ফিরোজ আহম্মেদ, ঝিনাইদহ প্রতিনিধি : মাদক সেবনের অভিযোগ অস্বীকার করে পুলিশের সিদ্ধান্তকে সরাসরি চ্যালেঞ্জ জানিয়েছিলেন স্বজনেরা। দাবি করেছিলেন, তাদের নির্দোষ স্বজনদের অন্যায়ভাবে ফাঁসানো হচ্ছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে ও সত্য উদ্ঘাটনে নেওয়া হয় ব্যতিক্রমী পদক্ষেপ—ব্যবস্থা করা হয় 'ডোপ টেস্টের'। পরীক্ষা শেষে রিপোর্ট পজিটিভ আসতেই সব বিতর্ক ধামাচাপা পড়ে যায়। অবশেষে আদালতের বিচারে স্থান হলো কারাগারে।
ঘটনাসূত্রে জানা গেছে, সোমবার গভীর রাতে ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ থানা পুলিশ পরিচালিত বিশেষ মাদকবিরোধী অভিযানে শহরের কলেজ পাড়ার সিরাজুল ইসলাম রাব্বি (৩০) এবং ঢাকালে পাড়ার সাদ্দাম হোসেন (৩২)-কে আটক করা হয়।
পরদিন মঙ্গলবার সকালে আটককৃতদের পরিবারের সদস্যরা থানায় এসে হট্টগোল শুরু করেন। তাদের দাবি ছিল,তারা কোনো ধরনের মাদক সেবনের সাথে যুক্ত নন এবং পুলিশ উদ্দেশ্য প্রণোদিতভাবে তাদের আটক করেছে। পরিবারের তীব্র বিতর্ক ও চ্যালেঞ্জের মুখে বিষয়টি নিরপেক্ষভাবে নিষ্পত্তির লক্ষ্যে কালীগঞ্জ থানা পুলিশ উভয়কে ডোপ টেস্ট করানোর সিদ্ধান্ত নেয়।
দুপুরে তাদের ঝিনাইদহ সদর হাসপাতালে নিয়ে ডোপ টেস্ট করানো হয়। ল্যাব পরীক্ষায় তাদের দেহে গাঁজা, ইয়াবা ও অতিরিক্ত মাত্রার ঘুমের বড়ি সেবনের প্রমাণ ধরা পড়ে। ডোপ টেস্টের রিপোর্ট পজিটিভ আসার পর মঙ্গলবার বিকেলে অভিযুক্তদের ঝিনাইদহ আদালতে সোপর্দ করা হয়।
মামলা ও পরীক্ষার কাগজপত্র পর্যালোচনা করে ঝিনাইদহ আদালতের সিনিয়র ম্যাজিস্ট্রেট সব্যসাচী রায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে অপরাধীদের সাজা প্রদান করেন। রায়ে সিরাজুল ইসলাম রাব্বীকে ৬ মাসের সশ্রম কারাদণ্ড ও ২০০ টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরও ১৫ দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়। অন্যদিকে, সাদ্দাম হোসেনকে ৪ মাসের সশ্রম কারাদণ্ড ও ১,০০০ টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরও ১০ দিনের সশ্রম কারাদণ্ড দিয়ে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন আদালত।
এ বিষয়ে কালীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জুলফিকার আলী জানান, "আটকের পর পরিবারের সদস্যরা অনর্থক বিতর্ক তৈরি করলে বিষয়টি স্বচ্ছ করার জন্য আমরা ডোপ টেস্টের ব্যবস্থা করি। পরীক্ষায় মাদক সেবনের বিষয়টি শতভাগ প্রমাণিত হওয়ায় আদালত তাদের সাজা দিয়েছেন। সমাজকে মাদকমুক্ত করতে আমাদের এমন জিরো টলারেন্স অভিযান অব্যাহত থাকবে।"