কেপ ভার্দের বিপক্ষে ড্রয়ের পর কিছুটা চাপ নিয়েই সৌদি আরবের মুখোমুখি হয়েছিল স্পেন। তবে আটলান্টায় অনুষ্ঠিত ম্যাচে শুরু থেকেই নিজেদের শ্রেষ্ঠত্ব দেখিয়েছে ইউরোপীয় চ্যাম্পিয়নরা। প্রথমার্ধ শেষে ৩-০ গোলের বড় ব্যবধানে এগিয়ে রয়েছে স্প্যানিশরা। আর এই ম্যাচেই বিশ্বকাপের ইতিহাসে নতুন এক কীর্তি গড়েছেন বার্সেলোনার তরুণ তারকা লামিনে ইয়ামাল।
বাংলাদেশ সময় রাত ১০টায় শুরু হওয়া ম্যাচে স্প্যানিশ কোচ শুরুর একাদশে চারটি পরিবর্তন আনেন। আগের ম্যাচে বদলি হিসেবে নামা ইয়ামালকে প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপে শুরুর একাদশে জায়গা দেওয়া হয়। আর সেই সুযোগ কাজে লাগিয়ে মাত্র ১০ মিনিটেই গোল করে দলকে এগিয়ে দেন ১৮ বছর বয়সী এই ফরোয়ার্ড।
২০০৭ সালের ১৩ জুলাই জন্ম নেওয়া ইয়ামাল গোল করার সময় তার বয়স ছিল ১৮ বছর ৩৪৩ দিন। ফলে তিনি বিশ্বকাপ ইতিহাসের অষ্টম কনিষ্ঠ গোলদাতা হিসেবে নিজের নাম লেখান। একই সঙ্গে তিনি পেছনে ফেলেছেন আর্জেন্টাইন মহাতারকা লিওনেল মেসিকে। ২০০৬ বিশ্বকাপে সার্বিয়া ও মন্টিনিগ্রোর বিপক্ষে নিজের প্রথম বিশ্বকাপ গোল করার সময় মেসির বয়স ছিল ১৮ বছর ৩৫৭ দিন। অর্থাৎ মাত্র ১৪ দিনের ব্যবধানে মেসির চেয়ে কম বয়সে বিশ্বকাপে গোল করার কীর্তি গড়লেন ইয়ামাল।
বিশ্বকাপ ইতিহাসের শীর্ষ ১০ কনিষ্ঠ গোলদাতার তালিকায় বর্তমানে অবস্থান করছেন—
১. পেলে (ব্রাজিল) — ১৭ বছর ২৩৯ দিন
২. ম্যানুয়েল রোসাস (মেক্সিকো) — ১৮ বছর ৯৩ দিন
৩. গাভি (স্পেন) — ১৮ বছর ১১০ দিন
৪. ইব্রাহিম এমবায়ে (সেনেগাল) — ১৮ বছর ১৪৩ দিন
৫. মাইকেল ওয়েন (ইংল্যান্ড) — ১৮ বছর ১৯০ দিন
৬. নিকোলাই কোভাকস (রোমানিয়া) — ১৮ বছর ১৯৭ দিন
৭. দমিত্রি সিচেভ (রাশিয়া) — ১৮ বছর ২৩১ দিন
৮. লামিনে ইয়ামাল (স্পেন) — ১৮ বছর ৩৪৩ দিন
৯. লিওনেল মেসি (আর্জেন্টিনা) — ১৮ বছর ৩৫৭ দিন
১০. জুলিয়ান গ্রিন (যুক্তরাষ্ট্র) — ১৯ বছর ২৫ দিন।
শুধু মেসিকেই নয়, ইয়ামাল আরেকটি বিরল কীর্তিতেও নাম লিখিয়েছেন। বিশ্বকাপের ইতিহাসে ১৮ বছর বা তার কম বয়সী খেলোয়াড় হিসেবে ম্যাচের প্রথম গোল করার রেকর্ড এতদিন ছিল কেবল ব্রাজিলিয়ান কিংবদন্তি পেলের। ১৯৫৮ বিশ্বকাপে ওয়েলসের বিপক্ষে ১৭ বছর বয়সে ম্যাচের প্রথম গোল করেছিলেন পেলে। দীর্ঘ ৬৮ বছর পর সেই ঐতিহাসিক রেকর্ডে ভাগ বসালেন স্পেনের এই তরুণ তারকা।
ইয়ামালের গোলের পর সৌদি আরবকে আরও চেপে ধরে স্পেন। একটি কর্নার কিক থেকে তৈরি হওয়া আক্রমণে দানি ওলমোর বাড়িয়ে দেওয়া বলে প্রথম গোল করেন মিকেল ওয়াইরসাবাল। এরপর মার্ক কুকুরেয়ার নিয়ন্ত্রণে নেওয়া বল থেকে ওলমোর পাস পেয়ে নিজের দ্বিতীয় ও দলের তৃতীয় গোল করেন এই স্প্যানিশ ফরোয়ার্ড।
ফলে প্রথমার্ধ শেষেই ৩-০ গোলের স্বস্তিদায়ক ব্যবধানে এগিয়ে যায় স্পেন। ম্যাচজুড়ে বলের দখল, আক্রমণ এবং সুযোগ সৃষ্টিতে সম্পূর্ণ আধিপত্য দেখিয়েছে সাবেক বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা।
অন্যদিকে গড়ে ২৮ বছর ২৭২ দিন বয়সী একাদশ নিয়ে মাঠে নেমেছে সৌদি আরব। বিশ্বকাপ ইতিহাসে এটি তাদের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ বয়সী শুরুর একাদশ। এর চেয়ে বেশি বয়সী দল নিয়ে তারা মাঠে নেমেছিল কেবল ২০১৮ বিশ্বকাপে স্বাগতিক রাশিয়ার বিপক্ষে।
তবে বিশ্বকাপের সর্বকনিষ্ঠ গোলদাতার রেকর্ড এখনও অক্ষত রয়েছে ফুটবল সম্রাট পেলের দখলে। ১৯৫৮ বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে ওয়েলসের বিপক্ষে গোল করার সময় তার বয়স ছিল মাত্র ১৭ বছর ২৩৯ দিন। সেই রেকর্ড ছুঁতে ইয়ামালকে এখনও অপেক্ষা করতে হবে।