শিরোনাম
◈ নিউইয়র্ক সফরের সাফল্য আড়ালে ‘পরিকল্পিত ঘটনা’: অভিযোগ প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিবের ◈ জাতিসংঘে জাইমা রহমানের নিয়োগে সরকারের ন্যূনতম সম্পৃক্ততা নেই: মাহদী আমিন ◈ ফার্নেস অয়েলের দাম বাড়ল লিটারে প্রায় ১২ টাকা, রাত থেকেই কার্যকর ◈ প্রবীণদের আর্থিক নিরাপত্তা ও সামাজিক সুরক্ষা নিশ্চিত করবে সরকার : প্রধানমন্ত্রী ◈ সীমান্তের দুই মুখ : এপার থেকে মানুষ পাচারের ফাঁদ, ওপার থেকে ঢুকছে মাদক ◈ সালমান মুক্তাদিরের স্টুডিওতে হামলা: অবসরপ্রাপ্ত মেজর জেনারেল গ্রেপ্তার ◈ চাকরি ও দক্ষ কর্মীর খোঁজ মিলবে এক জায়গায়, উদ্যোগ সরকারের ◈ মিরপুরে উচ্ছেদ অভিযানে সমন্বয়ের ঘাটতি, তদন্তের নির্দেশ: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ◈ ৫০৭ কোটি টাকা বিদ্যুৎ বিল আসা গ্রাহককে মন্ত্রীর দুঃখ প্রকাশ, জিএম বরখাস্ত ◈ ঢাকা-দিল্লি সম্পর্ক এগিয়ে নিতে দ্রুতই আলোচনা: দীনেশ ত্রিবেদী

প্রকাশিত : ০৯ জুলাই, ২০২৬, ০৯:২২ সকাল
আপডেট : ২২ আগস্ট, ২০২৬, ০২:০০ রাত

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে রাখবে যে ৭ প্রাকৃতিক উপাদান

গত কয়েক দশকে হু হু করে বেড়েছে ডায়াবেটিসে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা। একসময় মনে করা হতো ডায়াবেটিস শুধু মাত্র বয়স্কদের রোগ। কিন্তু বর্তমানে ৩০ পেরোতে না পেরোতেই ভোগাচ্ছে ব্লাড সুগার। এ রোগটি তখনই হানা দেয়, যখন আমাদের শরীর কম ইনসুলিন তৈরি করতে শুরু করে।  আর সেই ইনসুলিন কার্যকরভাবে ব্যবহার করতে পারে না। ফলে রক্তে শর্করার পরিমাণ বেড়ে যায় এবং টাইপ ২ ডায়াবেটিসের ঝুঁকিও বাড়ে। 

সে ক্ষেত্রে আপনি চিকিৎসকের পরামর্শ মাফিক ওষুধের সঙ্গে আরও কয়েকটি খাবারের ওপর ভরসা রাখতে পারেন। নিয়মিত সেসব খাবার খেলেই ব্লাড সুগারের মাত্রা নিয়ন্ত্রণ করতে পারবেন। বিশেষ করে রক্তে শর্করার মাত্রা প্রাকৃতিক উপায়ে নিয়ন্ত্রণে রাখতে মেথি, দারুচিনি, করলা, হলুদ, আদা, কারিপাতা এবং আমপাতা ভীষণ কার্যকরী। এ উপাদানগুলো ইনসুলিন সংবেদনশীলতা বৃদ্ধি ও বিপাকপ্রক্রিয়া স্বাভাবিক রেখে ব্লাড সুগার নিয়ন্ত্রণ করতে সহায়তা করে।

চলুন জেনে নেওয়া যাক, কোন উপায়ে ব্লাড সুগার নিয়ন্ত্রণে রাখবেন— 

মেথি

advertisement

মেথির বীজে ফাইবার ও অ্যান্টি-ডায়াবেটিস উপাদান থাকে। এটি ইনসুলিনের কার্যকারিতা বাড়াতে সাহায্য করে। এক চা চামচ মেথির বীজ সারারাত ভিজিয়ে রেখে সকালে সেই পানি পান করলে রক্তে শর্করার মাত্রা কমে যায় এবং ইনসুলিন সংবেদনশীলতা বৃদ্ধি পায়। মেথিতে থাকা দ্রবণীয় ফাইবার গ্লুকোজ শোষণের গতি কমিয়ে দেয়।

দারুচিনি 

দারুচিনিতে থাকা অ্যান্টি-ডায়াবেটিস উপাদান ইনসুলিন সংবেদনশীলতা বাড়াতে কার্যকর ভূমিকা রাখে। দারুচিনির একটি ছোট টুকরো পানিতে ফুটিয়ে খেলে গ্লুকোজ বিপাক উন্নত হয় এবং রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে থাকে।

আমলকী 

আমলকীতে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন সি ও পলিফেনল থাকে, যা অক্সিডেটিভ স্ট্রেস এবং প্রদাহ কমাতে সাহায্য করে। সকালে টাটকা আমলকী বা আমলকীর রস খেলে গ্লুকোজ বিপাক ভালো হয়। আমলকীর রসের চেয়ে গোটা আমলকী খেলে শরীরে বেশি ফাইবার যায়।

হলুদ

হলুদের মধ্যে থাকা কারকিউমিন উপাদান ইনসুলিন ‘রেজিস্ট্যান্স’ কমাতে সহায়তা করে। এটি প্রদাহ কমায় ও রক্তে চিনির মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখে। সকালে হালকা গরম পানিতে এক চিমটে হলুদ মিশিয়ে খেলে ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে থাকে। হলুদের কারকিউমিন যৌগ গোলমরিচের সঙ্গে খেলে স্বাস্থ্যগুণ আরও বেড়ে যায়। এটি প্রদাহ ও অক্সিডেটিভ স্ট্রেস কমাতে সাহায্য করতে পারে।

তুলসী 

তুলসী বরাবরই আয়ুর্বেদ চিকিৎসায় এক সুবিশাল গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে এসেছে। ঠান্ডা লাগা, সর্দি-কাশি নিরাময়ে ঘরোয়া পদ্ধতিতে তুলসীর জুড়ি মেলা ভার। সঙ্গে ডায়াবেটিস রক্তে শর্করা অর্থাৎ গ্লুকোজের পরিমাণ নিয়ন্ত্রণে রাখে। প্রতিদিন সকালে ঘুম থেকে উঠে গরম পানিতে কয়েকটি তুলসী পাতা দিন। দুই থেকে তিন মিনিট সেই পানি ফুটিয়ে ছেঁকে নিন। এই তুলসী চা খেলে ডায়াবেটিসে উপকার পাবেন।

অ্যালোভেরা 

অ্যালোভেরার মধ্যে লেকটিন, ম্যাননান্স ও অ্যানথ্রাকুইনোনের মতো বিভিন্ন রাসায়নিক যৌগ রয়েছে। এসব উপাদান রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখতে সাহায্য করে। মূলত এগুলো অগ্ন্যাশয় থেকে ইনসুলিন হরমোনের নিঃসরণকে নিয়ন্ত্রণ করে। এর পাশাপাশি কোষকে ক্ষয়ের হাত থেকে রক্ষা করে এবং শারীরিক প্রদাহ কমায়।

নিমপাতা

নিমপাতায় রয়েছে ফ্ল্যাভোনয়েডস, ট্রাইগ্লিসারাইড কমানোর উপাদান এবং অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট, যা শরীরের ইনসুলিন সংবেদনশীলতা বাড়াতে সহায়ক ভূমিকা পালন করে। এই সংবেদনশীলতাই ডায়াবেটিসের নিয়ন্ত্রণের মূল চাবিকাঠি। প্রতিদিন সকালে খালি পেটে কয়েকটি নিমপাতা চিবিয়ে খেলে কিংবা নিমপাতার রস খেলে রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা অনেকটাই স্থিতিশীল থাকে।

  • সর্বশেষ