শিরোনাম
◈ জাতিসংঘ অধিবেশনে মোদি অনুপস্থিত কেন, ভারতের কূটনীতিতে কী বার্তা? ◈ নেতানিয়াহুর ভাষণের সময় বাংলাদেশসহ ৭৭ দেশের ওয়াকআউট ◈ নভেম্বরের মাঝামাঝি হতে পারে এইচএসসির ফল প্রকাশ  ◈ মহেশখালীতে এলএনজি স্থানান্তর শুরু, দেশে গ্যাস সরবরাহ পরিস্থিতির উন্নতি ◈ দেশের সব ইউনিয়নের হাট-বাজারে সৌরবিদ্যুৎ স্থাপনের নির্দেশ সরকারের ◈ জরুরি নির্দেশনা ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে চলাচলকারীদের জন্য ◈ গোল ক‌রে বন্দুক উদযাপনে লাল কার্ড, খেসারত দিলেন ইসরায়েলি ফরোয়ার্ড ◈ ছয় ম্যাচে ছয় হার, তবু ভারতকে হুঁশিয়ারি পাকিস্তানের! ◈ জাতিসংঘে দূরদর্শী ভাষণের জন্য প্রধানমন্ত্রীকে রাষ্ট্রপতির অভিনন্দন ◈ সৌদি আরবের লোহিত সাগরীয় তেলপথ সুরক্ষায় সেনা পাঠাবে ফ্রান্স: ম্যাক্রোঁ

প্রকাশিত : ১৫ জুলাই, ২০২৬, ১২:২২ রাত
আপডেট : ২১ আগস্ট, ২০২৬, ১১:০০ রাত

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

এক বছর দায়িত্ব পালনের পর ইউক্রেনের প্রধানমন্ত্রী পদত্যাগ করলেন

ইউলিয়া স্ভিরিডেনকো। ছবি: সংগৃহীত

রয়টার্স: এক বছর দায়িত্ব পালনের পর ইউক্রেনের প্রধানমন্ত্রী ইউলিয়া স্ভিরিডেনকো পদত্যাগ করেছেন। প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির অনুরোধে তিনি এই সিদ্ধান্ত নেন। দেশটির পার্লামেন্ট মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) তার পদত্যাগপত্র গ্রহণ করেছে। 

তবে সরকারের শীর্ষ পর্যায়ে এমন আকস্মিক ও বড় পরিবর্তনের পেছনে প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কি খুব স্পষ্ট কোনো ব্যাখ্যা দেননি। তিনি কেবল উল্লেখ করেছেন যে দেশের রাজনৈতিক কৌশলে পরিবর্তন আসছে এবং এর জন্য নতুন নেতৃত্বের প্রয়োজন। হঠাৎ নেওয়া এই সিদ্ধান্তে পার্লামেন্টের বেশ কয়েকজন আইনপ্রণেতা অবশ্য উষ্মা ও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।

৪০ বছর বয়সি অর্থনীতিবিদ স্ভিরিডেনকো বিদায়ী ভাষণে বলেন, এই বছরের প্রতিটি দিনই কঠিন সিদ্ধান্ত এবং নিষ্পত্তিমূলক পদক্ষেপের দাবি রেখেছিল। তিনি তার ওপর আস্থা রাখার জন্য সবার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন এবং উল্লেখ করেন যে তিনি সবসময় ফলাফলের ওপর বিশ্বাস রেখে কাজ করেছেন।

স্ভিরিডেনকো যখন এক বছর আগে ক্যাবিনেটের দায়িত্ব নিয়েছিলেন, তার মাত্র কয়েক মাস আগেই ইউক্রেনের শীর্ষ কর্মকর্তাদের জড়িয়ে একটি বড় ধরনের দুর্নীতি কেলেঙ্কারি ফাঁস হয়েছিল, যা জনমনে তীব্র ক্ষোভের জন্ম দেয়। 

advertisement

তবে দায়িত্ব নেওয়ার পর দুর্নীতিমুক্ত প্রশাসন গড়তে যথেষ্ট কঠোর পদক্ষেপ না নেওয়ার অভিযোগে সমালোচকদের তোপের মুখে পড়েন তিনি। অবশ্য আন্তর্জাতিক অঙ্গনে, বিশেষ করে মার্কিন কর্মকর্তাদের সাথে তার সুসম্পর্ক ছিল। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাথে জেলেনস্কির দ্বিপাক্ষিক বৈঠকের টানাপোড়েনের পর ওয়াশিংটনের সাথে একটি খনিজ বিনিয়োগ চুক্তি সম্পন্ন করতে স্ভিরিডেনকো গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিলেন।

বিরোধী দল হোলোস পার্টির আইনপ্রণেতা ইয়ারোস্লাভ ঝেলেজনিয়াক বিদায়ী সরকারের কর্মকাণ্ডকে কটাক্ষ করে বলেছেন, সরকার প্রতিদিন ফলাফলের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল এবং তারা সেই প্রতিশ্রুতি রক্ষা করেছে—প্রতিদিন নতুন নতুন উপস্থাপনা, সংবাদ সম্মেলন এবং প্রতিদিন দুর্নীতির মামলায় একজন করে নতুন সন্দেহভাজনকে সামনে আনা হয়েছে।

স্ভিরিডেনকোর এই বিদায়ের ফলে নিয়ম অনুযায়ী পুরো সরকারেরই পতন ঘটল। নতুন প্রধানমন্ত্রী হিসেবে আইনপ্রণেতারা রাষ্ট্রীয় তেল-গ্যাস কোম্পানি নাফতোগাজের প্রধান সের্হি কোরেতস্কিকে অন্যতম প্রধান দাবিদার হিসেবে দেখছেন। 

এছাড়াও সম্ভাব্য উত্তরসূরি হিসেবে বর্তমান জ্বালানি মন্ত্রী ও স্ভিরিডেনকোর পূর্বসূরি ডেনিস শমিহাল কিংবা প্রতিরক্ষামন্ত্রী মিখাইলো ফেদোরোভের নামও আলোচনায় রয়েছে।

চার বছরেরও বেশি সময় ধরে চলা এই যুদ্ধে ইউক্রেন যখন রাশিয়ার জ্বালানি অবকাঠামো ও লজিস্টিকস লক্ষ্য করে দূরপাল্লার হামলা চালিয়ে নিজেদের অবস্থান শক্ত করার চেষ্টা করছে, ঠিক সেই সময়ে অভ্যন্তরীণ এই রাজনৈতিক পরিবর্তন এলো। 

ইউক্রেনের প্রধানমন্ত্রীর মূল দায়িত্বই থাকে দেশের যুদ্ধকালীন অর্থনীতি সচল রাখা এবং রাশিয়ার ধারাবাহিক হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত বেসামরিক অবকাঠামো মেরামত করা। 

পদত্যাগের আগে স্ভিরিডেনকো সতর্ক করে গেছেন যে নতুন সরকারের জন্য সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হবে আসন্ন শীত মৌসুমের প্রস্তুতি নেওয়া, কারণ রাশিয়া ইউক্রেনের বিদ্যুৎ গ্রিড ও গ্যাস সংযোগের ওপর হামলা আরও জোরদার করতে পারে।

  • সর্বশেষ