বাংলাদেশে চুরি বা ছিনতাই হওয়া মোবাইল ফোন পাচার হয়ে যাচ্ছে বিদেশে। পরে সেসব ফোনই চীন থেকে বৈধভাবে কেনা ব্যবহৃত ফোনের পরিচয়ে আবারও দেশের বাজারে বিক্রি করা হচ্ছে—এমন অভিযোগ উঠেছে। রাজধানীর একটি মার্কেটে পুলিশ ও ভুক্তভোগীর অভিযানে এমনই একটি ঘটনার সন্ধান মিলেছে।
ঘটনার সূত্রপাত গত মে মাসে। এক ব্যক্তির ব্যবহৃত মোবাইল ফোন চুরি হয়ে যায়। ফোনটির বক্স, ক্রয়ের রসিদসহ প্রয়োজনীয় কাগজপত্র তার কাছে সংরক্ষিত ছিল। এ ঘটনায় থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন তিনি।
পরবর্তীতে জিডির ভিত্তিতে প্রযুক্তিগত সহায়তায় ফোনটির অবস্থান শনাক্তের চেষ্টা করা হয়। প্রথমে ফোনটির অবস্থান মিটফোর্ড/মিটামুইন এলাকায় পাওয়া যায়। পরে সেটির অবস্থান রাজধানীর বিটিআই প্রিমিয়ার মার্কেটের একটি মোবাইল ফোনের দোকানে শনাক্ত করা হয়।
পুলিশ ও ভুক্তভোগী সেখানে গিয়ে ফোনটির বিষয়ে দোকানদার অসীমের কাছে জানতে চান। দোকানদারের দাবি, ফোনটি চুরি হওয়ার ৪১ দিন পর তিনি চীন থেকে ২ হাজার ৪০০ আরএমবি দিয়ে কিনে বাংলাদেশে আনেন। তার দাবি, এটি চীন থেকে বৈধভাবে কেনা একটি ব্যবহৃত ফোন।
তবে পুলিশের প্রশ্ন, বাংলাদেশে ব্যবহৃত এবং চুরি হওয়া একটি ফোন কীভাবে চীনে গিয়ে আবার বাংলাদেশে বিক্রির জন্য ফিরে আসে। এ সময় দোকানদার চীন থেকে ফোনটি কেনার একটি হাতে লেখা মেমো দেখান। পুলিশ ও ভুক্তভোগীর দাবি, ওই মেমোর তথ্যের সঙ্গে ফোনটির প্রকৃত ইতিহাসের মিল নেই এবং নথিপত্রেও অসংগতি রয়েছে।
এ ঘটনায় চীন থেকে অনানুষ্ঠানিকভাবে বা যথাযথ মেমো ছাড়া ব্যবহৃত ফোন কিনে আনা ব্যবসায়ীদের নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। সংশ্লিষ্টদের অভিযোগ, দেশীয় চোরাই ফোনের একটি চক্রের কারণে অনেক ব্যবসায়ীও প্রতারণার শিকার হচ্ছেন। তারা বিদেশ থেকে ফোন কিনে দেশে আনার পর জানতে পারছেন, সেটি বাংলাদেশ থেকেই চুরি বা ছিনতাই হয়েছিল। ফলে আর্থিক ক্ষতির পাশাপাশি আইনি জটিলতায়ও পড়তে হচ্ছে তাদের।
পুলিশ জানিয়েছে, ফোনটির প্রকৃত মালিকের কাছে চুরির বিষয়ে করা জিডি, ফোনের বক্স এবং ক্রয়ের মেমোসহ প্রয়োজনীয় নথিপত্র রয়েছে। অন্যদিকে দোকানদারের দেওয়া চীনের মেমো ও অন্যান্য কাগজপত্র যাচাই করে অসংগতির বিষয়টি সামনে এসেছে বলে পুলিশ দাবি করেছে।
পরে ফোনটি জব্দ করা হয়। এ ঘটনায় আদালতের মাধ্যমে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
ভিডিও সূত্র: দৈনিক ইত্তেফাক