মনিরুল ইসলাম: সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী কুমিল্লার চর্থায় অবস্থিত উপমহাদেশের প্রখ্যাত সুরশিল্পী, সুরসম্রাট ও প্রবাদপ্রতিম সংগীতসাধক শচীন দেববর্মনের স্মৃতিবিজড়িত ঐতিহাসিক বাড়িটি পরিদর্শন করেছেন।
আজ ১০ জুলাই, শুত্রুবার বিকেলে তিনি এই ঐতিহাসিক স্থানটিতে পৌঁছান।
পরিদর্শনকালে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কুমিল্লা-৬ আসনের মাননীয় সংসদ সদস্য জনাব মো: মনিরুল হক চৌধুরী এবং প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মিজ্ সাবিনা আলম।
পরিদর্শনের শুরুতেই মন্ত্রী সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে সুরশিল্পী শচীন দেববর্মনের মূল বাড়ির সামনে স্থাপিত তাঁর ম্যুরাল বা প্রতিকৃতির বেদিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করে গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।
বেদিতে খোদাই করা সুরশিল্পীর কালজয়ী গানের বিখ্যাত চরণ—
"টাকডুম টাকডুম বাজাই বাংলাদেশের ঢোল / সব ভুলে যাই তাও ভুলি না বাংলা মায়ের কোল..." এবং তাঁর জন্ম (১ অক্টোবর ১৯০৬) ও প্রয়াণের (৩১ অক্টোবর ১৯৭৫) সংক্ষিপ্ত জীবনী অংশটি তিনি গভীর শ্রদ্ধার সাথে অবলোকন করেন। এরপর মন্ত্রী মহোদয় ঐতিহাসিক এই সাংস্কৃতিক স্থাপনাটির বিভিন্ন অংশ ঘুরে দেখেন এবং এর বর্তমান অবস্থা পর্যবেক্ষণ করেন।
স্মৃতিবিজড়িত বাড়িটি পরিদর্শন শেষে উপস্থিত প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকদের সাথে মতবিনিময়কালে সংস্কৃতি মন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী বলেন, "শচীন দেববর্মন কেবল বাংলাদেশের নন, বরং সমগ্র উপমহাদেশের সংগীত জগতের এক উজ্জ্বল নক্ষত্র ও অহংকার। বাংলা মায়ের কোল এবং এই মাটির সংস্কৃতিকে তিনি তাঁর সৃষ্টির মাধ্যমে বিশ্বদরবারে অনন্য উচ্চতায় নিয়ে গেছেন। তাঁর এই স্মৃতিবিজড়িত বাড়িটি আমাদের জাতীয় সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের এক অমূল্য সম্পদ।"
মন্ত্রী আরও বলেন, "বর্তমান সাংস্কৃতিক বান্ধব সরকার দেশের ইতিহাস, ঐতিহ্য এবং গুণীজনদের স্মৃতি রক্ষায় অত্যন্ত প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। শচীন দেববর্মনের এই ঐতিহাসিক চত্বর ও বাড়িটির প্রাচীন গৌরব অক্ষুণ্ন রেখে এর যথাযথ সংস্কার, টেকসই সংরক্ষণ এবং নতুন প্রজন্মের গবেষক ও দেশি-বিদেশি পর্যটকদের কাছে আরও আকর্ষণীয় করে তুলতে সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয় দ্রুত কার্যকর ও প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করবে।
পরিদর্শনকালে সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, স্থানীয় জেলা প্রশাসন ও পুলিশ প্রশাসনের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাগণ, বিশিষ্ট সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব এবং স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ শাখা থেকে এই তথ্য জানানো হয়েছে।