স্পোর্টস ডেস্ক : ম্যাচ হেরেছে দল। বিদায় নিয়েছে বিশ্বকাপ থেকে। এবার ব্যর্থতার দায় নিজের কাঁধে নিয়ে নেদারল্যান্ডসের হেডকোচের পদ থেকে সরে দাঁড়ালেন রোনাল্ড কোম্যান। মরক্কোর বিরুদ্ধে টাইব্রেকারে হেরে রাউন্ড অফ ৩২ থেকে বিদায় নেওয়ার পর ইস্তফা দিয়েছেন ৬৩ বছরের কোচ।
ডাচ ফুটবলের এই কিংবদন্তি ইনস্টাগ্রামে তিনি লেখেন, ‘বিশ্বকাপে নতুন ইতিহাস লেখার স্বপ্ন দেখেছিলাম আমরা। সেই স্বপ্ন পূরণ হয়নি। এই ব্যর্থতার দায় আমার। আজ নেদারল্যান্ডসের হেডকোচ হিসাবে আমার মেয়াদ শেষ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি।’ ২০২৩ সালে দ্বিতীয়বার দায়িত্বে ফিরলেও প্রত্যাশিত সাফল্য এনে দিতে পারেননি। এর আগে তিনি জাতীয় দলের কোচ ছিলেন ২০১৮-২০ পর্যন্ত। বিশ্বকাপে বিদায় নিলেও তাঁর আমলে ২০২৪ ইউরো কাপে সেমিফাইনালে উঠেছিল কমলা বাহিনী।
বাংলাদেশ সময় মঙ্গলবার ভোরে মরক্কোর কাছে টাইব্রেকারে হেরেছে নেদারল্যান্ডস। গ্রুপ পর্বে গোলের মধ্যে ছিলেন দলের ফরোয়ার্ডরা। তবে রাউন্ড অফ ৩২-এর ম্যাচে হঠাৎই রক্ষণে বাড়তি নজর দিয়েছিলেন ডাচ হেডস্যর। যার পর প্রবল সমালোচনা শুরু হয় কোম্যানের কোচিং নিয়ে। জ্লাটান ইব্রাহিমোভিচ যেমন বলে দিয়েছেন, “লজ্জাজনক ফল। ওদের ভীতুর মতো দেখাল। ফলে এই হার প্রাপ্যই ছিল। কোম্যানের ভুলে ওরা হারল। দলটাকে চিনতে পারছি না। ডাচ ঘরানার কোনও ছাপ নেই ওদের খেলায়। এটা কোম্যানের ঘরানা। হারের দায় ওকেই নিতে হবে।
গ্রুপ পর্বে ৪-৩-৩ ছকে খেললেও হঠাৎ করে মরক্কোর বিরুদ্ধে তিনি দল সাজান ৫-২-৩ ফর্মেশনে। যা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। তবে কোম্যান হেরেও ‘উদ্ধত’ মানসিকতা ছাড়েননি। সমালোচনা নিয়ে পালটা বলছেন, “বিষয়টা হল, জিততে পারলে আমার সিদ্ধান্তের প্রশংসা হত। এখন হারের পর পাঁচ ডিফেন্ডার খেলানো নিয়ে আমার সমালোচনা হচ্ছে। আমরা ভয় পেয়ে এই ফর্মেশনে দল নামাইনি। বরং বল পজেশন বেশি রাখার লক্ষ্য থেকে এই পরিকল্পনা সাজাই।
এর আগে ২০১৪ এবং ২০২২ বিশ্বকাপেও পেনাল্টি শুটআউট ভুগিয়েছে ডাচদের। মাঝে ২০১৮ বিশ্বকাপে সুযোগ পায়নি তারা। ফলে টাইব্রেকারেই পথ হারানোর হ্যাটট্রিক করে ফেলল নেদারল্যান্ডস। সেখানে মরক্কোর বিরুদ্ধে সেভাবে সুযোগই তৈরি করতে পারেনি তারা। বরং দেখে মনে হয়েছে, তাদের লক্ষ্যই ছিল ম্যাচটা টাইব্রেকারে টেনে নিয়ে যাওয়া। কোম্যান অবশ্য বলছেন, আমার প্লেয়াররা ক্লান ছিল।
তাই শেষ পর্যন্ত প্রেস করতে পারেনি। তবে আমরা দারুণভাবে রক্ষণ সামলেছি। বিশ্বকাপে আসার আগে সবাই বলছিল, আমাদের পাঁচ ডিফেন্ডার নিয়ে খেলা উচিত। আজ সেটা করলাম, কিন্তু তাতেও প্রশ্ন উঠছে। আসলে সবারই নিজস্ব মতাতম আছে।” সঙ্গে নিজেদের ভাগ্যকেও দুষছেন তিনি।
মরক্কোর দ্বিতীয় পেনাল্টিটা ফলাফল নিশ্চিত করতে পারত। আমাদের গোলকিপার বলটা ঠেকিয়েও দেয়। কিন্তু ওর গায়ে লেগেই বল গোলে চলে যায়। আবার তারপর আমরা সুযোগ নষ্ট করি। পুরোটাই ভাগ্যের খেলা। দল জিতলে তো আমার পরিকল্পনার প্রশংসাই করতেন! বলছিলেন কিংবদন্তি ডাচ ডিফেন্ডার কোম্যান। প্রশ্ন হল, নেদারল্যান্ডসের কোচ হওয়ার দৌড়ে এগিয়ে আছেন কে? বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম সূত্রে জানা গিয়েছে, কোম্যানের উত্তরসূরি হিসাবে দেখা যেতে পারে আর্নে স্লটকে দেখা যেতে পারে।