শিরোনাম
◈ মিরপুরে ‘চাঁদার জাঁতাকলে’ ব্যবসায়ীরা, এক গ্রুপের চাঁদা মিটলেই হাজির আরেক গ্রুপ ◈ ৫ ওভারে জাপানের রান তাড়া করে এশিয়ান গেমসের সেমিফাইনালে ভারতের মেয়েরা ◈ ১০১ চুক্তি পর্যালোচনা করছে বাংলাদেশ, নিজ স্বার্থ রক্ষায় ব্যবস্থা নেবে ভারত ◈ গোপন বৈঠক থেকে জঙ্গি সন্দেহে আটক ২৩ ◈ হামের উপসর্গে ২ শিশুর প্রাণহানি, আক্রান্ত ১২৯৭ ◈ সার্ক পুনরুজ্জীবিত করতে ভুটানের সহযোগিতা চাইলেন দুই মন্ত্রী ◈ রাজধানীতে ককটেল বিস্ফোরণ, ফুটেজ দেখে দুর্বৃত্তদের খুঁজছে পুলিশ ◈ পাকিস্তানে পুলিশ লাইনে আত্মঘাতী হামলা, নিহত ১৬, আহত অর্ধশতাধিক ◈ মানুষের বিলুপ্তির কারণ হতে পারে এআই? গবেষকদের ৪ আশঙ্কা ◈ প্রার্থী কমাতে ইউপি নির্বাচনে কঠোর ইসি, বাড়ছে জামানত ও ব্যয়সীমা

প্রকাশিত : ১৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ০৬:৫৯ বিকাল
আপডেট : ১৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ০৬:৫৯ বিকাল

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

কুমিল্লায় শহরের গণ্ডি পেরিয়ে গ্রামে ডেঙ্গুর বিস্তার

শাহাজাদা এমরান, স্টাফ রিপোর্টার,কুমিল্লা : কুমিল্লায় ডেঙ্গুর প্রকোপ এখন আর নগরকেন্দ্রিক নেই। শহর পেরিয়ে জেলার বিভিন্ন গ্রামেও ছড়িয়ে পড়ছে এডিস মশাবাহিত এই রোগ। চলতি বছর জেলায় ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়েছেন ১ হাজার ৭৫৩ জন। এর মধ্যে মারা গেছেন সাতজন। সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয়, গত এক মাসে আক্রান্তের সংখ্যা আগের তুলনায় দ্বিগুণের বেশি বেড়েছে। ফলে বর্ষার শেষ সময়ে ডেঙ্গু পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে সাধারণ মানুষের মধ্যে।

স্বাস্থ্য বিভাগের তথ্য বলছে, জেলায় মোট ডেঙ্গু আক্রান্তের প্রায় ৩৩ শতাংশই দাউদকান্দি উপজেলার বাসিন্দা। উপজেলার দোনারচর এলাকায় সংক্রমণের হার তুলনামূলক বেশি হওয়ায় এলাকাটিকে ডেঙ্গুর হটস্পট হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। স্থানীয়ভাবে পানি জমিয়ে রাখার প্রবণতা এবং সচেতনতার ঘাটতিকে সংক্রমণ বৃদ্ধির অন্যতম কারণ হিসেবে দেখছে স্বাস্থ্য বিভাগ।

advertisement

শুধু দাউদকান্দি নয়, জেলার বিভিন্ন গ্রামেও ডেঙ্গু রোগীর সন্ধান মিলছে। একই সঙ্গে কুমিল্লা নগরীর সরকারি-বেসরকারি হাসপাতালগুলোতেও বাড়ছে রোগীর চাপ। চিকিৎসকদের আশঙ্কা, সেপ্টেম্বর ও অক্টোবর মাসে বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকলে পরিস্থিতি আরও জটিল হতে পারে।

সম্প্রতি ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া সরকারি কলেজের শিক্ষার্থী ও নয় মাসের অন্তঃসত্ত্বা নুরজাহানের মৃত্যু হয়েছে। এর পর বৃহস্পতিবার নগরীর একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ওয়াজিহা নামে চার বছরের এক শিশুর মৃত্যু হয়। পরপর এসব মৃত্যুর ঘটনায় নগর ও গ্রামাঞ্চলে ডেঙ্গু নিয়ে আতঙ্কও বাড়ছে।

advertisement

জেলা স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মকর্তারা বলছেন, এডিস মশার প্রজনন ঠেকাতে পারলেই ডেঙ্গুর বিস্তার অনেকাংশে নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব। কিন্তু বাড়ির আঙিনা, ফুলের টব, পরিত্যক্ত পাত্র, নির্মাণাধীন ভবন, ডাবের খোসা, পুরোনো টায়ার কিংবা প্লাস্টিকের পাত্রে জমে থাকা সামান্য পানিও এডিস মশার প্রজননস্থলে পরিণত হচ্ছে।

দাউদকান্দির দোনারচর এলাকায় বৃষ্টির পানি বিভিন্ন পাত্রে জমিয়ে রাখার কারণে সেখানে এডিস মশার লার্ভা পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছে স্বাস্থ্য বিভাগ। এসব স্থান থেকেই মশার বিস্তার ঘটছে এবং স্থানীয়দের মধ্যে ডেঙ্গু সংক্রমিত হচ্ছে বলে সংশ্লিষ্টদের ধারণা।

advertisement

কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মেডিসিন বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ডা. মো. হেলাল উদ্দিন বলেন, ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হওয়া রোগীদের যথাযথ চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। তবে শুধু রোগীর চিকিৎসা করলেই ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণ সম্ভব নয়। এডিস মশার প্রজননস্থল ধ্বংস করতে হবে। তা না হলে নতুন মশা জন্ম নিয়ে সংক্রমণের ঝুঁকি আরও বাড়াবে। এজন্য সবাইকে সম্মিলিতভাবে সচেতন হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

এদিকে ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে কুমিল্লা সিটি করপোরেশনও পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম জোরদার করেছে। পাশাপাশি নগরীর সম্ভাব্য ডেঙ্গু হটস্পট চিহ্নিত করার কাজ চলছে বলে জানিয়েছেন সিটি করপোরেশনের প্রশাসক ইউসুফ মোল্লা টিপু। তিনি বলেন, নগরীতে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা অভিযানের পাশাপাশি ডেঙ্গুর হটস্পট শনাক্তে কা চলছে। কোথাও যাতে পানি জমে না থাকে, সেদিকে সবাইকে নজর দিতে হবে। বিশেষ করে টায়ার, ফুলের টবসহ যেসব স্থানে দীর্ঘদিন পানি জমে থাকতে পারে, সেগুলো নিয়মিত পরিষ্কার করতে হবে। নিজেদের ঘরবাড়ি, আঙিনা ও আশপাশের পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখার ওপরও গুরুত্ব দেন তিনি।

নাগরিক অধিকার ফোরাম কুমিল্লার সাধারণ সম্পাদক সাংবাদিক শাহাজাদা এমরান বলেন, “ডেঙ্গু এখন আর শুধু নগরীর মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই, গ্রামাঞ্চলেও এর বিস্তার ঘটছে। এডিস মশার প্রজননস্থল ধ্বংসের পাশাপাশি নিয়মিত পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম ও জনসচেতনতা বাড়াতে হবে। বিশেষ করে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলো চিহ্নিত করে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে। ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে প্রশাসন, জনপ্রতিনিধি ও সাধারণ মানুষকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে।”

কুমিল্লার সিভিল সার্জন মো. জহিরুল ইসলাম বলেন, ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীদের অগ্রাধিকার ভিত্তিতে চিকিৎসা দেওয়ার জন্য জেলার সব হাসপাতালকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ডেঙ্গুর বিস্তার ঠেকাতে সরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি নাগরিক সচেতনতা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। জ্বর, শরীর ব্যথা, মাথাব্যথা, বমি কিংবা রক্তপাতের মতো উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত পরীক্ষা করিয়ে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া প্রয়োজন। একই সঙ্গে বাড়ি ও আশপাশে পানি জমতে না দেওয়াকে ডেঙ্গু প্রতিরোধের প্রথম পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন তারা।

  • সর্বশেষ