ডিম বিশ্বের অন্যতম জনপ্রিয় ও বহুমুখী খাবার। এতে যেমন ভালো মানের প্রোটিন আছে, তেমনি রয়েছে বিভিন্ন প্রয়োজনীয় ভিটামিন ও খনিজ। তবে ডিম খাওয়ার ক্ষেত্রে সবার পছন্দ এক নয়। কেউ কুসুমসহ পুরো ডিম খান, আবার কেউ শুধু সাদা অংশ খান।
ওজন নিয়ন্ত্রণ বা পেশি বাড়ানোর ক্ষেত্রে আস্ত ডিম ও ডিমের সাদা অংশের মধ্যে কোনটি বেছে নেওয়া উচিত এ নিয়ে অনেকেরই প্রশ্ন আছে। একদিকে ডিমের সাদা অংশে ক্যালরি কম এবং প্রোটিন বেশি, অন্যদিকে কুসুমে থাকে ডিমের বেশিরভাগ ভিটামিন, স্বাস্থ্যকর চর্বি ও অন্যান্য পুষ্টি উপাদান।
আস্ত ডিম ও ডিমের সাদা অংশের পার্থক্য
আস্ত ডিম তুলনামূলকভাবে বেশি পুষ্টিকর। ডিমের কুসুমে ভিটামিন ডি, বি-ভিটামিন, কোলিনসহ একাধিক ভিটামিন, স্বাস্থ্যকর চর্বি ও অন্যান্য পুষ্টি উপাদান থাকে।
অন্যদিকে, ডিমের সাদা অংশ প্রায় সম্পূর্ণই প্রোটিন এবং এতে ক্যালরি ও চর্বির পরিমাণ কম। এ কারণে পেশি বাড়ানো বা ওজন কমানোর লক্ষ্যে যারা ক্যালরি নিয়ন্ত্রণ করেন, তাদের কাছে ডিমের সাদা অংশ জনপ্রিয়।
২টি আস্ত ডিম নাকি ৫টি ডিমের সাদা অংশ?
ওজন কমানো ও পেশি বাড়ানোর ক্ষেত্রে কোনটি বেছে নেবেন তা নির্ভর করে ব্যক্তির খাদ্যাভ্যাস ও লক্ষ্যের ওপর। দুটি আস্ত ডিমে প্রায় ১৪০ ক্যালরি এবং ১২ গ্রাম উচ্চমানের প্রোটিন থাকে। এর সঙ্গে পাওয়া যায় স্বাস্থ্যকর চর্বি ও বিভিন্ন পুষ্টি উপাদান। অন্যদিকে, পাঁচটি ডিমের সাদা অংশে প্রায় ৮৫ ক্যালরি এবং ১৮ গ্রাম প্রোটিন পাওয়া যায়।
ওজন কমাতে কী করবেন
ক্যালরি কমানো যদি আপনার প্রধান লক্ষ্য হয়, তাহলে পাঁচটি ডিমের সাদা অংশ বেছে নেওয়া সুবিধাজনক হতে পারে। এতে তুলনামূলক কম ক্যালরিতে বেশি প্রোটিন পাওয়া যায়। ফলে দৈনিক ক্যালরি ঘাটতি বজায় রাখা সহজ হয় এবং পেশির ভর ধরে রাখতে সহায়তা করতে পারে।
পেশি বাড়াতে কী করবেন
পেশি বাড়ানো ও শরীরচর্চার পর পুনরুদ্ধার যদি প্রধান লক্ষ্য হয়, তাহলে দুটি আস্ত ডিম বেছে নেওয়া যেতে পারে। ডিমের কুসুমে থাকা স্বাস্থ্যকর চর্বি, ভিটামিন, খনিজ ও অন্যান্য পুষ্টি উপাদান শরীরের সামগ্রিক পুষ্টির চাহিদা পূরণে ভূমিকা রাখে।
এ ছাড়া দীর্ঘ সময় পেট ভরা রাখা এবং খাবারে পুষ্টির ভারসাম্য আনতেও আস্ত ডিম উপকারী হতে পারে।
তাহলে কোনটি ভালো?
সাধারণভাবে সুস্থ মানুষের জন্য আস্ত ডিম বেশি পুষ্টিকর। শুধু সাদা অংশ খেলে কুসুমে থাকা অনেক ভিটামিন, খনিজ ও অন্যান্য পুষ্টি উপাদান থেকে শরীর বঞ্চিত হতে পারে।
ডিমের কুসুমে কোলেস্টেরল থাকলেও, সুস্থ মানুষের ক্ষেত্রে খাদ্য থেকে পাওয়া কোলেস্টেরলই রক্তের কোলেস্টেরল বা হৃদরোগের ঝুঁকি উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ায় এমন ধারণাকে আধুনিক গবেষণা অনেকটাই প্রশ্নবিদ্ধ করেছে।
তবে যাদের হৃদরোগ বা রক্তে কোলেস্টেরলের সমস্যা রয়েছে, তাদের ক্ষেত্রে খাদ্যতালিকায় ডিমের কুসুমের পরিমাণ নিয়ে চিকিৎসক বা পুষ্টিবিদের পরামর্শ নেওয়া ভালো। একইভাবে, কঠোরভাবে ক্যালরি কমানোর পরিকল্পনা থাকলেও ডিমের সাদা অংশ বেছে নেওয়া সুবিধাজনক হতে পারে।
শুধু আস্ত ডিম অথবা শুধু সাদা অংশ এই দুটির মধ্যে একটি বেছে নেওয়া জরুরি নয়। চাইলে দুটিকে একসঙ্গে খাওয়া যেতে পারে।
যেমন, দুটি আস্ত ডিমের পরিবর্তে একটি আস্ত ডিমের সঙ্গে তিন বা চারটি ডিমের সাদা অংশ খাওয়া যেতে পারে। এতে কুসুমের পুষ্টি উপাদানের পাশাপাশি সাদা অংশ থেকে অতিরিক্ত প্রোটিন পাওয়া যাবে, আবার মোট ক্যালরিও তুলনামূলক কম থাকবে।
পরিশেষে বলা যায়, ডিম খাওয়ার সিদ্ধান্ত ব্যক্তির স্বাস্থ্য, দৈনিক ক্যালরির চাহিদা, পুষ্টির প্রয়োজন এবং খাদ্যাভ্যাসের ওপর নির্ভর করে। যার যার প্রয়োজন অনুযায়ী ও পদ্ধতিতেই ডিম খাওয়া উচিত।