দীর্ঘ রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক অভিজ্ঞতার পর এবার স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পেলেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আবদুল মঈন খান।
শুক্রবার (২১ আগস্ট) বঙ্গভবনে নতুন মন্ত্রী হিসেবে শপথ নেওয়ার পর তার হাতে গুরুত্বপূর্ণ এই মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেওয়া হয়।
মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হওয়ার পর স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রীর পদটি শূন্য হয়। সেই শূন্যস্থান পূরণে মঈন খানকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠান, নগর ব্যবস্থাপনা, গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়ন, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় খাত-সব মিলিয়ে তার সামনে এখন বড় পরিসরের দায়িত্ব।
ড. আবদুল মঈন খান বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য এবং নরসিংদী-২ আসনের সংসদ সদস্য।
এর আগে বিএনপি সরকারের সময়ে তিনি তথ্য মন্ত্রণালয়, পরিকল্পনা এবং বিজ্ঞান ও তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি-সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পালন করেছেন। ফলে নতুন দায়িত্ব তার জন্য প্রশাসনিকভাবে একেবারে অপরিচিত নয়।
চলতি বছরের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নরসিংদী-২ আসন থেকে নির্বাচিত হওয়ার পরও তিনি বিভিন্ন নীতিনির্ধারণী বিষয়ে সক্রিয় ছিলেন। স্থানীয় প্রশাসনের কর্মকর্তাদের দলীয় রাজনীতির ঊর্ধ্বে থেকে জনগণের কল্যাণে কাজ করার আহ্বানও তিনি জানিয়েছিলেন।
নতুন দায়িত্বে ড. মঈন খানের সামনে সবচেয়ে বড় বিষয়গুলোর একটি হবে স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলোকে আরও কার্যকর ও জনবান্ধব করা। ইউনিয়ন পরিষদ থেকে সিটি করপোরেশন-বিভিন্ন স্তরের স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানের সেবা যেন দ্রুত ও স্বচ্ছভাবে মানুষের কাছে পৌঁছায়, সেটি নিশ্চিত করা গুরুত্বপূর্ণ।
নগর ব্যবস্থাপনায় যানজট, জলাবদ্ধতা, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, সড়ক ও ড্রেনেজের মতো দীর্ঘদিনের সমস্যাগুলোও তার মন্ত্রণালয়ের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ। একই সঙ্গে শহর ও গ্রামের উন্নয়নের মধ্যে ভারসাম্য রাখা এবং স্থানীয় পর্যায়ে উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নে জবাবদিহি বাড়ানোও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।
স্থানীয় সরকারের পাশাপাশি পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বও রয়েছে মঈন খানের হাতে। ফলে গ্রামের অবকাঠামো, কর্মসংস্থান, ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা এবং সমবায়ভিত্তিক অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডকে আরও গতিশীল করার সুযোগ রয়েছে।
বিশেষ করে স্থানীয় পর্যায়ে জনগণের অংশগ্রহণ বাড়িয়ে উন্নয়ন পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করতে পারলে সরকারের সঙ্গে সাধারণ মানুষের দূরত্ব কমানো সম্ভব বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
প্রযুক্তি ও প্রশাসনিক ব্যবস্থাপনায় মঈন খানের পূর্ব অভিজ্ঞতা থাকায় স্থানীয় সরকার ব্যবস্থায় ডিজিটাল সেবার সম্প্রসারণেও তার ওপর প্রত্যাশা থাকবে। ভূমি, নাগরিক সেবা, স্থানীয় কর, জন্ম-মৃত্যু নিবন্ধনসহ বিভিন্ন সেবা আরও সহজ ও দ্রুত করার ক্ষেত্রে প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানোর সুযোগ রয়েছে।
এর আগে তিনি জনগণের সেবা নেওয়ার প্রক্রিয়া সহজ করার ওপর গুরুত্ব দেওয়ার কথা বলেছিলেন।
অভিজ্ঞ রাজনীতিক হিসেবে মঈন খানের সামনে এখন মূল প্রশ্ন—স্থানীয় সরকার ব্যবস্থায় তিনি কতটা কার্যকর পরিবর্তন আনতে পারেন। রাজনৈতিক অভিজ্ঞতার সঙ্গে প্রশাসনিক দক্ষতার সমন্বয় ঘটিয়ে স্থানীয় পর্যায়ে সেবা, উন্নয়ন ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে পারলে নতুন দায়িত্বে তার মেয়াদ গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।
স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব তাই শুধু একটি মন্ত্রণালয় পরিচালনার বিষয় নয়; বরং দেশের নগর ও গ্রামীণ জীবনের সঙ্গে সরাসরি সম্পৃক্ত কোটি মানুষের দৈনন্দিন সেবা ব্যবস্থাকে আরও কার্যকর করার বড় দায়িত্ব। সেই দায়িত্ব পালনে ড. আবদুল মঈন খানের অভিজ্ঞতা ও সিদ্ধান্ত গ্রহণের সক্ষমতাই এখন নজরে থাকবে। উৎস: বাংলানিউজ24