মনিরুল ইসলাম: ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম বলেছেন, একুশে পদকপ্রাপ্ত গীতিকার লোকমান হোসেন ফকির শুধু একজন শিল্পীই ছিলেন না, তিনি ছিলেন দেশের লোকসংগীত ও সাংস্কৃতিক অঙ্গনের একজন উজ্জ্বল ব্যক্তিত্ব।
শনিবার বিকেলে বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি–র জাতীয় নাট্যশালায় লোকমান হোসেন ফকির স্মরণে আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানের আয়োজন করে জাতীয়তাবাদী সামাজিক সাংস্কৃতিক সংস্থা (জাসাস)।
মন্ত্রী বলেন, লোকমান হোসেন ফকিরের গান ও সৃষ্টিকর্ম আজও মানুষের হৃদয়ে জায়গা করে আছে। তিনি উল্লেখ করেন, ১৯৭৫ সালে ‘চরিত্রহীন’ চলচ্চিত্রে সংগীত পরিচালনার জন্য তিনি রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি লাভ করেন এবং তাঁর পরিবেশিত লোকগান আন্তর্জাতিক পর্যায়েও প্রশংসিত হয়।
তিনি আরও বলেন, যারা দেশ ও সংস্কৃতির জন্য কাজ করেন, তারা কখনও হারিয়ে যান না। তাদের অবদান মানুষের হৃদয়ে চিরদিন বেঁচে থাকে। হারিয়ে যেতে বসা লোকসংস্কৃতি ও লোকগান নতুন প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দিতে জাসাসকে আরও সক্রিয় ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান তিনি। পাশাপাশি জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে সাংস্কৃতিক কার্যক্রম বিস্তারে প্রয়োজনীয় সহযোগিতার আশ্বাসও দেন।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়ম বলেন, লোকমান হোসেন ফকির কেবল রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব ছিলেন না, তিনি সংস্কৃতি ও মানবিক মূল্যবোধের একজন নিবেদিতপ্রাণ সংগঠক ছিলেন। তাঁর জীবন ও কর্ম ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য অনুপ্রেরণা হয়ে থাকবে।
বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স বলেন, শহীদ জিয়াউর রহমান তাঁকে দিয়েই জাসাস প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। তিনি ছিলেন জাতীয়তাবাদী রাজনীতির একজন নিবেদিত সৈনিক, যার গান ও সংগীতচর্চা আগামী প্রজন্মকে অনুপ্রাণিত করবে।
হেলাল খান–এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন বিএনপির সাংস্কৃতিক বিষয়ক সম্পাদক আসরাফ উদ্দিন আহমেদ উজ্জ্বল, সহ-সাংস্কৃতিক বিষয়ক সম্পাদক সাইদ সোহরাব এবং জাসাসের সাবেক সভাপতি রেজাবুদৌল্লাহ চৌধুরী। অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন সদস্য সচিব জাকির হোসেন রোকন।
আলোচনা সভা শেষে লোকমান হোসেন ফকিরের লেখা ও সুর করা গান পরিবেশন করেন জাসাসের শিল্পীরা। এতে অংশ নেন আলম আরা মিনু, মিমি আলাউদ্দিন, মৌসুমী ইকবাল এবং পায়েল। শিশু শিল্পীদের গান ও নৃত্য পরিবেশনও দর্শকদের মুগ্ধ করে।