নিনা আফরিন ,পটুয়াখালী : বঙ্গোপসাগরে বিরাজমান বৈরী আবহাওয়ার মধ্যে বুধবার সকাল থেকে বৃহস্পতিবার বিকেল পর্যন্ত টানা ভারী বর্ষণে জেলার রাঙ্গাবালী,দশমিনা,কলাপাড়া ও বাউফল উপজেলার বিভিন্ন এলাকা প্লাবিত হয়ে জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। নিম্নাঞ্চলের বিভিন্ন এলাকায় সৃষ্টি হয়েছে জলাবদ্ধতার। তলিয়ে গেছে মাছের ঘের ও পুকুর, ভেসে গেছে চাষ করা মাছ এবং ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে আমনের বীজতলা। এতে কৃষি ও মৎস্য খাতে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় মৎস্য চাষী ও কৃষকরা।
এদিকে, বৈরী আবহাওয়ার কারণে গভীর সাগরে মাছ ধরতে যেতে পারছেন না হাজার হাজার জেলে। গত কয়েকদিনে আগে ট্রলারডুবির ঘটনায় নিখোঁজ ৬ জেলের এখনো কোনো সন্ধান মেলেনি। নতুন করে কোনো জেলে যেন গভীর সাগরে না যান, সে জন্য নৌ-পুলিশ উপকূলের বিভিন্ন ঘাটে মাইকিং করে সতর্ক করছে।
আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, উপকূলীয় এলাকায় বিরূপ আবহাওয়া আরও দুই একদিন অব্যাহত থাকতে পারে। ফলে উপকূলজুড়ে দুর্ভোগ ও উদ্বেগ এখনো কাটেনি।
এদিকে, কুয়াকাটা সংলগ্ন বঙ্গোপসাগরে তিনটি ট্রলার ডুবির ঘটনায় নিখোঁজ তেরো জেলের মধ্য আরো পাঁচজনকে উদ্ধার করা হয়েছে। এখনো ৮ জন জেলে নিখোজ রয়েছেন বলে জানিয়েছেন কলাপাড়া মৎস্য অফিসার অপুসাহা।
মহিপুর মৎস্য ব্যবসায়ী সমিতির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি রাজু আহমেদ রাজা সাংবাদিকদের জানান, বৈরী আবহাওয়ার কারনে আলীপুর-মহিপুর মৎস্য বন্দরে কয়েক হাজার মাছ ধরার ট্রলার নিরাপদে আশ্রয় নিয়েছে। তবে এখোনো কিছু ট্রলার গভীর সমুদ্রে থাকতে পারে। সমুদ্রে ইলিশ পাওয়ায় বৈরী আবহাওয়া উপেক্ষা করে জেলেরা সাগরেমাছ ধরতে যেতে চাচ্ছে। তবে নৌ পুলিশ বিভিন্ন এলাকায় মাইকিং করে তাদের সচেতন করছে। মাছ না থাকায় ঘাটে কাজ করা হাজার হাজার শ্রমিক বেকার সময় পার করছে।
কুয়াকাটা নৌ পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ মনিরুজ্জামান জানান,সমুদ্র উত্তাল থাকায় নৌ পুলিশের পক্ষ থেকে জেলেদের সচেতন করতে মাইকিং করা হয়েছে। বৈরী আবহাওয়ায় তারা যেন গভীর সমুদ্রে জীবনের ঝুকি নিয়ে মাছ শিকারে না যান সে বিষয়ে তাদের নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।