ইফতেখার আলম বিশাল, রাজশাহী প্রতিনিধি: রাজশাহী মহানগরীর রাজপাড়া থানা এলাকায় নবম শ্রেণির এক স্কুলছাত্রকে পথরোধ করে মারধর, ভয়ভীতি প্রদর্শন ও এলাকায় ত্রাস সৃষ্টির ঘটনায় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওকে কেন্দ্র করে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। ঘটনার ভিডিও নজরে আসার পরপরই রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশের (আরএমপি) পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ ফয়েজুল কবির রাজপাড়া থানা পুলিশকে জড়িত কিশোর গ্যাং সদস্যদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, কয়েকদিন আগে ফুটবল খেলাকে কেন্দ্র করে কোর্ট একাডেমির নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী রাফিদ হোসেন রাফির সঙ্গে এক কিশোরের কথা কাটাকাটি হয়। এর জের ধরে গত ১৯ মে বিকেল ৩টার পর স্কুল থেকে বাড়ি ফেরার পথে রাজপাড়া থানাধীন ফুড অফিসের সামনে পৌঁছালে পূর্ব থেকে ওঁৎ পেতে থাকা কয়েকজন কিশোর তার পথরোধ করে।
এ সময় তারা দলবদ্ধভাবে শক্তির মহড়া ও দাপট প্রদর্শন করে রাফিকে এলোপাতাড়ি মারধর করে। হামলায় তার শরীরের বিভিন্ন স্থানে ছিলা-ফোলা জখম হয়। ঘটনাস্থলে বিশৃঙ্খল পরিস্থিতির সৃষ্টি হলে সেখানে উপস্থিত অন্যান্য শিক্ষার্থীদের মধ্যেও আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। পরে স্থানীয় ব্যক্তি আব্দুর রশিদ (৩৫) এগিয়ে এসে আহত শিক্ষার্থীকে উদ্ধার করেন।
অভিযোগে আরও উল্লেখ করা হয়, হামলাকারীরা ঘটনাটি কাউকে জানালে প্রাণনাশের হুমকিও দেয়। এ ঘটনার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে বিষয়টি নিয়ে জনমনে উদ্বেগ তৈরি হয়।
পরবর্তীতে ভুক্তভোগীর পিতা রাজপাড়া থানায় লিখিত এজাহার দায়ের করলে পুলিশ বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে আমলে নেয়। এ ঘটনায় মোঃ জহুরুল ইসলাম সোহান (১৯), মোঃ সোহাগ হোসেন (১৯), মোঃ সানজিদ (১৮), মোঃ আবির (১৮) ও মোঃ অনিক (১৯)-এর বিরুদ্ধে রাজপাড়া থানায় মামলা নং-২৬, তারিখ ২২ মে ২০২৬ দায়ের করা হয়। মামলাটি আইন-শৃঙ্খলা বিঘ্নকারী অপরাধ (দ্রুত বিচার) (সংশোধন) আইন, ২০১৯-এর ৪/৫ ধারায় রুজু করা হয়েছে।
রাজপাড়া থানা পুলিশ বৃহস্পতিবার ভোর সাড়ে ৫টার দিকে অভিযান চালিয়ে মামলার ১ নম্বর আসামি জহুরুল ইসলাম সোহান এবং ২ নম্বর আসামি সোহাগ হোসেনকে তাদের নিজ নিজ বাড়ি থেকে গ্রেপ্তার করে। ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।