শিরোনাম
◈ হাসিনা কলকাঠি নাড়ছেন, গুপ্তরা বাতাস দিচ্ছে: রিজভী ◈ নারী ত্রিদেশীয় সিরিজের বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-১৯ দল ঘোষণা ◈ ইরান যুদ্ধ ও জ্বালানি সংকটের মধ্যেও ২০২৬ সালে বিশ্ব অর্থনীতির প্রবৃদ্ধি ২.৯%: OECD ◈ পণ্য খালাসের সময় ও ব্যয় কমাতে সমন্বিত কর্মপরিকল্পনার তাগিদ বাণিজ্যমন্ত্রীর ◈ আগামী শুক্র ও শনিবার ব্যাংক খোলা ◈ রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে ৫ দফা প্রস্তাব: জাতিসংঘের সাইডলাইন বৈঠকে প্রধানমন্ত্রীর জোরালো আহ্বান ◈ হুতিদের হামলা ঠেকাতে সৌদির অনুরোধে সাড়া নেই, ট্রাম্প-সালমান সম্পর্কে নতুন টানাপোড়েন ◈ গেটস ফাউন্ডেশনের সিইওর সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর বৈঠক, স্বাস্থ্যখাতে এআই ব্যবহারের পরিকল্পনা ◈ ১০ বছরে জ্বালানি তেল থেকে সরকারকে ১ লাখ ১৯ হাজার কোটি টাকা দিয়েছে বিপিসি ◈ লিভারপুলের অ্যানফিল্ড গুগল রেটিংয়ে এগিয়ে

প্রকাশিত : ১৫ মে, ২০২৬, ০৯:২৮ রাত
আপডেট : ২০ আগস্ট, ২০২৬, ০৬:০০ বিকাল

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

বিদ্যুৎবিহীন এসি উদ্ভাবন করে বিশ্বজুড়ে আলোচনায় সৌদির বিজ্ঞানীরা

প্রচণ্ড গরমে জনজীবন যখন ওষ্ঠাগত, তখন প্রশান্তির খোঁজে আমরা সবাই এসির দিকে হাত বাড়াই। কিন্তু মাস শেষে আকাশচুম্বী বিদ্যুৎ বিল আর পরিবেশের ক্ষতির কথা ভেবে অনেকেই থমকে যান। ঠিক এই সময়েই বিশ্বজুড়ে শোরগোল ফেলে দিয়েছেন সউদী আরবের কিং আবদুল্লাহ ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজির (কেইউএসটি) একদল বিজ্ঞানী। তারা এমন এক শীতলীকরণ প্রযুক্তি উদ্ভাবন করেছেন যা চালাতে কোনো বিদ্যুৎ লাগবে না।

বিজ্ঞানীরা এই বিশেষ পদ্ধতির নাম দিয়েছেন 'নেসকড', যার পূর্ণরূপ হলো— 'নো ইলেকট্রিসিটি অ্যান্ড সাসটেইনেবল কুলিং অন ডিমান্ড'। সহজ ভাষায় বলতে গেলে, এটি এমন এক টেকসই ব্যবস্থা যা আপনার প্রয়োজন অনুযায়ী ঘর ঠান্ডা রাখবে, কিন্তু এক ইউনিট বিদ্যুৎও খরচ করবে না। এই সিস্টেমে কোনো মোটর বা প্রথাগত এসির মতো ভারী কম্প্রেসর নেই।

advertisement

কীভাবে কাজ করে এই প্রযুক্তি?

এই জাদুকরী উদ্ভাবনের মূলে রয়েছে একটি বিশেষ রাসায়নিক বিক্রিয়া, যাকে বিজ্ঞানের ভাষায় বলা হয় 'এন্ডোথার্মিক ডিসলিউশন' বা তাপশোষী দ্রবীভবন। এই পদ্ধতিতে অ্যামোনিয়াম নাইট্রেট নামক এক প্রকার অজৈব লবণ পানির সঙ্গে মেশানো হয়। এই লবণটি পানিতে মেশার সময় চারপাশের বাতাস থেকে প্রচুর পরিমাণে তাপ শোষণ করে নেয়।

advertisement

পরীক্ষার সময় দেখা গেছে, এই প্রযুক্তি ব্যবহার করে মাত্র ২০ মিনিটের মধ্যে তাপমাত্রা ২৫° সেলসিয়াস থেকে কমিয়ে ৩.৬° সেলসিয়াসে নামিয়ে আনা সম্ভব। সউদী আরবের পর্যাপ্ত সৌরশক্তি ব্যবহার করে পানি বাষ্পীভূত করে লবণটিকে আবার আলাদা করা হয়, যাতে এটি বারবার ব্যবহার করা যায়।

কেন এটি প্রথাগত এসির চেয়ে আলাদা?

advertisement

বর্তমান সময়ের এসিগুলো কেবল ঘর ঠান্ডা করে না, বরং ঘরের ভেতরের গরম বাতাস বাইরে ছেড়ে দিয়ে শহরকে আরও উত্তপ্ত করে তোলে। অন্যদিকে, নেসকড প্রযুক্তিতে অ্যামোনিয়াম নাইট্রেট অত্যন্ত সস্তা এবং সার হিসেবে সহজেই পাওয়া যায়।

এতে কোনো ক্ষতিকারক গ্যাস নির্গত হয় না এবং কার্বন নিঃসরণ কমিয়ে আনতে সাহায্য করে। দুর্গম এলাকায় যেখানে বিদ্যুৎ নেই বা গ্রিড দুর্বল, সেখানে এই প্রযুক্তি আশীর্বাদ হয়ে আসবে।

আগামীর সম্ভাবনা

শুধু ঘর ঠান্ডা রাখাই নয়, কেইউএসটি-এর বিজ্ঞানীরা সৌর প্যানেল ঠান্ডা রাখা এবং বায়ুমণ্ডল থেকে পানি সংগ্রহ করার মতো আরও কিছু 'প্যাসিভ কুলিং' পদ্ধতি নিয়েও কাজ করছেন। বিজ্ঞানীরা আশা করছেন, এই প্রযুক্তিটি বাণিজ্যিক রূপ পেলে মধ্যবিত্ত ও নিম্নবিত্ত পরিবারগুলো চড়া বিদ্যুৎ বিলের হাত থেকে মুক্তি পাবে।

ভবিষ্যতে জলবায়ু পরিবর্তনের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সউদী বিজ্ঞানীদের এই উদ্ভাবন বিশ্বজুড়ে শীতলীকরণের সংজ্ঞাই বদলে দিতে পারে। এসির আরাম এখন আর শুধু ধনীদের বিলাসিতা নয়, বরং পরিবেশবান্ধব উপায়ে সবার হাতের নাগালে আসাই এখন সময়ের অপেক্ষা। 

সূত্র: ইনকিলাব  

  • সর্বশেষ