মুনাফিকের আলোচনায় শুরু হবে ৪র্থ তারাবি। যুদ্ধে মুনাফিকদের অংশগ্রহণ ও ফিরে যাওয়া। ইসলামের জন্য হিজরত প্রসঙ্গ হাফেজে কোরআনগণ ধারাবাহিকভাবে তেলাওয়াত করবেন। এভাবে পর্যায়ক্রমে আসবে তওবা ও ক্ষমার বর্ণনা। আল্লাহ তাআলা মুমিনের তওবায় গুনাহ ক্ষমা করে দেবেন। পাপ যেমনই হোক তওবাই মুমিনের ক্ষমা পাওয়ার উপায়। আল্লাহ তাআলা মুমিনের ক্ষমা প্রসঙ্গে ঘোষণা করবেন-
فَاُولٰٓئِکَ عَسَی اللّٰهُ اَنۡ یَّعۡفُوَ عَنۡهُمۡ ؕ وَ کَانَ اللّٰهُ عَفُوًّا غَفُوۡرًا
'এরপর আশা করা যায় যে, আল্লাহ তাদেরকে ক্ষমা করবেন। আর আল্লাহ মার্জনাকারী, ক্ষমাশীল।' (সুরা নিসা: আয়াত ৯৯)
আজ (২১ ফেব্রুয়ারি) শনিবার। তৃতীয় রমজান অতিবাহিত হলো। সন্ধ্যায় পড়া হবে রমজানের চতুর্থ তারাবি। ৫ম পারায় সুরা নিসার ৮৮ আয়াত থেকে তেলাওয়াত শুরু হবে। সুরা মায়েদার ৮২নং আয়াত পর্যন্ত তেলাওয়াত করা হবে। সে সঙ্গে ৬ পারার তেলাওয়াত শেষ হবে।
৪র্থ তারাবিহর তেলাওয়াতের প্রথম আয়াতেই মুনাফিকের আলোচনায় শুরু হবে। এ আয়াতে আল্লাহ তাআলা বলেন-
فَمَا لَکُمۡ فِی الۡمُنٰفِقِیۡنَ فِئَتَیۡنِ وَ اللّٰهُ اَرۡکَسَهُمۡ بِمَا کَسَبُوۡا ؕ اَتُرِیۡدُوۡنَ اَنۡ تَهۡدُوۡا مَنۡ اَضَلَّ اللّٰهُ ؕ وَ مَنۡ یُّضۡلِلِ اللّٰهُ فَلَنۡ تَجِدَ لَهٗ سَبِیۡلًا
‘এরপর তোমাদের কি হল যে, তোমরা মুনাফিকদের ব্যাপারে দুই দল হয়ে গেলে? যখন আল্লাহ তাদেরকে তাদের কৃতকর্মের জন্য পূর্বাবস্থায় ফিরিয়ে দিয়েছেন। আল্লাহ যাকে পথভ্রষ্ট করেন তোমরা কি তাকে সৎপথে পরিচালিত করতে চাও? আর আল্লাহ কাউকে পথভ্রষ্ট করলে আপনি তার জন্য কখনো কোনো পথ পাবেন না।’
এ প্রসঙ্গে হজরত যায়েদ ইবন সাবেত রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণনা করেছেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যখন ওহুদের যুদ্ধে বের হলেন তখন তার সাথীদের মধ্য থেকে কিছু লোক ফিরে চলে আসলেন। তাদের ব্যাপারে সাহাবাগণ দ্বিমত পোষণ করলেন। কেউ বললেন (তাদের) হত্যা করবো, কেউ বললেন হত্যা করবো না। তখন এ আয়াত নাজিল হয় এবং রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, এই মদিনা নগরী কিছু মানুষকে দেশান্তর করে যেমনিভাবে আগুন দূর করে লোহার ময়লাকে।' (বুখারি, মুসলিম)
এরপর আল্লাহ তাআলা মুমিন মুসলমানকে মুনাফিকদের সঙ্গে বন্ধুত্ব করতে নিষেধ করেছেন। এ মুনাফিকরাই কামনা করতো যে- মুমিন-মুসলিমরা যেন কাফেরদের মতো কাফের হয়ে যায়। কত নিকৃষ্ট চিন্তাভাবনা ছিল তাদের। এ কারণেই আল্লাহ তাদেরকে পথভ্রষ্ট করেছেন। আল্লাহ তাআলা বলেন-
وَدُّوۡا لَوۡ تَکۡفُرُوۡنَ کَمَا کَفَرُوۡا فَتَکُوۡنُوۡنَ سَوَآءً فَلَا تَتَّخِذُوۡا مِنۡهُمۡ اَوۡلِیَآءَ حَتّٰی یُهَاجِرُوۡا فِیۡ سَبِیۡلِ اللّٰهِ ؕ فَاِنۡ تَوَلَّوۡا فَخُذُوۡهُمۡ وَ اقۡتُلُوۡهُمۡ حَیۡثُ وَجَدۡتُّمُوۡهُمۡ ۪ وَ لَا تَتَّخِذُوۡا مِنۡهُمۡ وَلِیًّا وَّ لَا نَصِیۡرًا
‘তারা চায় যে, তারা যেমন কাফের, তোমরাও তেমনি কাফের হয়ে যাও, যাতে তোমরা এবং তারা সব সমান হয়ে যাও। অতএব, তাদের মধ্যে কাউকে বন্ধুরূপে গ্রহণ করো না, যে পর্যন্ত না তারা আল্লাহর পথে হিজরত করে চলে আসে। অতপর যদি তারা বিমুখ হয়, তবে তাদেরকে পাকড়াও কর এবং যেখানে পাও হত্যা কর। তাদের মধ্যে ক