প্রতিদিনের ব্যস্ত জীবনে একটু সময় বের করে সূর্যের ডুবে যাওয়া বা সূর্যাস্ত দেখা কেবল চোখের শান্তিই দেয় না, বরং এটি আমাদের মানসিক ও শারীরিক স্বাস্থ্যের জন্য দারুণ উপকারী। সাম্প্রতিক বিভিন্ন বৈজ্ঞানিক গবেষণায় দেখা গেছে, নিয়মিত সূর্যাস্ত বা সূর্যোদয় অবলোকন করলে মানুষের হতাশা ও উদ্বেগ কমে, মেধা ও স্মৃতিশক্তি বাড়ে এবং রাতের ঘুম গভীর হয়।
মনোবিজ্ঞানীদের মতে, সূর্যাস্তের মনোরম দৃশ্য আমাদের মনে এক ধরণের ‘বিস্ময়’ বা ‘শ্রদ্ধাবোধ’ তৈরি করে। আমেরিকার অ্যারিজোনা স্টেট ইউনিভার্সিটির সামাজিক মনোবিজ্ঞানের অধ্যাপক মিশেল শিওটা জানান, এই বিস্ময়ের অনুভূতি মানুষকে তার নিজের সমস্যাগুলোকে প্রকৃতির বিশালতার তুলনায় খুব ছোট বা তুচ্ছ ভাবার সুযোগ করে দেয়। এর ফলে মনের ভেতরের মানসিক চাপ ও দুশ্চিন্তার বৃত্ত ভেঙে যায় এবং মানুষ বর্তমান মুহূর্তে বাঁচতে শেখে।
টরন্টো ইউনিভার্সিটির মনোবিজ্ঞানী জেনিফার স্টেলার এক গবেষণায় দেখিয়েছেন, যারা নিয়মিত প্রকৃতি ও সূর্যাস্তের মতো সুন্দর দৃশ্য উপভোগ করেন, তাদের শরীরে ক্ষতিকারক ‘সাইটোকাইন’-এর মাত্রা অনেক কম থাকে। এই সাইটোকাইনের উচ্চ মাত্রা ডায়াবেটিস, হৃদরোগ ও বিষণ্ণতার জন্য দায়ী।
মানসিক প্রশান্তির পাশাপাশি মানবদেহের অভ্যন্তরীণ ঘড়ি ঠিক রাখতেও সূর্যাস্তের আলো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। নিউ ইয়র্কের আইকান স্কুল অব মেডিসিনের অধ্যাপক মারিয়ানা ফিগেইরো জানান, মানুষ মূলত প্রাকৃতিকভাবেই সূর্যোদয় এবং সূর্যাস্ত দেখার জন্য তৈরি। ভোরের আলো যেখানে আমাদের শরীরে শক্তি জোগাতে কর্টিসল হরমোন বাড়ায়, ঠিক তেমনি গোধূলির নরম লাল ও সোনালী আলো আমাদের স্নায়ুতন্ত্রকে শান্ত করে। এটি শরীরকে জানান দেয় যে দিনের কাজ শেষ এবং এখন বিশ্রামের সময়। ফলে শরীর প্রাকৃতিকভাবেই ‘মেলাটোনিন’ নামক ঘুমের হরমোন তৈরি করতে শুরু করে। যারা কৃত্রিম স্ক্রিনের নীল আলোর বদলে সূর্যাস্তের প্রাকৃতিক আলো দেখেন, তাদের ঘুমের মান অনেক ভালো হয়।
গবেষণায় আরও দেখা গেছে, প্রকৃতির এই অপরূপ সৌন্দর্য মানুষের মেধা বাড়াতে এবং মানুষকে আরও বেশি দয়ালু বা পরোপকারী করতে সাহায্য করে। গবেষকরা বলছেন, প্রকৃতির এই উপহারটি সম্পূর্ণ বিনামূল্যে প্রতিদিন আমাদের সামনে হাজির হয়। তাই সুস্থ মন ও সুস্থ শরীরের জন্য প্রতিদিন নিয়ম করে কিছুক্ষণের জন্য হলেও সূর্যাস্ত দেখার অভ্যাস করা উচিত।
সূত্র: বিবিসি।