শিরোনাম
◈ স্থানীয় সরকারে মঈন খান: অভিজ্ঞ নেতৃত্বের সামনে বড় পরীক্ষা ◈ ছাত্র অবস্থায় এমপি, দুই দশক পর প্রতিমন্ত্রী শামীম লিংকন ◈ দুই প্রতিমন্ত্রী এক মন্ত্রণালয়ে ◈ ফাঁস দিয়ে মৃত্যুর মিছিল, ৬ মাসে ১০০ জনের মৃত্যু ব্রাহ্মণবাড়িয়ায়  ◈ প্রথমবার পূর্ণমন্ত্রী হওয়া রশিদুজ্জামান মিল্লাতের রাজনৈতিক উত্থান যেভাবে ◈ মন্ত্রিসভায় রদবদলের প্রজ্ঞাপন জারি: কে কোন মন্ত্রণালয়ে ◈ শনিবার টানা ১১ ঘণ্টা বিদ্যুৎ থাকবে না যেসব এলাকায় ◈ শ‌নিবার শুরু দ্বিতীয় টেস্ট, জিত‌লে ইতিহাস গড়বে  বাংলাদেশ, অস্ট্রেলিয়ার লক্ষ্য হোয়াইটওয়াশ এড়ানো ◈ শনিবার সকালে জাতীয় স্মৃতিসৌধে যাবেন রাষ্ট্রপতি ◈ তিন মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব সামলে এবার পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির

প্রকাশিত : ২৮ জুন, ২০২৬, ০৮:৪৬ রাত
আপডেট : ২০ আগস্ট, ২০২৬, ১০:০০ দুপুর

প্রতিবেদক : মনিরুল ইসলাম

বিরোধী দল সেই সংস্কারের কথা বলে, যে সংস্কার তাদের ক্ষমতার ভাগ দেবে : স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী

মনিরুল ইসলাম : বিরোধী দল সেই সংস্কারের কথা বলে, যে সংস্কার তাদের ক্ষমতার ভাগ দেবে বলে অভিযোগ করেছেন স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী অধ্যাপক ডা. এম এ মুহিত ৷ তারা স্বাস্থ্যখাতে সংস্কার নিয়ে একদিনও কথা বলেননি বলেও তিনি অভিযোগ করেন।

আজ রোববার জাতীয় সংসদের অধিবেশনে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটের উপর সাধারণ আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এসব কথা জানান। এ সময় অধিবেশনে সভাপতিিত্ব করেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম।

স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী বলেন, বিরোধী দল মাঝে মাঝেই সংস্কারের কথা বলেন, জুলাই সনদের কথা বলেন। উনারা শুধু সেই সংস্কারের কথা বলেন, যেই সংস্কার উনাদেরকে ক্ষমতার ভাগ দেবে। উনারা স্বাস্থ্যখাতে সংস্কার নিয়ে একদিনও আজ পর্যন্ত কথা বলেননি।

রবিবার (২৮ জুন) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের দ্বিতীয় ও প্রথম বাজেট অধিবেশনের ১৭তম দিন ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেট আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, কোন প্রেক্ষাপটে এই বাজেট তৈরি করা হয়েছে এবং আমরা সকলেই জানি। বিগত ১৫ বছরের দুঃশাসনে আমাদের অর্থনীতি ভেঙে পড়েছে। আমাদের স্বাস্থ্য ব্যবস্থা ভেঙে পড়েছে, আমাদের শিক্ষা ব্যবস্থা ভেঙে পড়েছে। একটি গণআন্দোলনের মাধ্যমে ফ্যাসিস্ট সরকারের পতনের পর একটি গণতান্ত্রিক নির্বাচনের মাধ্যমে এই সংসদ নির্বাচিত হয়েছে। তাই এই সংসদের কাছে বাংলাদেশের মানুষের প্রত্যাশা অনেক এবং সরকারের দায়িত্ব সেই প্রত্যাশা এবং প্রাপ্তির সমন্বয় করা আমাদের সীমিত সম্পদের ভেতর দিয়ে।

ডা. এম এ মুহিত বলেন, স্বাস্থ্যখাতে আমাদের বাজেট নিয়ে আমার আলোচনাকে ফোকাস করতে চাই। আমাদের স্বাস্থ্যখাতের যে বাজেট দেওয়া হয়েছে, আমার বিরোধীদলীয় সংসদ সদস্যদের বলব, আপনারা তর্ক করার জন্য নয়, কিংবা সমালোচনার জন্য নয়, আসুন আলোচনার জন্য। আমরা কথা বলি এবং বোঝার চেষ্টা করি আমাদের দৃষ্টিভঙ্গিগুলো।

প্রতিমন্ত্রী এম এ মুহিত বলেন, আমি মনে করি, আমাদের এই স্বাস্থ্যবাজেট যে লক্ষ্য নিয়ে তৈরি করা হয়েছে সে লক্ষ্যটি হচ্ছে— আমরা এই ভেঙে পড়া স্বাস্থ্যব্যবস্থাকে ঢেলে সাজাতে চাই, একটি সমন্বিত স্বাস্থ্যব্যবস্থা তৈরি করতে চাই। যেখানে ধনী-গরীব নির্বিশেষে বিনামূল্যে সহজলভ্য চিকিৎসা পাবেন। অর্থাৎ একটি এক্সেসেবল এফোরডেবল এবং ইনক্লুসিভ হেলথ সিস্টেম করার জন্য এই বাজেট তৈরি করা হয়েছে। স্বাস্থ্যখাতে বাজেট প্রায় দ্বিগুণ হয়েছে। বিগত বছরে ৩৫ হাজার কোটি টাকা থেকে এবার ৬৯ হাজার কোটি টাকা স্বাস্থ্যখাতে বরদ্য করেছে আমাদের সরকার। এই বিশাল বিনিয়োগের প্রধান কারণটা কী? স্বাস্থ্যখাতে বিনিয়োগ শুধুমাত্র হাসপাতাল তৈরি নয়, কিংবা জনগণের স্বাস্থ্যের সাময়িক উন্নতি নয়। স্বাস্থ্যখাতে বিনিয়োগ পুরো জনগোষ্ঠী গড় আয়ু বৃদ্ধি করে। মানুষকে সুস্থভাবে বাঁচতে দেয়। স্বাস্থ্যখাতে বিনিয়োগ দারিদ্র নিরসন করে, মানুষকে সুস্থ এবং প্রোডাক্টিভ রাখে।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, স্বাস্থ্যখাতে বিনিয়োগ আমাদের ওয়েলবিং এবং হ্যাপিনেস তৈরি করে। স্বাস্থ্যখাতে বিনিয়োগ আমাদের সমাজে বৈষম্য দূর করে সম্প্রীতির সমাজ তৈরিতে সৃষ্টি করে। বাংলাদেশের স্বাস্থ্যখাতে যে বড় চ্যালেঞ্জগুলো আমরা এই সময় দেখতে পাচ্ছি আমাদের যে সর্বাত্মকভাবে যে মৃত্যু হয় মানুষের, তার শতকরা ৭১ ভাগ বাংলাদেশে নন-কমিউনিকেবল ডিজিজ বা অসংক্রামক ব্যাধির কারণে হচ্ছে। অর্থাৎ ডায়াবেটিস, হাইপারটেনশন এই ধরনের দীর্ঘমেয়াদী রোগ, কিডনির রোগ এই সমস্ত কারণে মানুষ মারা যাচ্ছে।

স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশে এবং বিশ্বের বর্তমান বাস্তবতায় স্বাস্থ্যঘাতে আরেকটি বড় চ্যালেঞ্জ হচ্ছে, অতিমারি এবং মহামারী এর সংখ্যা একইসঙ্গে নগরায়ন দ্রুতগতিতে মানুষ গ্রাম থেকে নগরে চলে আসছে এবং সেখানে একটি দরিদ্র জনগোষ্ঠী হিসেবে তাদের জীবন যাপন করতে হচ্ছে। প্রযুক্তি উৎকর্ষের সঙ্গে সঙ্গে স্বাস্থ্যখাতে ও প্রযুক্তির ব্যবহারের যে সুযোগ আছে, সেই সুযোগগুলোকে আমাদের কাজে লাগাতে হবে। আধুনিক প্রযুক্তির মাধ্যমে স্বাস্থ্যখাত এবং চিকিৎসাকে আরও বেশি কার্যকর করে তুলতে হবে। একই সঙ্গে দেশে প্রধান একটি সমস্যা চিকিৎসার খরচ বৃদ্ধি পেয়েছে এবং তার চেয়েও ভয়ঙ্কর ব্যাপার হচ্ছে, এই খরচের শতকরা ৭৯ ভাগ আউট অফ পকেট এক্সপেন্ডিচার। অর্থাৎ রোগীর পকেট থেকে টাকা দিয়ে তাকে চিকিৎসা নিতে হয়। এই একই সংখ্যাটি থাইল্যান্ডে মাত্র শতকরা ১০ ভাগ এবং মালদ্বীপে মাত্র ১৮ ভাগ, আমাদের দেশের মানুষকে ৮০ ভাগ পকেট থেকে টাকা দিয়ে চিকিৎসা নিতে হয়। তাই এই বাজেটকে দেখতে হবে এমন একটি বাজেট, যে বাজেটে অপরিকল্পিতভাবে এখানে-সেখানে বিল্ডিং আর হাসপাতাল তৈরি করার কোনও পরিকল্পনা নেই।

বাজেট নিয়ে বিরোধী দলের সমালোচনা নিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, এই বাজেট আমাদের বিরোধী দল মাঝে মাঝেই সংস্কারের কথা বলেন, জুলাই সনদের কথা বলেন। উনারা শুধু সেই সংস্কারের কথা বলেন, যেই সংস্কার উনাদেরকে ক্ষমতার ভাগ দেবে। উনারা স্বাস্থ্যখাতে সংস্কার নিয়ে একদিনও আজ পর্যন্ত কথা বলেননি। একটি স্বাস্থ্য সংস্কার কমিশন হয়েছিল। তারা অনেক কিছু চিন্তাভাবনা করে অনেক কিছু লিখে দিয়েছেন। আমি খুশি হতাম আমাদের বিরোধী দল যদি সেই স্বাস্থ্যখাত সংস্কার কমিশনের রিপোর্ট নিয়ে আমাদের এখানে কথা বলতেন। আমরা চাই স্বাস্থ্যব্যবস্থাকে পুনর্গঠন করতে, সংস্কার করতে। স্বাস্থ্যখাতে ভৌত কাঠামোর সংস্কার দরকার প্রতিটা বিল্ডিং ভেঙে পড়েছে, মানব সম্পদের সংস্কার প্রয়োজন চিকিৎসা পদ্ধতিসহ হেলথ ম্যানেজমেন্টের ইমপ্রুভমেন্ট দরকার, ডিসেন্ট্রালাইজেশন দরকার এবং কেনাকাটার ক্ষেত্রে ট্রান্সপারেন্সি এবং একাউন্টেবিলিটি দরকার। আমরা এমন স্বাস্থ্যব্যবস্থা গড়ে তুলব যেখানে নগর এবং গ্রামের মানুষ একই ধরনের স্বাস্থ্য পাবে।

আমরা স্বাস্থ্যব্যবস্থা গড়ে তুলবো- যে স্বাস্থ্যব্যবস্থার ভিত্তি হবে আমাদের প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা। এবারের বাজেট যেমন শতভাগ বৃদ্ধি পেয়েছে, পাশাপাশি আমাদের চ্যালেঞ্জগুলো রয়েছে। আমরা জোর দেব রোগ প্রতিরোধে, রোগের চিকিৎসার চেয়ে রোগ হওয়ার আগেই আমরা সেটাকে থামানোর চেষ্টা করব।

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়