গঙ্গার পানিবন্টন চুক্তিসহ বাংলাদেশ ও ভারতের নদীসম্পর্কিত বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা কারিগরী পর্যায়ে অব্যাহত রয়েছে। ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল শুক্রবার (২১ আগস্ট) নয়াদিল্লিতে নিয়মিত প্রেস ব্রিফিংয়ে এ কথা বলেন।
মুখপাত্র বলেন, বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে ১৯৯৬ সালে স্বাক্ষরিত গঙ্গার পানিবন্টন চুক্তির মেয়াদ ৩০ বছর। দুই দেশের নদী-সম্পর্কিত সব বিষয় যৌথ নদী কমিশনের আওতায় আলোচনা হয়। এ কমিশনের আওতায় গঙ্গা পানি চুক্তির বিষয়ে যৌথ কমিটির বৈঠক কারিগরী পর্যায়ে নিয়মিত অনুষ্ঠিত হচ্ছে।
অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুলসহ বাংলাদেশের অধিকাংশ বিশ্লেষক মনে করেন, ভবিষ্যতে গঙ্গা-পদ্মার পানি বন্টন চুক্তিতে পরিবেশগত সুরক্ষা এবং বাংলাদেশের পানি প্রাপ্তির ওপর নিশ্চয়তার ধারা (গ্যারান্টি ক্লজ) যুক্ত করতে হবে। বর্তমান চুক্তির মেয়াদ আগামী ১২ ডিসেম্বর শেষ হবে।
আসিফ নজরুল সম্প্রতি ঢাকায় এক আলোচনায় ১৯৭৭ সালের চুক্তিতে ‘গ্যারান্টি ক্লজ’ থাকার বিষয়টি উল্লেখ করে ১৯৯৬ সালের চুক্তিতে ন্যূনতম পানিপ্রাপ্তির নিশ্চয়তা না থাকাকে একটি মৌলিক কাঠামোগত দুর্বলতা হিসেবে চিহ্নিত করেন।
তিনি পরিসংখ্যান তুলে ধরে দেখান যে, ১৯৯৬ সালের বর্তমান চুক্তিতে বাংলাদেশের হিস্যা প্রায় ৬ দশমিক ৫২ শতাংশ কমেছে। এ চুক্তিতে তথ্য অধিকার, পরিবেশগত সুরক্ষা ও বিরোধ নিষ্পত্তির কোনো সুনির্দিষ্ট ব্যবস্থা নেই।
তিনি আরও উল্লেখ করেন, ২০০৮ থেকে ২০১৬ সালের মধ্যে ২৭টি সংকটকালীন সময়ে ১৫ বারই বাংলাদেশ ন্যূনতম পানিপ্রবাহ পায়নি।