হোসাইন মোহাম্মদ দিদার : কুমিল্লার দাউদকান্দি মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. আব্দুল বারীকে প্রশাসনিক কারণে বর্তমান কর্মস্থল থেকে প্রত্যাহার করে পুলিশ লাইন, কুমিল্লায় সংযুক্ত করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (৩০ জুন) কুমিল্লার পুলিশ সুপার মো. আনিসুজ্জামান, পিপিএম স্বাক্ষরিত এক অফিস আদেশে এ নির্দেশনা দেওয়া হয়। আদেশে বলা হয়েছে, প্রশাসনিক কারণে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত ওসি মো. আব্দুল বারীকে পুলিশ লাইন্স, কুমিল্লায় সংযুক্ত করা হলো। আদেশটি অবিলম্বে কার্যকর করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
দাউদকান্দি মডেল থানায় মাত্র কয়েক মাস দায়িত্ব পালন করার পরই তাকে ক্লোজড করা হওয়ায় বিষয়টি নিয়ে এলাকাজুড়ে নানা আলোচনা শুরু হয়েছে। চলছে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ফেসবুকে তুমুল সমালোচনা।
তবে অফিস আদেশে তার প্রত্যাহারের সুনির্দিষ্ট কোনো কারণ উল্লেখ করা হয়নি।
এদিকে, কী কারণে তাকে দাউদকান্দি মডেল থানা থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকেও আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো ব্যাখ্যা দেওয়া হয়নি। ফলে এ নিয়ে বিভিন্ন মহলে নানা জল্পনা-কল্পনা দেখা দিলেও এর সত্যতা সম্পর্কে নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ওসি এম এ বারীর স্থলাভিষিক্ত হিসেবে নতুন কোনো কর্মকর্তার নাম এখনো ঘোষণা করা হয়নি।
উল্লেখ্য, পুলিশ প্রশাসনে প্রশাসনিক প্রয়োজনে কর্মকর্তাদের বদলি, সংযুক্তি (ক্লোজড) বা পদায়ন একটি নিয়মিত প্রক্রিয়া। তবে দাউদকান্দি মডেল থানায় স্বল্প সময় দায়িত্ব পালনের পর ওসি এম এ বারীকে ক্লোজড করার ঘটনাটি স্থানীয়ভাবে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
তবে দেশের শীর্ষ দৈনিক যুগান্তর পত্রিকার অনলাইন পোর্টালে একই দিনে দাউদকান্দি মডেল থানার দুই দারোগা গাঁজা বিক্রির বিষয় নিয়ে চারটি নিউজ করা হয়েছে। মঙ্গলবার দুপুরে উপজেলা আইনশৃঙ্খলা বিষয়ক সভায় কেন্দ্রীয় বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মারুফ হোসেন প্রধান অতিথির বক্তব্য দিতে গিয়ে দুই দারোগার ১৬০ কেজি গাঁজা বিক্রির বিষয়টি আইনশৃঙ্খলা বিষয়ক সভায় আলোচনায় আনেন। এতে ওসি এম এ বারী বিব্রতকর পরিস্থিতিতে পড়েন।
পত্রিকাটির অনলাইন ভার্সনে দাবি করা হয়েছে যে, মাদকের বিষয়ে নিউজ হওয়াতে ওসি এমএ বারীকে ক্লোজ করা হয়েছে। আসলে এ বিষয়ে পুলিশের কেউ মুখ খুলতে চাইছেন না। তবে পুলিশ সুপার অফিসের আদেশ নথিপত্রে দেখা যায় স্মারক নং : ১০১০(২৭) এবং এটি গোপনীয়।
ধারনা করা হচ্ছে, পুলিশের গোপনীয় শাখায় ভুক্তভোগীদের কোনো অভিযোগের প্রেক্ষিতে মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) এমএ বারীকে ক্লোজ করা হয়েছে।
এ বিষয়ে দাউদকান্দি সার্কেলের সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) খুলিলুর রহমান বলেন,
দাউদকান্দি সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার মো. খলিলুর রহমানের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে ( তার সরকারি ব্যবহৃত মোবাইল নম্বর কল করা হয়) তিনি রিসিভ না করায় কোনো প্রতিক্রিয়া জানা যায়নি।