-১ আসনের সংসদ সদস্য রফিকুল আলম মজনু।
অনুষ্ঠানে অভিনেত্রী সুজাতা আজিম, সুচন্দা, আনোয়ারা, ববিতা, নূতন, চম্পা, শাবনাজ; অভিনেতা উজ্জ্বল, সোহেল রানা, আলমগীর, খাজা নাঈম মুরাদ, আজাদ রহমান শাকিল; গীতিকার মোহাম্মদ রফিকুজ্জামান, মনিরুজ্জামান মনির; সংগীতশিল্পী খুরশিদ আলম, আবিদা সুলতানা; সংগীত পরিচালক শেখ সাদী খান, শওকত আলী ইমন; চিত্রগ্রাহক রেজা লতিফ, শফিকুল ইসলাম স্বপন এবং পরিচালক ছটকু আহমেদ, হাফিজ উদ্দীন, দেলোয়ার জাহান ঝন্টু, মতিন রহমান, সাইদুর রহমান সাঈদ ও আওকাত হোসেনকে জীবন্ত কিংবদন্তি হিসেবে সম্মাননা জানানো হয়।
অন্যদিকে, পরিচালক আব্দুল জব্বার খান, নাজির আহমেদ, খান আতাউর রহমান, জহির রায়হান, এহতেশাম, মুস্তাফিজ, আমজাদ হোসেন, সুভাষ দত্ত, দিলীপ বিশ্বাস, চাষী নজরুল ইসলাম; অভিনেতা আবদুল মতিন, খলিল উল্লাহ খান, নায়করাজ রাজ্জাক, রোজী আফসারী, খান জয়নুল, প্রবীর মিত্র, বুলবুল আহমেদ; গীতিকার গাজী মাজহারুল আনোয়ার; সংগীত পরিচালক আনোয়ার পারভেজ, আলাউদ্দীন আলী; সংগীতশিল্পী আজম খান, এন্ড্রু কিশোর এবং চিত্রগ্রাহক আফজাল চৌধুরী ও এম. এ. সামাদকে জানানো হয় মরণোত্তর সম্মাননা।
এ ছাড়া চলচ্চিত্র সাংবাদিকতায় অবদানের জন্য চিন্ময় মুৎসুদ্দী, অনুপম হায়াৎ, মাহমুদা চৌধুরীসহ কয়েকজন সাংবাদিককে সম্মাননা দেওয়া হয়। ঐতিহ্যবাহী প্রেক্ষাগৃহ হিসেবে লায়ন সিনেমা হল, আজাদ সিনেমা হল ও মধুমিতা সিনেমা হল বিশেষ সম্মাননা পায়।
সপ্তাহব্যাপী এই উৎসবে প্রতিদিন বিকেল ৩টা ও সন্ধ্যা ৬টায় দুটি করে সিনেমা প্রদর্শিত হবে, যা সর্বসাধারণের জন্য উন্মুক্ত থাকবে। উৎসবে ‘মুখ ও মুখোশ’, ‘নবাব সিরাজদ্দৌলা’, ‘জীবন থেকে নেওয়া’, ‘অশিক্ষিত’, ‘রংবাজ’, ‘দহন’সহ দেশীয় চলচ্চিত্রের জনপ্রিয় ও ঐতিহাসিক সিনেমাগুলো প্রদর্শিত হবে।
আয়োজকরা আশা করছেন, এই চলচ্চিত্র উৎসবের মাধ্যমে ঢাকার ইতিহাস ও ঐতিহ্য নতুন প্রজন্মের কাছে আরও ব্যাপকভাবে পৌঁছে যাবে এবং দেশের চলচ্চিত্র শিল্প নতুন করে গতি পাবে।