অফিসে কাজের অত্যধিক চাপ। কাজের চাপে ল্যাপটপ থেকে মুখ সরানোর উপায় নেই। ঘন ঘন ব্ল্যাক কফি খেয়েও যেন স্বস্তি মিলছে না। উল্টে বাড়ছে মাথাব্যথা। মানসিক চাপ, ঘুমের অভাব কিংবা ডিহাইড্রেশনের জেরে আরও বেশি মাথার যন্ত্রণা বেড়ে যাচ্ছে। তা দূর করতে চা-কফি না খেয়েও অন্য একটি পানীয় পান করুন। পুদিনাপাতার চায়ে চুমুক দিন। মাইগ্রেন হোক কিংবা মাথাব্যথা দূর হয়ে যাবে।
কারণ পুদিনা পাতার চায়ে চুমুক দিলে স্বস্তি মিলবে নিমিষে। তবে এ পানীয় শুধু যে মাথাব্যথা কমায়, তা কিন্তু নয়। এই ভেষজ চা খেলে আরও অনেক উপকার পাবেন।
চলুন জেনে নেওয়া যাক, পুদিনাপাতার চায়ে কীভাবে মাথাব্যথা দূর করে—
পুদিনার প্রাকৃতিক সুগন্ধ মস্তিস্ককে শান্ত করে এবং শরীরের পেশিগুলোকে শিথিল করতে সাহায্য করে। তাই মানসিক চাপ কমে এবং শান্তির ঘুম হয়।
এক কাপ ফুটন্ত পানিতে ৫-৬টি তাজা পুদিনাপাতা থেঁতলিয়ে মিশিয়ে পান করুন। আবার তাজা পুদিনাপাতার বদলে ১ চামচ শুকনো পুদিনাপাতাও ব্যবহার করতে পারেন। ৫-১০ মিনিট পুদিনাপাতা পানিতে ফুটিয়ে নিন। তারপর ছেঁকে নিয়ে মধু কিংবা লেবুর রস মিশিয়ে পান করুন। আপনার মন প্রশান্তিতে ভরে উঠবে।
দিনের শেষে পুদিনাপাতার চা মানসিক চাপ কমিয়ে দেয়। এর পাশাপাশি রাতে ঘুম ভালো হয়। এ পানীয়তে ক্যাফিন নেই, তাই অনিদ্রার সমস্যা দেখা দেয় না।
পুদিনাপাতার মধ্যে বেশ কিছু উপাদান রয়েছে, যা রক্ত সঞ্চালন বাড়াতে এবং পেশির টান কমাতে সাহায্য করে। যে কারণে মাথাব্যথা ও মাইগ্রেনের সমস্যায় পুদিনাপাতার চা খেলে স্বস্তি মেলে। মাইগ্রেনের সমস্যায় নিয়মিত পুদিনার চা খেতে পারেন। ক্যাফিন মুক্ত এ পানীয় মাথাব্যথা কমাতে দারুণ সহায়ক ভূমিকা পালন করে।
আর বর্ষা আসতেই সর্দি-কাশির সমস্যা এখন ঘরে ঘরে। হাঁচি-কাশিতে ভুগছে বাঙালি। এই জ্বর-সর্দির হাত থেকেও আরাম দেয় পুদিনাপাতার চা। গরম পুদিনার চায়ে চুমুক দিলে বন্ধ নাক খুলে যায়। এটি শ্বাসযন্ত্রের সংক্রমণ দূর করতেও সাহায্য করে। এ ছাড়া সাইনাসের সমস্যাতেও স্বস্তি এনে দেয় পুদিনাপাতার চা।
আবার বদহজমের সমস্যায় ভুগলেও খেতে পারেন পুদিনাপাতার চা। এটি পরিপাকতন্ত্রকে শান্ত করতে সাহায্য করে। এতে থাকা মেন্টল পেটের পেশিগুলোকে শিথিল করে। ফলে গ্যাস্ট্রিক, পেট ফাঁপা, বদহজম ও পেটব্যথার মতো সমস্যা থেকে রেহাই মেলে। যারা ইরিটেবল বাওয়েল সিন্ড্রোমে ভুগছেন, তাদের জন্য এ চা অত্যন্ত উপকারী।
এ ছাড়া প্রাকৃতিক মাউথ ফ্রেশনারের মতো কাজ করে থাকে পুদিনাপাতার চা। এ ভেষজের মধ্যে অ্যান্টি-ব্যাকটেরিয়াল উপাদান, যা মুখের ভেতরের ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়াকে ধ্বংস করে দেয়। তাই দুর্গন্ধ তৈরি হয় না।