শিরোনাম
◈ স্বাভাবিকভাবে পাকা আম চেনার ৫টি উপায় গুলো জানুন কি কি ◈ মার্কিন গ্যাস স্টেশনের সিস্টেমে সাইবার হামলা, সন্দেহের তীর ইরানের দিকে! ◈ হরমুজ বাইপাস করে তেল রপ্তানি দ্বিগুণ করতে নতুন পাইপলাইন নির্মাণ করছে সংযুক্ত আরব আমিরাত! ◈ সংক‌টে পড়‌তে যা‌চ্ছে ভার‌তের স‌ঙ্গে গঙ্গার পানি বণ্টন চুক্তি? ◈ দেশের বাজারে আবারও স্বর্ণের দাম কমানোর ঘোষণা দিয়েছে বাজুস ◈ আইপিএল শে‌ষে চাকরি যাচ্ছে অধিনায়কের, ছাঁটাই হ‌চ্ছে পুরো কোচিং স্টাফ!  ◈ চাঁদপুরের উদ্দেশ্যে রওনা দিলেন প্রধানমন্ত্রী ◈ ইরানের হয়ে গুপ্তচরবৃত্তি, সাবেক মার্কিন গোয়েন্দার খোঁজে এফবিআইয়ের ২ লাখ ডলার পুরস্কার ঘোষণা ◈ মধ্যপ্রাচ্যে আটকে থেকেও দিনে ১৬ লাখ টাকা আয় করছে বাংলাদেশি জাহাজ, কীভাবে ◈ ট্রাম্প-শি বৈঠকের পর রহস্য ঘনীভূত: চুক্তি হলো, নাকি কূটনৈতিক চাল?

প্রকাশিত : ১৬ মে, ২০২৬, ০৮:৪৩ সকাল
আপডেট : ১৬ মে, ২০২৬, ১২:০৫ দুপুর

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

ব্র্যাক ব্যাংক সর্বোচ্চ মুনাফায়, বিপরীতে বড় লোকসানে ইসলামী ব্যাংক

চলতি বছরের প্রথম প্রান্তিকেও বড় মুনাফা করেছে দেশের বেসরকারি খাতের অন্যতম প্রধান ব্যাংক ব্র্যাক। সহযোগী কোম্পানিগুলোর মুনাফাসহ (সমন্বিত হিসাবে) গত জানুয়ারি-মার্চ সময়ে ব্যাংকটি ৫৭৭ কোটি টাকা নিট মুনাফা করেছে। অথচ একই সময়ে বেসরকারি খাতের সবচেয়ে বড় ব্যাংক ইসলামী ব্যাংক ২৮৮ কোটি টাকা লোকসান করেছে। 

সম্প্রতি ব্যাংক দুটি যে শেয়ারপ্রতি আয় (ইপিএস) প্রকাশ করেছে, তার সঙ্গে তাদের মোট শেয়ার গুণ করে এ তথ্য মিলেছে। দেশের বেসরকারি খাতের শীর্ষ দুই ব্যাংকের এই বিপরীত চিত্র শুধু এই দুই ব্যাংকের নয়, অনেকটা পুরো ব্যাংক খাতের চিত্র বলে মনে করছেন ব্যাংকসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। তারা বলছেন, যেসব ব্যাংক ব্যাংকিং আইন ও সুশাসন মেনে ব্যবসা করেছে, সেগুলোর মুনাফায় ভালো প্রবৃদ্ধি আছে। যেগুলোর ক্ষেত্রে এর ব্যত্যয় হয়েছে, সেগুলো ধুঁকছে। 

গতকাল বুধবার পর্যন্ত পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত ৩১ ব্যাংকের মধ্যে ২৪টির প্রথম প্রান্তিকের ইপিএসের তথ্য মিলেছে। এর মধ্যে ২০টি কম-বেশি মুনাফা করেছে। লোকসানের তথ্য দিয়েছে বাকি চারটি। 

তবে মুনাফায় থাকা ২০ ব্যাংকের মধ্যে ছয়টির মুনাফা গত বছরের একই সময়ের তুলনায় কমেছে। যেসব ব্যাংক উল্লেখযোগ্য মুনাফার তথ্য দিয়েছে সেগুলোর মধ্যে ব্র্যাক ছাড়াও আছে সিটি, ডাচ্-বাংলা, ইস্টার্ন, যমুনা, মিউচুয়াল ট্রাস্ট, প্রাইম, শাহ্জালাল, সাউথইস্ট এবং উত্তরা ব্যাংক। বিপরীতে ইসলামী ছাড়া আরও যে তিন ব্যাংক লোকসানের তথ্য দিয়েছে, সেগুলো হলো এবি, আইএফআইসি এবং ন্যাশনাল ব্যাংক। মুনাফায় থাকলেও আট ব্যাংকের মুনাফা হয়েছে অল্প। ১০ টাকা অভিহিত মূল্যের শেয়ারের বিপরীতে হয়েছে নামমাত্র (সর্বোচ্চ ২৯ পয়সা)। ব্যাংকগুলো হলো মার্কেন্টাইল (২৯ পয়সা), মিডল্যান্ড (১৭ পয়সা), এনআরবি (১২ পয়সা), এনআরবিসি (১৩ পয়সা), সাউথবাংলা এগ্রিকালচার (১৪ পয়সা), স্ট্যান্ডার্ড (২ পয়সা), ট্রাস্ট (২৭ পয়সা) এবং ইউনাইটেড কমার্শিয়াল (৭ পয়সা)। এছাড়া ব্যাংক এশিয়া, ঢাকা, মার্কেন্টাইলের ইপিএস গত বছরের তুলনায় কমেছে।

ব্যাংকগুলোর ইপিএসকে সেগুলোর মোট শেয়ার দিয়ে গুণ করে পাওয়া ফল অনুযায়ী, মুনাফায় থাকা ২০ ব্যাংক গত জানুয়ারি-মার্চ সময়ে সমন্বিত হিসাবে (সহযোগী কোম্পানির লাভ-লোকসান মিলে) মোট ২ হাজার ৪৮৫ কোটি টাকা নিট মুনাফা করেছে। এসব ব্যাংকের গত বছরের একই সময়ে মুনাফা ছিল ১ হাজার ৯৮৪ কোটি টাকা। এক্ষেত্রে প্রবৃদ্ধি হয়েছে ২৫ শতাংশ।

বিপরীতে লোকসান করা চার ব্যাংকের মোট লোকসান ৩ হাজার ১০৮ কোটি টাকা ছাড়িয়েছে, যা গত বছরের একই সময়ে ছিল মাত্র ৯৭৭ কোটি টাকা। লোকসানের তথ্য দেওয়া ব্যাংকগুলোর মধ্যে ন্যাশনাল ব্যাংক সর্বাধিক ১ হাজার ১৩৩ কোটি টাকা লোকসান করেছে। এ সময়ে আইএফআইসি ৮৬১ কোটি টাকা, এবি ৮২৬ কোটি টাকা লোকসান করেছে।

প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, প্রথম প্রান্তিকে ব্র্যাক ব্যাংক ১০ টাকা অভিহিত মূল্যের শেয়ারের বিপরীতে নিট ২ টাকা ৯০ পয়সা মুনাফা (ইপিএস) অর্জন করেছে, যা গত বছরের একই সময়ে ছিল ২ টাকা শূন্য ২ পয়সা। ব্যাংকটি তার বিনিয়োগ এবং সুদ থেকে আয় বৃদ্ধিকে মুনাফায় প্রবৃদ্ধির ধারা অব্যাহত থাকার প্রধান কারণ বলে জানিয়েছে। ব্র্যাক ব্যাংকের প্রকাশিত প্রথম প্রান্তিকের অনিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন পর্যালোচনায় দেখা গেছে, প্রদত্ত ঋণের বিপরীতে সুদ আয়ে প্রবৃদ্ধি হয়েছে। ঋণ চাহিদার বাইরে থাকা অতিরিক্ত তারল্য থেকে বাইরে অতিরিক্ত অর্থ সরকারি বিল-বন্ডে বিনিয়োগ করে ব্যাংকটি বড় অঙ্কের মুনাফা আয় করেছে। এছাড়া কমিশন, এক্সচেঞ্জ, ব্রোকারেজসহ সব ক্ষেত্রে মুনাফায় প্রবৃদ্ধি হয়েছে। অন্যদিকে ইসলামী ব্যাংক তার লোকসানের ব্যাখ্যায় জানিয়েছে, আমানতের বিপরীতে মুনাফা প্রদান বৃদ্ধি, খেলাপি বিনিয়োগ বাড়ায় বিনিয়োগ আয় কমে যাওয়া লোকসানের কারণ। 

টাকার অঙ্কে মুনাফা বৃদ্ধিতে ব্র্যাক এগিয়ে থাকলেও ইপিএস বা নিট মুনাফায় প্রবৃদ্ধিতে এগিয়ে আছে ডাচ্-বাংলা ব্যাংক। চলতি বছরের প্রথম প্রান্তিকে ডাচ্-বাংলা ব্যাংকের শেয়ারপ্রতি আয় হয়েছে ২ টাকা ৭০ পয়সা, যা গত বছর ছিল ৯২ পয়সা। এ হিসাবে ব্যাংকটির মুনাফায় প্রবৃদ্ধি ১৯৩ শতাংশের বেশি। ১৫৯ শতাংশ প্রবৃদ্ধি নিয়ে এর পরের অবস্থানে সিটি ব্যাংক। দেশীয় এ ব্যাংকটির প্রথম প্রান্তিকে ইপিএস অর্জিত হয়েছে ১ টাকা ৫৮ পয়সা, যা গত বছর ছিল মাত্র ৬১ পয়সা। এছাড়া সাউথইস্ট ব্যাংকের ইপিএস গত বছরের ৪০ পয়সা থেকে বেড়ে ৯৯ পয়সায় উঠেছে।

বেশির ভাগ ব্যাংকের মুনাফায় কম-বেশি প্রবৃদ্ধি থাকলেও কয়েকটির ক্ষেত্রে মুনাফা কমেছে। ব্যাংক এশিয়ার ইপিএস গত বছরের ১ টাকা ২৯ পয়সা থেকে কমে এ বছরের প্রথম প্রান্তিকে ৯৮ পয়সায় নেমেছে। এছাড়া ঢাকা ব্যাংকের ইপিএস ৮০ থেকে ৫৬ পয়সায়, মার্কেন্টাইল ব্যাংকের ইপিএস ৮৪ থেকে ২৯ পয়সায় নেমেছে। প্রথম প্রান্তিকে প্রাইম ব্যাংকের ইপিএস অর্জিত হয়েছে ১ টাকা ৭৯ পয়সা, যা গত বছরের তুলনায় মাত্র ১ পয়সা কম। 

সূত্র: সমকাল

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়