স্কাইলার জানান, বিশ্বকাপ শুরু হওয়ার পর থেকে তার আয় উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। তার ভাষ্য অনুযায়ী, শুধু এই টুর্নামেন্টের কারণেই মাসিক আয়ে প্রায় এক লাখ মার্কিন ডলার (প্রায় ৭৪ হাজার ৫৪২ পাউন্ড) অতিরিক্ত যোগ হয়েছে।
তিনি বলেন, এটি এ বছরের সবচেয়ে ব্যস্ত সময়, আর বিশ্বকাপ এখনো শেষও হয়নি। তার দাবি, ফুটবলপ্রেমী ভক্তরা তাকে বিভিন্ন দেশের জাতীয় দলের জার্সি পরে ভিডিও তৈরি করতে, প্রতিপক্ষ দলকে নিয়ে মজা করতে কিংবা নির্দিষ্ট খেলোয়াড়দের নিয়ে বিশেষ ধরনের কনটেন্ট বানানোর অনুরোধ করছেন।
বিশ্বকাপ ফুটবল শুধু মাঠের উত্তেজনাই বাড়ায় না, অনেক ভক্তের ব্যক্তিগত আচরণেও প্রভাব ফেলে। এমনই বিস্ফোরক দাবি করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের অ্যারিজোনা অঙ্গরাজ্যের ২৩ বছর বয়সী কনটেন্ট নির্মাতা স্কাইলার মে। ইনস্টাগ্রামে চার মিলিয়নেরও বেশি অনুসারী থাকা এই সোশ্যাল মিডিয়া তারকার দাবি, বিশ্বকাপ চলাকালে পুরুষ ভক্তদের কাছ থেকে তিনি আগের তুলনায় অনেক বেশি অনুরোধ ও বার্তা পাচ্ছেন।
কেউ কেউ আবার বিশ্বাস করেন, ম্যাচ শুরুর ঠিক আগে তার তৈরি করা ব্যক্তিগত ভিডিও দেখলে তাদের প্রিয় দল সৌভাগ্য পাবে। এনিয়ে স্কাইলার বলেন, অনেকে আমাকে ফুটবল দলের জার্সি, মোজা ও শর্টস পরে দলের স্লোগান শিখতে বলেন। তাদের বিশ্বাস, এতে তাদের দল জিতবে। আবার কেউ চান আমি ম্যাচের আগে স্ট্রেচিং করছি বা বড় ম্যাচের প্রস্তুতি নিচ্ছি- এমন অভিনয় করি।
তিনি আরও বলেন, সবচেয়ে মজার অনুরোধ আসে কট্টর সমর্থকদের কাছ থেকে। তারা বিস্তারিতভাবে লিখে জানান কোন খেলোয়াড়ের নাম উল্লেখ করতে হবে, কাকে এড়িয়ে যেতে হবে এবং কেন তা গুরুত্বপূর্ণ।
আমার মনে হয়, ফুটবল সম্পর্কে আমি যতটা শিখেছি, তার অনেকটাই আমার সাবস্ক্রাইবারদের কাছ থেকে, বলেন তিনি।
স্কাইলারের মতে, অনেক মানুষের কাছে ফুটবল ছোটবেলা থেকেই ব্যক্তিত্বের অংশ হয়ে যায়। তাই বিশ্বকাপ এলে সেটি তাদের জীবনের প্রায় সব ক্ষেত্রেই প্রভাব ফেলে। তার ভাষায়, প্রত্যেক সমর্থকের এমন একজন খেলোয়াড় থাকে, যাকে তারা একেবারেই পছন্দ করেন না, আর সেটি আমাকে জানাতে তারা ভোলেন না।
তিনি জানান, তার ভক্তদের বড় একটি অংশ যুক্তরাষ্ট্রের হলেও ইংল্যান্ডসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকেও নিয়মিত অনুরোধ আসে। ইংল্যান্ডের সমর্থকদের নিয়ে তিনি বলেন, তারা অনেক বেশি কুসংস্কারাচ্ছন্ন।
স্কাইলারের ভাষ্য, অনেকে বলেন, প্রতিটি ম্যাচের আগে যেন আমি একই মোজা বা একই অন্তর্বাস পরি, কারণ সেটিকে তারা সৌভাগ্যের প্রতীক মনে করেন। একজন ভক্ত তো বলেছিলেন, ইংল্যান্ড-ঘানা ম্যাচের আগে আমাকে ম্যাশড পটেটো খেতে হবে, কারণ আগের জয়ের সময় তিনিও সেটাই খেয়েছিলেন।
আরেকজন ইংলিশ সমর্থক বলেছিলেন, ইংল্যান্ড টুর্নামেন্ট থেকে বিদায় না নেয়া পর্যন্ত তিনি দাড়ি কাটবেন না। তাই তিনি চেয়েছিলেন, আমি একটি ভিডিও বানিয়ে তাকে বলি- ‘দাড়ি রেখেই যাও।’
তার মতে, ইংল্যান্ডের সমর্থকদের সম্পর্কে আগে ধারণা ছিল তারা শুধু উচ্চস্বরে সমর্থন করেন। কিন্তু বাস্তবে তিনি দেখেছেন, তারা অত্যন্ত কুসংস্কারাচ্ছন্ন এবং বিশ্বাস করেন ছোট ছোট বিষয়ও দলের ভাগ্যে প্রভাব ফেলতে পারে।
অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থকদের তিনি তুলনামূলক ইতিবাচক বলে উল্লেখ করেছেন। তার দাবি, তারা প্রতিপক্ষ দলকে নিয়ে কম নেতিবাচক মন্তব্য করেন এবং নিজেদের দলকে নিয়েই বেশি উৎসাহ দেখান।
স্কাইলারের ধারণা, এবারের বিশ্বকাপ যুক্তরাষ্ট্রে অনুষ্ঠিত হওয়ায় দেশটির মানুষের আগ্রহও অনেক বেড়েছে।
সবশেষে তিনি দাবি করেন, বিশ্বকাপের আবেগ অনেক মানুষের ব্যক্তিগত অনুভূতিতেও প্রভাব ফেলে। তার ভাষায়, ফুটবলপ্রেমীদের আবেগ অনেক সময় অন্য ধরনের আবেগেও রূপ নেয়। তারা উত্তেজিত থাকে, উদ্যাপন করে, আবেগপ্রবণ হয়ে ওঠেÑ এসবই আমি লক্ষ্য করি। যখন কেউ সপ্তাহের পর সপ্তাহ শুধু বিশ্বকাপ নিয়েই ভাবেন, তখন সেটি তাদের ব্যক্তিগত কল্পনা ও অনুভূতিরও একটি অংশ হয়ে উঠতে পারে।