কবর খুঁড়তে গিয়ে গোরস্তানে এক কিশোরীর সঙ্গে আপত্তিকর অবস্থায় দেখে প্রতিবাদ করায় এক বৃদ্ধকে ছুরিকাঘাত করার ঘটনা ঘটেছে। আজ বৃহস্পতিবার দুপুর ১২টায় কুমিল্লার দেবীদ্বার পৌর এলাকার ভূষণা গ্রামের মজিব কমিশনারের বাড়ির গোরস্তানে ঘটনাটি ঘটে ।
পুলিশ ও স্থানীয়রা জানান, স্বজনের কবর খুঁড়তে গেয়ে সফিকুল ইসলাম(৭০) নামে এক ব্যক্তি গোরস্তানে রেড ৯৯৯ কিশোর গ্যাংয়ের চিহ্নিত দুই সদস্য রামিম (১৭) ও সায়মনকে (১৭) এক কিশোরীর (১৬) সঙ্গে অন্তরঙ্গ অবস্থায় দেখতে পান। এসময় কিশোরীর স্পর্শকাতর স্থানে হাত দিলে সে বাধা দেয়। এসময় রামিম তাকে চড়-থাপ্পড়সহ চুল ধরে মারধর করতে থাকে। কিশোরী চিৎকার করে তাকে বাঁচাতে স্থানীয়দের সাহায্য চায়। এসময় সফিকুল ইসলাম তাদের এ আচরণে ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, এটা কবরস্তান, এখানে নোংরামির করা ঠিক না।
আমি কবর খুঁড়ব, তোমরা এখান থেক চলে যাও। এ কথা বলার সঙ্গে সঙ্গে রামিম দৌড়ে এসে ওই বৃদ্ধকে টানাহেঁচড়া করে মাটিতে ফেলে তার বুকের ওপর বসে উপর্যুপরি আঘাত করে। ৪টি আঘাত ফেরাতে পারলেও পঞ্চম আঘাতে বাম হাতের মাসুলে মারাত্মক ক্ষত হয়। তার চিৎকারে বাড়ির লোকজন দৌড়ে আসলে রামিম ও সায়মন পালিয়ে যায়। মেয়েটিকে আটক করে স্থানীয়রা পুলিশকে খবর দিয়ে পুলিশের হাতে তুলে দেন। স্থানীরা আহত সফিককে দেবীদ্বার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা সেবার ব্যবস্থা করেন। তার হাতের ক্ষত অংশে ৬ টি সেলাই দিতে হয়।
স্থানীয়রা আরো জানান, মজিব কমিশনারের বাড়ির প্রয়াত সিরাজুল ইসলামের মেয়ের জামাতা ব্রাহ্মণবাড়িয়া আশুগঞ্জ সার কার খানায় কর্মরত সহিদুর রহমান (৪৫) গতকাল বৃহস্পতিবার সকালে হৃদক্রিয়া যন্ত্র বন্ধ হয়ে মৃত্যুবরণ করেন। তার গ্রামের বাড়ি মুরাদনগর উপজেলার বাতাপুকুরিয়া। সহিদুর রহমানকে ভ‚ষণা গ্রামে তাঁর শ্বশুর বাড়ির গোরস্তানে বৃহস্পতিবার বাদ মাগরিব দাফন সম্পন্ন করার কথা। এরই মধ্যে লাশ আশুগঞ্জ থেকে লাশবাহী গাড়িতে করে দেবীদ্বারের উদ্দেশ্যে রওয়ানাও হয়।
দেবীদ্বার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন আহত মো. সফিকুল ইসলাম জানান, আমি আমার এক নিকট আত্মীয়ের কবর খুঁড়তে গোস্তানের ভেতরে দেয়াল ঘেঁষে একটি মেয়ে ও ২ টি ছেলেকে আপত্তিকর অবস্থায় দেখে তাদের এখান থেকে সরে যেতে বলি। হঠাৎ সে দৌড়ে এসে আমাকে উপর্যুপরি ছুরিকাঘাত করে পালিয়ে যায়। সাথের অপর ছেলেটিও চলে যায়। এ সময় বাড়ির মহিলারা মেয়েটিকে আটক করে রাখে এবং আমাকে হাসপাতাল নিয়ে আসে।
দেবীদ্বার থানার উপপরিদর্শক তানভির ঘটনাস্থল থেকে ফোনে জানান, রামিম কিশোর গ্যাংয়ের অন্যতম সদস্য, সে দেবীদ্বার পৌর এলাকার বানিয়াপাড়া দুবাই হাউজের মালিক পারভেজের ছেলে। উদ্ধার করা কিশোরী স্থানীয় একটি বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির ছাত্রী। ইতিমধ্যে রামিম বেশ কয়েকটি আলোচিত কিশোর গ্যাং কর্তৃক সংঘটিত ঘটনায় জড়িত এবং একাধিক মামলার আসামি। তাকে গ্রেপ্তারে গতকালও অভিযান চালিয়েছি। তাকে না পেলেও অভিযানে তার সহযোগী আব্দুল্লাহ আল হাসানকে আটক করেছি। আজ আবার প্রেমের ফাঁদে এক কিশোরীকে নিয়ে ভ‚ষণা গ্রামে আরো একটি অকারেন্স করেছে। এর আগে আরো একটি মেয়েকে প্রেমের ফাঁদে ফেলে বিয়ে করে এবং ছাড়াছাড়িও হয়ে যায়।
দেবীদ্বার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. মনিরুজ্জামান জানান, ভ‚ষণা গ্রামে কিশোর গ্যাং সদস্য রামিমের ছুরিকাঘাতে আহত ব্যক্তি মামলা করলে ব্যবস্থা নেব। এছাড়া রামিমের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের একাধিক মামলা রয়েছে। তাকে গ্রেপ্তার অভিযান অব্যাহত আছে। তবে স্থানীয়দের কর্তৃক আটক কিশোরীকে উদ্ধার করে তার মায়ের জিম্মায় দেওয়া হয়েছে।