শিরোনাম
◈ ১০ বছরে জ্বালানি তেল থেকে সরকারকে ১ লাখ ১৯ হাজার কোটি টাকা দিয়েছে বিপিসি ◈ লিভারপুলের অ্যানফিল্ড গুগল রেটিংয়ে এগিয়ে ◈ আফগান লিগে নাম লেখালেন তাসকিন ◈ ইউপি নির্বাচনে ইসির নতুন বিধান, জামানত বাড়ল পাঁচ গুণ ◈ বিদ্যুতায়নে বছরে কোটি কোটি ডলারের জ্বালানি আমদানি ব্যয় কমানোর সুযোগ বাংলাদেশের : আইইএর প্রতিবেদন ◈ ১১টি বোয়িং বিমান কেনার চুক্তি চূড়ান্তের পথে, এয়ারবাস নিয়ে ফ্রান্সের চাপ ◈ ভারত থেকে ইলিশ আমদানি বন্ধ, বাতিল ১০৩ অনাপত্তি সনদ ◈ ঢাকার আশপাশের বিদ্যুৎ নেটওয়ার্ক আধুনিকায়নে বাংলাদেশকে ২০০ মিলিয়ন ডলার ঋণ দিচ্ছে এডিবি ◈ জ্বালানি তেলের পর এবার বাড়ল লঞ্চ ভাড়া, কিলোমিটারে সর্বোচ্চ ২৩ পয়সা ◈ জ্যাকসের ঝড়ে লঙ্কা বিধ্বস্ত

প্রকাশিত : ২৭ জুন, ২০২৬, ০৮:০০ রাত
আপডেট : ১১ আগস্ট, ২০২৬, ০৬:০০ সকাল

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

চুল পড়া কমাতে সাপ্লিমেন্ট নয়, ভরসা রাখুন এই ৬ খাবারে

মাত্র কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই ঘন, লম্বা ও স্বাস্থ্যোজ্জ্বল চুল পাওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে হরহামেশাই বাজারে হরেক রকমের হেয়ার সাপ্লিমেন্ট বা সম্পূরক ওষুধ পাওয়া যায়। 

তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনবরত চুল পড়া, চুল পাতলা হয়ে যাওয়া কিংবা রুক্ষ দেখানোর মতো সমস্যাগুলো মূলত শরীরে পুষ্টির ঘাটতির সংকেত, যা দৈনন্দিন খাদ্যতালিকায় সামান্য কিছু পরিবর্তনের মাধ্যমেই সহজে সমাধান করা সম্ভব। 

advertisement

সম্প্রতি এক ইনস্টাগ্রাম পোস্টে ভারতীয় পুষ্টিবিদ লোভনীত বাত্রা পরামর্শ দিয়েছেন যে, চুলের যত্নে নতুন কোনো সাপ্লিমেন্ট যোগ করার আগে প্রত্যেকেরই নিজের ডায়েটের দিকে নজর দেওয়া উচিত। 

প্রোটিন, আয়রন, প্রয়োজনীয় ভিটামিন বা উপকারী চর্বি (হেলদি ফ্যাট)—আপনি যা খাচ্ছেন তা-ই ভেতর থেকে চুলের স্বাস্থ্য বজায় রাখতে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। 

advertisement

পুষ্টিবিদ বাত্রা ব্যাখ্যা করেন, ‘চুলের সঠিক বৃদ্ধির জন্য নিয়মিত পুষ্টি, প্রোটিন, আয়রন, জিংক, ভিটামিন সি, ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড, ভিটামিন বি-১২ এবং প্রয়োজনীয় ক্যালরির প্রয়োজন। কোনো একটি নির্দিষ্ট খাবার একাই চুল পড়া বন্ধ করতে পারে না। একইভাবে, শরীরে কোনো সুনির্দিষ্ট ঘাটতি না থাকলে সাপ্লিমেন্ট খাওয়ারও কোনো প্রয়োজন নেই।’ 

চুলের সুস্বাস্থ্যের জন্য তিনি এমন কিছু পুষ্টিকর খাবারের তালিকা দিয়েছেন, যা বিভিন্ন সাপ্লিমেন্টের চমৎকার প্রাকৃতিক বিকল্প হতে পারে:

advertisement

১. বায়োটিনের বিকল্প: সূর্যমুখীর বীজ

বাজারে প্রচলিত বায়োটিন সাপ্লিমেন্ট কেনার কথা ভাবলে তার বদলে প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় ১ টেবিল চামচ সূর্যমুখীর বীজ যুক্ত করার পরামর্শ দিয়েছেন তিনি। এই বীজ ভিটামিন ই, জিংক, সেলেনিয়াম এবং লিনোলিক অ্যাসিডে ভরপুর, যা চুলের বৃদ্ধিতে সাহায্য করে এবং চুলের আর্দ্রতা বজায় রাখে। এগুলো কাঁচা বা হালকা ভেজে স্ন্যাকস হিসেবে খাওয়া যায়। 

২. আয়রনের বিকল্প: সজনে পাতার গুঁড়ো 

আয়রন ক্যাপসুল বা ট্যাবলেটের পরিবর্তে সজনে পাতার গুঁড়োকে চুলের যত্নে একটি অনন্য ‘সুপারফুড’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন এই পুষ্টিবিদ। এতে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন এ, সি, ই, জিংক, আয়রন এবং অ্যামাইনো অ্যাসিড, যা চুল পড়া কমায় এবং চুলের গোড়া শক্ত করে। 

৩. প্রোটিন পাউডারের বিকল্প: পনির

চুলের পুষ্টির জন্য কৃত্রিম প্রোটিন পাউডারের ওপর নির্ভর না করে প্রতিদিন ১০০ গ্রাম পনির খাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। পনির কেবল প্রোটিনেই সমৃদ্ধ নয়, এতে থাকা ভিটামিন ই এবং সেলেনিয়াম চুলের ফলিকলকে শক্তিশালী করে এবং দীর্ঘস্থায়ী পুষ্টি জোগায়।

৪. ভিটামিন সি-এর বিকল্প: আমলকী 

ভিটামিন সি সাপ্লিমেন্ট এড়িয়ে সবাইকে নিয়মিত আমলকী খাওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি। ভিটামিন সি, অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট এবং আয়রনে সমৃদ্ধ আমলকী চুলের গোড়া শক্ত করতে, চুল ঘন করতে, খুশকি দূর করতে এবং অকালে চুল পেকে যাওয়া রোধ করতে অত্যন্ত কার্যকরী।

৫. ওমেগা-৩-এর বিকল্প: তিসির বীজ 

ওমেগা-৩ ক্যাপসুলের প্রাকৃতিক বিকল্প হিসেবে প্রতিদিন ১ টেবিল চামচ তিসির বীজ খাওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন লোভনীত বাত্রা। ভিটামিন ই, প্রোটিন এবং ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিডে সমৃদ্ধ এই বীজ চুলের ফলিকলকে পুষ্ট করে, চুলের বৃদ্ধি বাড়ায় এবং স্ক্যাল্প বা মাথার ত্বকের প্রদাহ কমায়।

৬. ভিটামিন বি-১২-এর বিকল্প: টক দই

ভিটামিন বি-১২ সাপ্লিমেন্ট নেওয়ার আগে খাদ্যতালিকায় টক দই রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। প্রোটিন, ভিটামিন এবং ল্যাকটিক অ্যাসিড সমৃদ্ধ টক দই চুলের জন্য একটি প্রাকৃতিক ‘ডিপ কন্ডিশনার’ হিসেবে কাজ করে, চুলের রুক্ষতা নিয়ন্ত্রণ করে এবং মাথার ত্বকের চুলকানি কমায়। এছাড়া দইয়ের ল্যাকটিক অ্যাসিড মাথার ত্বকের মৃত কোষ দূর করে খুশকি তাড়াতে সাহায্য করে। 

পুষ্টিবিদ বাত্রা আরও মনে করিয়ে দেন, যদি চুল পড়া হঠাৎ খুব বেড়ে যায়, তীব্র বা গুচ্ছ আকারে চুল পড়তে থাকে, তবে ঘরে বসে না থেকে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত। সেক্ষেত্রে রক্ত পরীক্ষার মাধ্যমে শরীরে আয়রন/ফেরিটিন, ভিটামিন বি-১২, ভিটামিন ডি, থাইরয়েড বা অন্য কোনো হরমোনজনিত সমস্যা আছে কিনা, তা নিশ্চিত হওয়া জরুরি। 

সূত্র: এনডিটিভি 

  • সর্বশেষ