শিরোনাম
◈ অভিন্ন প্রশ্নপত্রে এইচএসসি, থাকছে বডি ওর্ন ক্যামেরা ও লাইভ নজরদারি ◈ দেশে আরও নতুন ৩ উপজেলা ও ১ থানার অনুমোদন ◈ সিন্দুক বা সীমান্ত পাহারার চেয়েও এখন সাইবার নিরাপত্তা বেশি জরুরি: তথ্যমন্ত্রী ◈ ২০২৭ সালে হজে যেতে ইচ্ছুকদের জন্য সুখবর: আজ থেকে প্রাক-নিবন্ধন শুরু, শেষ সময় ২৬ সেপ্টেম্বর ◈ পূর্বাচল নতুন শহর প্রকল্পে হচ্ছে ৪ থানা ও ৬ পুলিশ তদন্ত কেন্দ্র : আইজিপি ◈ ইরানের অবস্থান নিয়ে বিস্ফোরক মন্তব্য জেডি ভ্যান্সের, ‘শান্তি আলোচনা’ বিতর্কে নতুন মোড় (ভিডিও) ◈ জাতীয় পরিচয়পত্র জালিয়াতি রোধে ভোটার নিবন্ধনে আসছে নতুন নিয়ম, যেসব তথ্য লাগবে ◈ খেলাপি ঋণ কমাতে সুদ মওকুফের সিদ্ধান্ত কেন্দ্রীয় ব‌্যাং‌কের, এই সুবিধা কারা পাবে?   ◈ ইকুয়েডরকে হারিয়ে শেষ ষোলোয় স্বাগতিক মেক্সিকো ◈ বিশ্বকাপে ইরানের বিদায়ে ‘খুশির নাচ নেচেছেন’ যুক্তরা‌স্ট্রের হোমল্যান্ড সিকিউরিটির কর্মকর্তা 

প্রকাশিত : ০১ জুলাই, ২০২৬, ০৬:২৯ বিকাল
আপডেট : ০১ জুলাই, ২০২৬, ০৭:০০ বিকাল

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

ব্লাড সুগার ও ডায়াবেটিস মধ্যে পার্থক্য কি?

অনেকেই ‘ব্লাড সুগার’ ও ‘ডায়াবেটিস’ শব্দ দুটি একই অর্থে ব্যবহার করেন। তবে চিকিৎসকদের মতে, এ দুটি এক বিষয় নয়। ব্লাড সুগার হলো রক্তে থাকা গ্লুকোজ বা শর্করার পরিমাণ, আর ডায়াবেটিস হলো এমন একটি দীর্ঘমেয়াদি রোগ, যেখানে শরীর এই শর্করার মাত্রা স্বাভাবিকভাবে নিয়ন্ত্রণ করতে পারে না।

আমরা প্রতিদিন যে খাবার খাই, তা হজম হয়ে গ্লুকোজে পরিণত হয়। এই গ্লুকোজই শরীরের প্রধান শক্তির উৎস। তাই সুস্থ মানুষের শরীরেও ব্লাড সুগার থাকে। খাবার, শারীরিক পরিশ্রম, ঘুম এবং মানসিক চাপের ওপর নির্ভর করে রক্তে শর্করার মাত্রা স্বাভাবিকভাবেই কিছুটা ওঠানামা করে। ভারি খাবারের পর সুগার সাময়িকভাবে বাড়তে পারে, আবার ব্যায়ামের ফলে কমেও যেতে পারে।

অন্যদিকে, ডায়াবেটিস তখন হয় যখন অগ্ন্যাশয় পর্যাপ্ত ইনসুলিন তৈরি করতে পারে না অথবা শরীর ইনসুলিন ঠিকমতো ব্যবহার করতে ব্যর্থ হয়। ফলে রক্তে থাকা গ্লুকোজ কোষে প্রবেশ করে শক্তিতে রূপান্তরিত হতে পারে না এবং দীর্ঘ সময় ধরে রক্তে শর্করার মাত্রা স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি থাকে।

তবে একবার রক্ত পরীক্ষায় সুগার বেশি এলেই কাউকে ডায়াবেটিস রোগী বলা যায় না। মানসিক চাপ, সংক্রমণ, পর্যাপ্ত ঘুমের অভাব বা কিছু ওষুধের কারণে সাময়িকভাবে রক্তে শর্করা বেড়ে যেতে পারে। তাই চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষার মাধ্যমে নিশ্চিত হতে হয়।

চিকিৎসকদের ভাষায়, ডায়াবেটিস একটি ‘নীরব ঘাতক’। প্রাথমিক পর্যায়ে অনেক সময় এর কোনো স্পষ্ট লক্ষণ থাকে না। তাই নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা এবং রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা পর্যবেক্ষণ করা অত্যন্ত জরুরি। সময়মতো রোগ শনাক্ত হলে জীবনযাত্রায় পরিবর্তনের মাধ্যমে হৃদরোগ, কিডনি, চোখ ও স্নায়ুর জটিলতা অনেকটাই প্রতিরোধ করা সম্ভব।

ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে রাখতে সুষম খাদ্যাভ্যাস সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। অতিরিক্ত মিষ্টি, কোমল পানীয়, ফাস্ট ফুড, পরিশোধিত কার্বোহাইড্রেট ও চর্বিযুক্ত খাবার কম খেতে হবে। এর পরিবর্তে আঁশসমৃদ্ধ গোটা শস্য, শাকসবজি, পরিমিত ফল, ডাল ও প্রোটিনসমৃদ্ধ খাবার খাওয়ার অভ্যাস গড়ে তুলতে হবে। খাবার সময়মতো এবং পরিমিত পরিমাণে খাওয়াও সমান গুরুত্বপূর্ণ।

এ ছাড়া সপ্তাহে অন্তত ১৫০ মিনিট দ্রুত হাঁটা বা মাঝারি মাত্রার ব্যায়াম, প্রতিদিন ৭ থেকে ৮ ঘণ্টা ঘুম, শরীরের ওজন নিয়ন্ত্রণ, ধূমপান বর্জন এবং দীর্ঘ সময় একটানা বসে না থেকে নিয়মিত নড়াচড়া করার পরামর্শ দেন বিশেষজ্ঞরা। পাশাপাশি নিয়মিত রক্তে গ্লুকোজ, রক্তচাপ ও কোলেস্টেরল পরীক্ষা করানো উচিত। যারা ডায়াবেটিসে আক্রান্ত, তাদের অবশ্যই বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ওষুধ, খাদ্যাভ্যাস ও জীবনযাপন পরিচালনা করা প্রয়োজন।

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়