শিরোনাম
◈ মৃত্যুর পরও মেলেনি পরিচয়, রাজধানীতে বাড়ছে বেওয়ারিশ মরদেহের সংখ্যা ◈ বাংলাদেশের চা শিল্পে সংকট: উৎপাদন কমছে, ব্যয় বাড়ছে, নিলামে মিলছে না ন্যায্যমূল্য ◈ দিল্লিতে বিক্ষোভে যোগ দিতে গিয়ে আটক ইউটিউবার ধ্রুব রাঠি মুক্ত, ফের গেলে ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি পুলিশের ◈ আটক সিজেপি প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকসহ ৩ নেতা মুক্তি পেলেন আদালতে ◈ ৩৯ কো‌টি ৪০ লাখ ডলার নি‌য়ে যুক্তরাষ্ট্রের সহায়তা প্রাপ্তিতে বাংলা‌দেশ ২০তম ◈ সৌ‌দি আর‌বে কিং খা‌লিদ বিমানবন্দরে ভয়াবহ হামলায় ২ বাংলাদেশিসহ নিহত ১২, আহত তিন শতাধিক ◈ শেষ মুহূর্তে ম‌্যান‌চেস্টার ইউনাইটেডের স্বপ্নভঙ্গ, ১০ জনের টটেনহ্যামের অবিশ্বাস্য প্রত্যাবর্তন ◈ ‌গেতাফেকে ৩-০ গো‌লে হারা‌লো বার্সেলোনা ◈ সৌদির পক্ষে হুথিদের বিরুদ্ধে যুদ্ধে নামার ইঙ্গিত ট্রাম্পের ◈ স্থানীয় নির্বাচনে একক প্রার্থী দেওয়ার সিদ্ধান্ত বিএনপির

প্রকাশিত : ১১ অক্টোবর, ২০২৬, ১০:৪৮ দুপুর
আপডেট : ১১ অক্টোবর, ২০২৬, ১০:৪৮ দুপুর

প্রতিবেদক : মনিরুল ইসলাম

‘ভায়োলেন্স’ সিনেমা থেকে সরে দাঁড়ালেন অধরা খান, ক্যারিয়ারের বড় ভুল বললেন

মনিরুল ইসলাম: আন্তর্জাতিক প্রযোজনার বাংলা সিনেমা ‘ভায়োলেন্স’ থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দিয়েছেন চিত্রনায়িকা অধরা খান। পরিচালকের অপেশাদার আচরণ ও যথাযথ যোগাযোগের অভাবকে এর কারণ হিসেবে উল্লেখ করেছেন তিনি। সিনেমাটিতে কাজ করতে গিয়ে বড় ধরনের আর্থিক ও পেশাগত ক্ষতির মুখে পড়েছেন বলেও দাবি করেছেন এই অভিনেত্রী। এমনকি সিনেমাটির জন্য অপেক্ষা করতে গিয়ে হলিউডসহ বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক কাজের সুযোগও হাতছাড়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন তিনি।

আজ  রোববার টরেন্টো থেকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক দীর্ঘ বক্তব্যে নিজের অবস্থান পরিষ্কার করেন অধরা। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, অনেক আগেই তিনি ‘ভায়োলেন্স’ সিনেমা থেকে নিজেকে সরিয়ে নিয়েছেন। তবে সংশ্লিষ্ট পক্ষের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা না আসায় ভক্ত, শুভাকাঙ্ক্ষী ও সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তর দিতেই বিষয়টি প্রকাশ্যে এনেছেন তিনি।

কেন ‘ভায়োলেন্স’ ছাড়লেন অধরা?

নিজের বক্তব্যে অধরা খান জানান, পরিচালকের অপেশাদার আচরণ এবং যথাযথ যোগাযোগের অভাবের কারণে সিনেমাটি নিয়ে তাঁর হতাশা তৈরি হয়। বিষয়টি সংশ্লিষ্ট পক্ষকে জানানো হলেও সেখান থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো ঘোষণা আসেনি বলে দাবি করেন তিনি।

Advertisement

অধরা বলেন, এতদিন নীরব ছিলেন, কারণ তাঁর বক্তব্যের কারণে সিনেমাটির চলমান শুটিং কিংবা এর সঙ্গে যুক্ত সহশিল্পী ও কলাকুশলীদের কাজে নেতিবাচক প্রভাব পড়ুক, তা চাননি।

তবে এই নীরবতার মূল্যও তাঁকে দিতে হয়েছে বলে জানান অভিনেত্রী। তাঁর দাবি, ‘ভায়োলেন্স’-এর জন্য অপেক্ষা করতে গিয়ে হলিউডসহ বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক কাজের সুযোগ গ্রহণ করতে পারেননি তিনি। চুক্তিগত গোপনীয়তার বাধ্যবাধকতা থাকায় সেসব কাজের বিস্তারিত প্রকাশ করাও সম্ভব নয় বলে উল্লেখ করেন অধরা।

এ ছাড়া সিনেমাটিকে কেন্দ্র করে অন্যান্য কাজের সময়সূচি ও পেশাগত প্রতিশ্রুতি ঠিকভাবে বজায় রাখতে না পারায় তাঁর কাস্টিং ডিরেক্টর ও এজেন্সির কাছ থেকেও সতর্কবার্তা পেতে হয়েছে বলে জানান তিনি।

অধরার বক্তব্যে সবচেয়ে হতাশাজনক অভিজ্ঞতা হিসেবে উঠে এসেছে শুটিংয়ের সময়সূচি নিয়ে যোগাযোগের বিষয়টি। তাঁর দাবি, সিনেমাটিতে তাঁর শুটিংয়ের মাত্র এক দিন আগে তাঁর সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হয়েছিল।

নিজের ক্যারিয়ারের বড় ভুল মনে করছেন অধরা

বাংলা সিনেমার প্রতি ভালোবাসা থেকেই ‘ভায়োলেন্স’-এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছিলেন বলে জানিয়েছেন অধরা খান। কিন্তু প্রকল্পটিতে কাজ করার অভিজ্ঞতা তাঁর জন্য বড় শিক্ষা হয়ে থাকবে বলে মনে করেন তিনি।

অভিনেত্রীর ভাষ্য, যথাযথ পেশাদারিত্ব, যোগাযোগ ও পারস্পরিক সম্মানের বিষয়গুলো আরও গভীরভাবে বিবেচনা না করে এই প্রকল্পে যুক্ত হওয়াকে তিনি নিজের ক্যারিয়ারের বড় একটি ভুল হিসেবে দেখছেন।

তবে কাউকে ছোট করা কিংবা সিনেমাটির ক্ষতি করা তাঁর উদ্দেশ্য নয় বলেও স্পষ্ট করেছেন অধরা। ভক্ত, শুভাকাঙ্ক্ষী ও সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তর দিয়ে নিজের অভিজ্ঞতা ও অবস্থান ব্যাখ্যা করতেই তিনি বক্তব্যটি দিয়েছেন।

তিনি মনে করেন, পারস্পরিক সম্মান ও পেশাদারিত্ব কখনো একতরফা হওয়া উচিত নয়। একজন শিল্পী হিসেবে নিজের সময়, শ্রম ও আত্মসম্মানের মূল্য দেওয়াও তাঁর দায়িত্ব।

২০১৮ সালে চলচ্চিত্রে অভিষেক অধরার

ঢাকাই চলচ্চিত্রের পরিচিত মুখ অধরা খান। ২০১৮ সালে ইস্পাহানি আরিফ জাহান পরিচালিত ‘নায়ক’ সিনেমার মাধ্যমে বড় পর্দায় অভিষেক হয় তাঁর। এতে বাপ্পী চৌধুরীর বিপরীতে অভিনয় করেন তিনি। একই বছর মুক্তি পায় তাঁর অভিনীত ‘মাতাল’ সিনেমা।

তবে অধরার প্রথম অভিনীত সিনেমা ছিল ‘পাগলের মতো ভালোবাসি’। সিনেমাটি নির্মিত হয়েছিল আগেই, কিন্তু মুক্তি পায় ২০২১ সালের ১৯ ফেব্রুয়ারি। এ কারণে অভিনীত প্রথম সিনেমা ও মুক্তিপ্রাপ্ত প্রথম সিনেমার মধ্যে পার্থক্য রয়েছে।

এরপর ২০২৩ সালে মুক্তি পাওয়া ‘সুলতানপুর’ সিনেমায় অভিনয় করেন অধরা। সিনেমাটিতে তাঁর অভিনীত চরিত্রের নাম সামিয়া রহমান। চলচ্চিত্রে নিজের অবস্থান শক্ত করার পাশাপাশি আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও কাজ করার আগ্রহের কথা বিভিন্ন সময়ে জানিয়েছেন এই অভিনেত্রী।

আন্তর্জাতিক সিনেমা ‘ভায়োলেন্স’ নিয়ে ছিল প্রত্যাশা

২০২৬ সালের আগস্টের শেষ দিকে প্রকাশিত সংবাদে জানানো হয়েছিল, কামাল হোসেন বাবরের পরিচালনায় ‘ভায়োলেন্স’ সিনেমায় অভিনয় করতে যাচ্ছেন অধরা খান। আন্তর্জাতিক প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান বাবরস ক্রিয়েশন ও সংশ্লিষ্ট প্রযোজকদের উদ্যোগে নির্মিতব্য সিনেমাটির পুরো শুটিং কানাডায় হওয়ার কথা ছিল।

প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, সিনেমাটিতে কানাডায় জন্ম ও বেড়ে ওঠা এক বিশ্ববিদ্যালয়পড়ুয়া শিক্ষার্থীর চরিত্রে অভিনয়ের কথা ছিল অধরার। প্রেম, সম্পর্ক, দ্বন্দ্ব ও রাজনীতির বিভিন্ন দিক উঠে আসার কথা সিনেমাটির গল্পে। এতে জায়েদ খান ও শিরিন শিলার অভিনয়ের কথাও জানানো হয়েছিল।

সিনেমাটি বাংলাদেশ, কানাডা, যুক্তরাষ্ট্রসহ বিভিন্ন দেশে মুক্তির পরিকল্পনার কথা সংবাদমাধ্যমে উঠে এসেছিল। ফলে প্রকল্পটি অধরার ক্যারিয়ারে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নতুন সম্ভাবনা তৈরি করবে বলে প্রত্যাশা করা হচ্ছিল।

কিন্তু এখন অধরার বক্তব্যে সিনেমাটি ঘিরে ভিন্ন চিত্র সামনে এসেছে। তাঁর অভিযোগ, পেশাগত যোগাযোগ ও সময়সূচি ব্যবস্থাপনার ঘাটতির কারণে তাঁকে আর্থিক ও ক্যারিয়ারসংক্রান্ত ক্ষতির মুখে পড়তে হয়েছে।

এখনো অপেক্ষায় অধরার একাধিক সিনেমা

অধরা খানের অভিনীত ‘দখিন দুয়ার’ ও ‘ঋতুকামিনী’ সিনেমা মুক্তির অপেক্ষায় রয়েছে বলে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে। পাশাপাশি আন্তর্জাতিক প্রকল্পে কাজ করার আগ্রহও রয়েছে তাঁর।

‘ভায়োলেন্স’ থেকে সরে দাঁড়ানোর বিষয়ে অধরার বক্তব্য প্রকাশ্যে এলেও এ বিষয়ে পরিচালকের বা প্রযোজনা-সংশ্লিষ্ট পক্ষের আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। ফলে তাঁর অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট পক্ষের বক্তব্য জানা গেলে পুরো বিষয়টি আরও স্পষ্ট হবে।

সব মিলিয়ে, ‘ভায়োলেন্স’ নিয়ে অধরা খানের এই অবস্থান চলচ্চিত্র অঙ্গনে পেশাদার যোগাযোগ, শিল্পীর সময়ের মূল্য এবং পারস্পরিক সম্মানের প্রশ্ন সামনে এনেছে। এখন দেখার বিষয়, সিনেমাটির নির্মাতাদের পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক ব্যাখ্যা আসে কি না এবং প্রকল্পটির পরবর্তী অগ্রগতি কী হয়।

  • সর্বশেষ