স্পোর্টস ডেস্ক : নায়ক হওয়ার সুযোগ ছিল মেহেদী হাসান মিরাজের সামনে। কিন্তু নায়ক হওয়া তো দূরের কথা। মিরাজ যেভাবে টেলএন্ডারদের নিয়ে ব্যাটিং করলেন সমর্থকদের কাছে হয়ে থাকবেন খলনায়ক। কারণ, জয়ের সম্ভাবনা জাগিয়েও জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে দ্বিতীয় ওয়ানডেতে ১৩ রানে হেরে গেছে বাংলাদেশ। আর এক ম্যাচ হাতে রেখে সিরিজ নিজেদের করে নিয়েছে জিম্বাবুয়ে।
আগে ব্যাট করতে নেমে নির্ধারিত ৫০ ওভারে ৬ উইকেট হারিয়ে ২৪৭ রান তোলে জিম্বাবুয়ে। জবাবে ব্যাটিংয়ে নেমে ২৩৪ রানে অলআউট হয়ে যায় বাংলাদেশ।
২৪৮ রান তাড়া করতে নেমে শুরুতেই সৌম্য সরকারের উইকেট হারায় বাংলাদেশ। নাজমুল হোসেন শান্তও করেছেন হতাশ। ১৬ বলে ৯ রান করে ফিরেছেন তিনি।
তবে তানজিদ হাসান তামিম ও তাওহীদ হৃদয়ের ব্যাটে প্রতিরোধ গড়ে টাইগাররা। দুজনের ৮৪ রানের জুটিতে জয়ের ভিতও পেয়ে যায় বাংলাদেশ। দুজনেই তুলে নিয়েছেন ফিফটি। ৭০ বলে ৫৭ রান করে তামিম ফিরলে ভাঙে সেই জুটি। এরপর ৬০ রান করা হৃদয়কে ফেরান মাধেভেরে। তাতেই বিপাকে পড়ে বাংলাদেশ।
তবে সফরকারীদের আশা দেখাচ্ছিলেন নুরুল হাসান সোহান ও মেহেদী হাসান মিরাজ। কিন্তু দুজনেই করেছেন হতাশ। কেউই ম্যাচ শেষ করে আসতে পারেননি। সোহান ৩৮ রান করে ফেরার পর টেলএন্ডারদের নিয়ে লড়েছিলেন মিরাজ। কিন্তু চাপের মুহুর্তে টেলএন্ডারদের স্ট্রাইক দেওয়ায় তারা উইকেট বিলিয়ে দিয়ে এসেছেন। আর চাপের মুখে পড়ে মিরাজ বড় শট খেলে আউট হয়েছেন। তার আগে ৩৩ বলে করেছেন ২৭ রান।
জিম্বাবুয়ের হয়ে ৩টি উইকেট শিকার করেছেন রিচার্ড এনগারাভা। দুটি করে উইকেট নিয়েছেন ব্লেসিং মুজরাবানি ও ব্রাড ইভান্স।
এর আগে টসে হেরে প্রথমে ব্যাট করতে নেমে শুরুটা একদমই ভালো হয় জিম্বাবুয়ের। শুন্য রানেই ওপেনার বেনেটকে ফেরান তাসকিন। দলীয় মাত্র ৮ রানে বিদায় নেন ইনোসেন্ট কায়া। এরপর ক্রেইগ আরভিনকে সাথে নিয়ে রান নিতে থাকেন কারেন। তবে মাত্র ৯ রান করে নাহিদ রানার বলে আরভিন আউট হলে চাপে পড়ে যায় জিম্বাবুয়ে।
১৫ রান করে বিদায় নেন মাদেভেয়ারও। দলীয় সংগ্রহ তখন ৪ উইকেট হারিয়ে মাত্র ৬৬ রান। এরপর অলরাউন্ডার সিকান্দার রাজাকে নিয়ে প্রতিরোধ গড়ে তোলেন কারেন। ৩৩ রান করে সিকান্দার রাজা আউট হওয়ার আগে দুজনে মিলে দলীয় স্কোরে যুক্ত করেন ৭৮ রান। তবে এরপর মাত্র ৪ রান করেই বিদায় নেন মাদান্দে।
এরপর মাঠে নামেন ব্র্যাড এভান্স। শুরু হয় কারেন-এভান্স তান্ডব। কারেন পূর্ণ করেন তার সেঞ্চুরি, এভান্স করেন দুর্দান্ত এক ফিফটি। শেষ পর্যন্ত জিম্বাবুয়ের সংগ্রহ দাঁড়ায় ৬ উইকেট হারিয়ে ২৪৭ রান।
জিম্বাবুয়ের হয়ে সর্বোচ্চ ১১১ রানে অপরাজিত ছিলেন বেন কারেন। মাত্র ৩৮ বলে ৫৮ রানের এক দুর্দান্ত ইনিংস খেলেন এভান্স। অন্যদিকে, বাংলাদেশের হয়ে দুটি করে উইকেট নিয়েছেন তাসকিন এবং অধিনায়ক মেহেদী হাসান মিরাজ।