শিরোনাম
◈ ১০ বছরে জ্বালানি তেল থেকে সরকারকে ১ লাখ ১৯ হাজার কোটি টাকা দিয়েছে বিপিসি ◈ লিভারপুলের অ্যানফিল্ড গুগল রেটিংয়ে এগিয়ে ◈ আফগান লিগে নাম লেখালেন তাসকিন ◈ ইউপি নির্বাচনে ইসির নতুন বিধান, জামানত বাড়ল পাঁচ গুণ ◈ বিদ্যুতায়নে বছরে কোটি কোটি ডলারের জ্বালানি আমদানি ব্যয় কমানোর সুযোগ বাংলাদেশের : আইইএর প্রতিবেদন ◈ ১১টি বোয়িং বিমান কেনার চুক্তি চূড়ান্তের পথে, এয়ারবাস নিয়ে ফ্রান্সের চাপ ◈ ভারত থেকে ইলিশ আমদানি বন্ধ, বাতিল ১০৩ অনাপত্তি সনদ ◈ ঢাকার আশপাশের বিদ্যুৎ নেটওয়ার্ক আধুনিকায়নে বাংলাদেশকে ২০০ মিলিয়ন ডলার ঋণ দিচ্ছে এডিবি ◈ জ্বালানি তেলের পর এবার বাড়ল লঞ্চ ভাড়া, কিলোমিটারে সর্বোচ্চ ২৩ পয়সা ◈ জ্যাকসের ঝড়ে লঙ্কা বিধ্বস্ত

প্রকাশিত : ০১ জুলাই, ২০২৬, ০৬:২৯ বিকাল
আপডেট : ২১ আগস্ট, ২০২৬, ০৭:০০ বিকাল

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

ব্লাড সুগার ও ডায়াবেটিস মধ্যে পার্থক্য কি?

অনেকেই ‘ব্লাড সুগার’ ও ‘ডায়াবেটিস’ শব্দ দুটি একই অর্থে ব্যবহার করেন। তবে চিকিৎসকদের মতে, এ দুটি এক বিষয় নয়। ব্লাড সুগার হলো রক্তে থাকা গ্লুকোজ বা শর্করার পরিমাণ, আর ডায়াবেটিস হলো এমন একটি দীর্ঘমেয়াদি রোগ, যেখানে শরীর এই শর্করার মাত্রা স্বাভাবিকভাবে নিয়ন্ত্রণ করতে পারে না।

আমরা প্রতিদিন যে খাবার খাই, তা হজম হয়ে গ্লুকোজে পরিণত হয়। এই গ্লুকোজই শরীরের প্রধান শক্তির উৎস। তাই সুস্থ মানুষের শরীরেও ব্লাড সুগার থাকে। খাবার, শারীরিক পরিশ্রম, ঘুম এবং মানসিক চাপের ওপর নির্ভর করে রক্তে শর্করার মাত্রা স্বাভাবিকভাবেই কিছুটা ওঠানামা করে। ভারি খাবারের পর সুগার সাময়িকভাবে বাড়তে পারে, আবার ব্যায়ামের ফলে কমেও যেতে পারে।

advertisement

অন্যদিকে, ডায়াবেটিস তখন হয় যখন অগ্ন্যাশয় পর্যাপ্ত ইনসুলিন তৈরি করতে পারে না অথবা শরীর ইনসুলিন ঠিকমতো ব্যবহার করতে ব্যর্থ হয়। ফলে রক্তে থাকা গ্লুকোজ কোষে প্রবেশ করে শক্তিতে রূপান্তরিত হতে পারে না এবং দীর্ঘ সময় ধরে রক্তে শর্করার মাত্রা স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি থাকে।

তবে একবার রক্ত পরীক্ষায় সুগার বেশি এলেই কাউকে ডায়াবেটিস রোগী বলা যায় না। মানসিক চাপ, সংক্রমণ, পর্যাপ্ত ঘুমের অভাব বা কিছু ওষুধের কারণে সাময়িকভাবে রক্তে শর্করা বেড়ে যেতে পারে। তাই চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষার মাধ্যমে নিশ্চিত হতে হয়।

advertisement

চিকিৎসকদের ভাষায়, ডায়াবেটিস একটি ‘নীরব ঘাতক’। প্রাথমিক পর্যায়ে অনেক সময় এর কোনো স্পষ্ট লক্ষণ থাকে না। তাই নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা এবং রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা পর্যবেক্ষণ করা অত্যন্ত জরুরি। সময়মতো রোগ শনাক্ত হলে জীবনযাত্রায় পরিবর্তনের মাধ্যমে হৃদরোগ, কিডনি, চোখ ও স্নায়ুর জটিলতা অনেকটাই প্রতিরোধ করা সম্ভব।

ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে রাখতে সুষম খাদ্যাভ্যাস সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। অতিরিক্ত মিষ্টি, কোমল পানীয়, ফাস্ট ফুড, পরিশোধিত কার্বোহাইড্রেট ও চর্বিযুক্ত খাবার কম খেতে হবে। এর পরিবর্তে আঁশসমৃদ্ধ গোটা শস্য, শাকসবজি, পরিমিত ফল, ডাল ও প্রোটিনসমৃদ্ধ খাবার খাওয়ার অভ্যাস গড়ে তুলতে হবে। খাবার সময়মতো এবং পরিমিত পরিমাণে খাওয়াও সমান গুরুত্বপূর্ণ।

advertisement

এ ছাড়া সপ্তাহে অন্তত ১৫০ মিনিট দ্রুত হাঁটা বা মাঝারি মাত্রার ব্যায়াম, প্রতিদিন ৭ থেকে ৮ ঘণ্টা ঘুম, শরীরের ওজন নিয়ন্ত্রণ, ধূমপান বর্জন এবং দীর্ঘ সময় একটানা বসে না থেকে নিয়মিত নড়াচড়া করার পরামর্শ দেন বিশেষজ্ঞরা। পাশাপাশি নিয়মিত রক্তে গ্লুকোজ, রক্তচাপ ও কোলেস্টেরল পরীক্ষা করানো উচিত। যারা ডায়াবেটিসে আক্রান্ত, তাদের অবশ্যই বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ওষুধ, খাদ্যাভ্যাস ও জীবনযাপন পরিচালনা করা প্রয়োজন।

  • সর্বশেষ