কিশোরগঞ্জের ভৈরবে প্রাইভেট পড়ানোর বকেয়া টাকা চাওয়াকে কেন্দ্র করে সিঁথি সীমিতা (২৮) নামে এক শিক্ষিকাকে দা দিয়ে কুপিয়ে গুরুতর আহত করার অভিযোগ ওঠেছে। এ ঘটনায় স্থানীয় জনতা অভিযুক্ত নারী ছাত্রীর মাকে আটক করে পুলিশের কাছে সোপর্দ করেছেন।
সোমবার (১৩ জুলাই) সকাল সাড়ে ৮টার দিকে উপজেলার শিবপুর ইউনিয়নের পানাউল্লাচর এলাকার লাসু মিয়ার ভাড়াটিয়া বাসায় এ ঘটনা ঘটে।
আটক মোছা. প্রিয়া বেগম (২৫) উপজেলার কালিকাপ্রসাদ ইউনিয়নের গাজিরটেক এলাকার খোকন মিয়ার মেয়ে এবং পানাউল্লাচর এলাকার হোটেল ব্যবসায়ী বায়েজিদ মিয়ার স্ত্রী।
আহত শিক্ষিকা সিঁথি সীমিতা শিবপুর ইউনিয়নের ভূইয়া বাড়ির মৃত সুলয়মান মিয়ার মেয়ে এবং পানাউল্লাচর এলাকার ইতালি প্রবাসী মো. মুরাদ মিয়ার স্ত্রী। তিনি শিবপুর বিএমএ কিন্ডারগার্টেন স্কুলের একজন শিক্ষিকা। শিক্ষকতার পাশাপাশি তিনি বিভিন্ন শিক্ষার্থীকে গৃহশিক্ষক হিসেবে পড়াতেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সোমবার সকালে প্রতিদিনের মতো প্রিয়া বেগমের মেয়ে সাফা মনিকে পড়াতে তার বাসায় যান শিক্ষিকা সিঁথি। এ সময় তিনি প্রিয়া বেগমের কাছে প্রাইভেট পড়ানোর বকেয়া ১ হাজার ৫০০ টাকা দাবি করেন। পড়ানো শেষে বাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা দেওয়ার পর ফেলে আসা ছাতা আনতে তিনি আবার প্রিয়ার বাসায় ফিরে যান। এ সময় ক্ষুব্ধ প্রিয়া বেগম দা দিয়ে একর পর এক কোপ দেন।
এ সময় শিক্ষিকার চিৎকার শুনে স্থানীয় লোকজন ছুটে এসে তাকে উদ্ধার করে প্রথমে স্থানীয় ইসরাত জাহান স্পেশালাইজড হাসপাতালে ভর্তি করেন। পরে অবস্থার অবনতি হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠান।
ঘটনার পর স্থানীয় জনতা অভিযুক্ত প্রিয়া বেগমকে আটক করে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ কল করেন। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে তাকে থানায় নিয়ে যান।
স্থানীয় বাসিন্দা কাজল মিয়া দাবি করেন, ‘প্রিয়া বেগম এর আগেও এ ধরনের ঘটনার সঙ্গে জড়িত ছিলেন।’
আহত শিক্ষিকার দেবর সারোয়ার বলেন, ‘আমার ভাবি একটি স্কুলের শিক্ষিকা। পাশাপাশি কয়েকজন শিক্ষার্থীকে প্রাইভেট পড়ান। প্রতিদিনের মতো আজও তিনি প্রিয়ার মেয়েকে পড়াতে গিয়েছিলেন। পড়ানো শেষে বাড়ি ফেরার সময় হঠাৎ প্রিয়া বেগম দা দিয়ে এলোপাতাড়িভাবে কুপিয়ে তাকে গুরুতর আহত করেন। পরে আমরা তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যাই। অবস্থার অবনতি হলে চিকিৎসক ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠান। তাঁর অবস্থা আশঙ্কাজনক।’
ভৈরব থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) এমদাদুল কবির বলেন, ৯৯৯-এ খবর পেয়ে এসআই আসিবুল ঘটনাস্থলে গিয়ে অভিযুক্ত এক নারীকে আটক করে থানায় নিয়ে আসা হয়। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে। উৎস: কালবেলা।