মনিরুল ইসলাম: বৃষ্টিভেজা এক শান্ত সন্ধ্যা। একটি নিরিবিলি গলি। একত্রিত হয়েছিলেন কয়েকটি পরিবার। কিছু নিবেদিতপ্রাণ শিক্ষাবিদ এবং সুস্থ পারিবারিক মূল্যবোধ ও ইতিবাচক প্যারেন্টিং চর্চা নিয়ে কাজ করা অলাভজনক সামাজিক উদ্যোগ স্নেহন (Snehon)-এর দল কর্মী । বাবা ও সন্তানের সম্পর্ককে আরও গভীর ও অর্থবহ করে তোলার লক্ষ্য নিয়ে বনানীর ফিকা (Fika)-তে আয়োজন করা হয়েছিল একটি জিন (Zine) তৈরির কর্মশালার।
কর্মশালায় অংশগ্রহণকারী বাবা-সন্তান জুটিরা হাতে-কলমে শিখেছেন কীভাবে একটি জিন ভাঁজ করে বই তৈরি করতে হয়। এরপর সেই ছোট্ট বইয়ের পাতাগুলো তারা ভরিয়ে তুলেছেন নিজেদের গল্প, স্মৃতি, আঁকিবুঁকি, চিঠি ও শিল্পকর্মে। পুরো কার্যক্রমে অংশগ্রহণকারীদের সৃজনশীলভাবে পথনির্দেশনা দিয়েছেন সামিয়া রিনি আর্ট স্টুডিও-এর প্রতিষ্ঠাতা এবং জুনিয়র ল্যাবরেটরি হাই স্কুল-এর চারুকলা শিক্ষক মিস সামিয়া সাবিহা রিনি এবং স্কলাস্টিকা স্কুল-এর ও-লেভেল সাহিত্য শিক্ষক ও লেখক মিস তাশফিয়া আহমেদ।
"Our Story: A Celebration of Fatherhood" শীর্ষক এই আয়োজনে ছিল ছবি আঁকা, রং করা, গল্প বলা এবং একে অপরকে চিঠি লেখার মতো বিভিন্ন সৃজনশীল কার্যক্রম। কর্মশালা শেষে ফিকার প্রধান শেফ আবদুল্লাহর প্রস্তুত করা বিশেষ খাবার একসঙ্গে উপভোগ করেন অংশগ্রহণকারী পরিবার ও আয়োজক দলের সদস্যরা। পুরো আয়োজনের উদ্দেশ্য ছিল প্রতিটি বাবা-সন্তান জুটিকে এমন একটি অভিজ্ঞতা উপহার দেওয়া, যেখানে তারা একে অপরের সঙ্গে আরও গভীরভাবে সংযুক্ত হতে পারে, নিজেদের অনুভূতি প্রকাশ করতে পারে, একে অপরকে মনোযোগ দিয়ে শুনতে পারে এবং একসঙ্গে অর্থবহ সময় কাটিয়ে নতুনভাবে একে অপরকে জানতে পারে।
স্নেহনের প্রতিষ্ঠাতা আফসানা আহমদ—যিনি একজন মা, সাবেক শিক্ষক এবং মডেল—মনে করেন, আজকের ব্যস্ত জীবনে অনেক পরিবারেই বাবা-মা ও সন্তানের একান্ত মানসম্মত সময় কাটানোর সুযোগ খুবই সীমিত। তাই স্নেহনের কর্মশালাগুলো এমনভাবে পরিকল্পিত, যেখানে সৃজনশীলতা, শিল্পচর্চা, হস্তশিল্প, খেলাধুলা ও গল্প বলার মাধ্যমে বাবা-মা ও সন্তান একটি আনন্দময়, নিরাপদ এবং আন্তরিক পরিবেশে একে অপরের সঙ্গে সংযুক্ত হওয়ার সুযোগ পায়।
আফসানা আহমাদের ভাষায়, 'Our Story' একটি কার্যক্রমভিত্তিক বাবা-মা ও সন্তানের কর্মশালা। এটি স্নেহনের ভবিষ্যৎ বহু উদ্যোগের মধ্যে প্রথম পদক্ষেপ, যার লক্ষ্য সুস্থ শৈশব বিকাশকে উৎসাহিত করা এবং অভিভাবকদের এমন একটি পরিবেশ গড়ে তুলতে সহায়তা করা, যেখানে শিশুরা শুধু শিক্ষাক্ষেত্রেই নয়, বরং আবেগিক, সামাজিক ও ব্যক্তিগত বিকাশেও সমানভাবে বিকশিত হতে পারে।"
একজন সামাজিক পরিবর্তনে বিশ্বাসী কর্মী হিসেবে আফসানা আহমাদ এই আয়োজনকে স্নেহনের পথচলার প্রথম গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে দেখেন। তাঁর বিশ্বাস, ছোট ছোট অর্থবহ উদ্যোগের মধ্য দিয়েই পরিবার, সমাজ এবং আগামী প্রজন্মের জন্য একটি আরও সহানুভূতিশীল ও সুস্থ ভবিষ্যৎ গড়ে তোলা সম্ভব।